সেঞ্চুরির পর দু প্লেসিস, খেলেছেন হার না মানা ১১৮ রানের ইনিংস।অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা ছিল গোলাপি বলের। দক্ষিণ আফ্রিকারও ছিল, তবে সেটা প্রস্তুতি ম্যাচে। অস্ট্রেলিয়া সফরে দাপট দেখানো প্রোটিয়ারা তাই আসল মঞ্চে নেমেছিল প্রথমবার। অনভিজ্ঞ গোলাপি বলে সুবিধাও করতে পারেননি সফরকারীরা দিন-রাতের টেস্টের প্রথম দিনে। তবু রক্ষা পেয়েছে অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসিসের সৌজন্যে। এই ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিতে (১১৮*) দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে ৯ উইকেটে ২৫৯ রানে। জবাবে কোনও উইকেট না হারিয়ে প্রথম দিন শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া ১৪ রানে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম দিন-রাতের টেস্ট শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে দিয়েই। গত বছরের নভেম্বরে গোলাপি বলে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া অ্যাডিলেড ওভালে। সেই মাঠেই দিন-রাতের টেস্টে অভিষেক হলো দক্ষিণ আফ্রিকার। ক্রিকেটের নতুন বলে খেলার শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না প্রোটিয়াদের। অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের তোপের মুখে, বিশেষকরে জশ হ্যাজেলউডের (৬৮ রানে ৪ উইকেট) পেস আগুনে ৯৫ রানেই তার হারায় টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে। মিশেল স্টার্কের বলে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম উইকেট হারায় ১২ রানে, যখন ওপেনার ডিন এলগার (৫) ধরা পড়েন উসমান খাজার হাতে। চাপটা কাটিয়ে উঠতে পারেনি সফরকারীরা, খানিক পর যে হাশিম আমলাও ধরেন প্যাভিলিয়নের পথ। হ্যাজেলউডের শিকার হয়ে ফেরেন তিনি ৫ রান করে। দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য গোলাপি বল আরও খারাপ বার্তা নিয়ে আসে জেপি দুমিনি (৫) হ্যাজেলউডের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হলে।
অস্ট্রেলিয়ার উইকেট উৎসবএর পরই শুরু দু প্লেসিসের প্রতিরোধ। এক প্রান্ত আগলে রাখলেও অন্য প্রান্তে চলেছে উইকেট হারানোর মিছিল। ওপেনার স্টিফেন কুক আশা জাগিয়ে ৪০ রান করে আউট হলে নিয়মিত বিরতিতে পড়েছে উইকেট। অধিনায়ক দু প্লেসিস অবশ্য দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নিজের সঙ্গে বাড়িয়ে নিয়েছেন দলের স্কোর। সতীর্থদের ব্যর্থতার দিনে গোলাপি বলে প্রথম সেঞ্চুরিও তুলে নেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি পূরণ করে তিনি অপরাজিত ছিলেন ১১৮ রানে। অন্য প্রান্তে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ভালোই সঙ্গ দিচ্ছিলেন অভিষিক্ত তাবরিজ শামসি (১৮*)। প্রথম দিনের খেলা, এর ওপর রানও খু্ব একটা বেশি নয়, উইকেটও ছিল হাতে একটি; তবু ইনিংস ঘোষণা করে দিলেন দু প্লেসিস। রাতের কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে শেষ ১২ ওভারে অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরার কৌশল হিসেবেই হয়তো প্রোটিয়া অধিনায়কের এমন সিদ্ধান্ত।
যদিও কৌশলটা কাজে লাগেনি। অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার উসমান খাজা (৩*) ও ম্যাট রিনশ (৮*) পার করে দেন বাকিটা সময়। ক্রিকইনফো
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
দক্ষিণ আফ্রিকা : প্রথম ইনিংস ৭৬ ওভারে ২৫৯/৯ (দু প্লেসিস ১১৮*, কুক ৪০, ডি কক ২৪; হ্যাজেলউড ৪/৬৮, বার্ড ২/৫৭)।
অস্ট্রেলিয়া : প্রথম ইনিংস ১২ ওভারে ১৪/০ (রিনশ ৮*, খাজা ৩*; ফিল্যান্ডার ০/১০)।
/কেআর/