লজ্জা এড়ানোর মিশনে শেষ টেস্টের জন্য অস্ট্রেলিয়া ঢেলে সাজিয়েছিল পুরো দল। ছয়টি নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি ছিল অ্যাডিলেইড টেস্টের দলে, যার মধ্যে তিনজনের অভিষেক হয়েছিল। আর তাদের মধ্যে দুইজনের ব্যাটের ছোঁয়ায় স্বাগতিকরা জয়ের বন্দরে পৌঁছায়।
ম্যাচটি ছিল দিবারাত্রির, যেই ফরম্যাটে একেবারে নতুন দক্ষিণ আফ্রিকা। তাই গোলাপি বলে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি তাদের ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫০ রানে তারা গুটিয়ে যায়। আর ইতিহাসের প্রথম দিবারাত্রির টেস্ট খেলে জেতার অভিজ্ঞতা থাকা অস্ট্রেলিয়ার সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ১২৭ রানের। চতুর্থ দিন মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে রাতের খাবারের আগেই আকাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নেয় অজিরা।
জয়ের পথে ছোটখাটো একটা ধাক্কা খেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া, যখন তাদের দরকার ছিল ৬৩ রান। ডেভিড ওয়ার্নার ৪৭ রানে রান আউট হওয়ার পর এক বলের ব্যবধানে উসমান খাজা শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। কিন্তু এরপর আর কোনও ধরনের শঙ্কা তৈরি না করে ঘরের মাঠে প্রথমবার ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ায় অজিরা।
তিন নতুন মুখের একজন- ওপেনার ম্যাট রেনশো ৩৪ রানে (১৩৭ বলে) অপরাজিত ছিলেন এবং অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ (৪০) দলের ২ রান দূরে থাকতে আউট হলে তার ব্যাটে স্কোরে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা। আরেক অভিষেক ব্যাটসম্যানের ব্যাটেই অজিদের লক্ষ্য পূরণ হয়, মিডউইকেটে মেরে দৌড়ে একটি রান নিয়ে দলকে জেতান পিটার হ্যান্ডসকম্ব। গত বছর অ্যাডিলেইডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দিবারাত্রি টেস্টের পর গোলাপি বলে এটি অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় জয়। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো টানা পাঁচটি টেস্ট হেরে প্রথম জয়ের দেখা পেল তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: প্রথম ইনিংস- ২৫৯/৯ ডিক্লে. ও দ্বিতীয় ইনিংস- ২৫০ (কুক ১০৪; স্টার্ক ৪/৮০)
অস্ট্রেলিয়া: প্রথম ইনিংস- ৩৮৩ ও দ্বিতীয় ইনিংস- ১২৭/৩; ৪০.৫ ওভার (রেনশো ৩৪*, ওয়ার্নার ৪৭, স্মিথ ৪০; অ্যাবট ১/২৬)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ২-১ ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ী
/এফএইচএম/