সান্ত্বনার জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল অস্ট্রেলিয়া

চরম ধৈর্যে্যর এক ইনিংস খেলেছেন ম্যাট রেনশোপার্থে ১৭৭ রান এবং হোবার্টে ইনিংস ও ৮০ রানের ব্যবধানে হেরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের শঙ্কা নিয়ে অ্যাডিলেইড ওভালে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে লড়াই শেষে হোয়াইটওয়াশের নির্মম অভিজ্ঞতার মধ্যে পড়তে হয়নি তাদের। ১৮৮৭ সালের পর প্রথমবার হোম সিরিজে সবগুলো ম্যাচ হারের লজ্জা এড়াতে পেরেছে অজিরা। তৃতীয় ও শেষ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। আর ২-১ ব্যবধানে জিতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এনিয়ে টানা তৃতীয়বার টেস্ট সিরিজ নিজেদের করে নিল প্রোটিয়ারা।

লজ্জা এড়ানোর মিশনে শেষ টেস্টের জন্য অস্ট্রেলিয়া ঢেলে সাজিয়েছিল পুরো দল। ছয়টি নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি ছিল অ্যাডিলেইড টেস্টের দলে, যার মধ্যে তিনজনের অভিষেক হয়েছিল। আর তাদের মধ্যে দুইজনের ব্যাটের ছোঁয়ায় স্বাগতিকরা জয়ের বন্দরে পৌঁছায়।

ম্যাচটি ছিল দিবারাত্রির, যেই ফরম্যাটে একেবারে নতুন দক্ষিণ আফ্রিকা। তাই গোলাপি বলে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি তাদের ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫০ রানে তারা গুটিয়ে যায়। আর ইতিহাসের প্রথম দিবারাত্রির টেস্ট খেলে জেতার অভিজ্ঞতা থাকা অস্ট্রেলিয়ার সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ১২৭ রানের। চতুর্থ দিন মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে রাতের খাবারের আগেই আকাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নেয় অজিরা।

জয়ের পথে ছোটখাটো একটা ধাক্কা খেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া, যখন তাদের দরকার ছিল ৬৩ রান। ডেভিড ওয়ার্নার ৪৭ রানে রান আউট হওয়ার পর এক বলের ব্যবধানে উসমান খাজা শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। কিন্তু এরপর আর কোনও ধরনের শঙ্কা তৈরি না করে ঘরের মাঠে প্রথমবার ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ায় অজিরা।

তিন নতুন মুখের একজন- ওপেনার ম্যাট রেনশো ৩৪ রানে (১৩৭ বলে) অপরাজিত ছিলেন এবং অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ (৪০) দলের ২ রান দূরে থাকতে আউট হলে তার ব্যাটে স্কোরে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা। আরেক অভিষেক ব্যাটসম্যানের ব্যাটেই অজিদের লক্ষ্য পূরণ হয়, মিডউইকেটে মেরে দৌড়ে একটি রান নিয়ে দলকে জেতান পিটার হ্যান্ডসকম্ব। গত বছর অ্যাডিলেইডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দিবারাত্রি টেস্টের পর গোলাপি বলে এটি অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় জয়। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো টানা পাঁচটি টেস্ট হেরে প্রথম জয়ের দেখা পেল তারা।

চার উইকেট নিয়ে প্রোটিয়াদের গুটিয়ে দেন স্টার্কবাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক ৮০ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়ে প্রোটিয়াদের গুটিয়ে দিতে অবদান রাখেন। ৫৬ রানের ব্যবধানে সফরকারীদের শেষ চার ব্যাটসম্যানকে ব্যাটিং ক্রিজ ছাড়া করে অজিরা। ৬ উইকেটের বিনিময়ে ১৯৪ রানে চতুর্থ দিন দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু দিনের তৃতীয় ওভারে কুইন্টন ডি কক আউট হলে নতুন বলের তোপ সামলাতে ব্যর্থ হন ভারনন ফিল্যান্ডার, কাগিসো রাবাদা ও স্টিফেন কুক। আগের দিনের ৮১ রান নিয়ে খেলতে নেমে ১০৪ রানে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন কুক। স্টার্কের সঙ্গে নাথান লিয়ন ৩টি ও জোশ হ্যাজলউড ২টি উইকেট নিয়ে প্রোটিয়াদের দ্বিতীয় ইনিংস থামাতে অবদান রাখেন। প্রথম ইনিংসে ১৪৫ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার খাজা এবং তিন ম্যাচের সিরিজে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলার ফিল্যান্ডার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

দক্ষিণ আফ্রিকা: প্রথম ইনিংস- ২৫৯/৯ ডিক্লে. ও দ্বিতীয় ইনিংস- ২৫০ (কুক ১০৪; স্টার্ক ৪/৮০)

অস্ট্রেলিয়া: প্রথম ইনিংস- ৩৮৩ ও দ্বিতীয় ইনিংস- ১২৭/৩; ৪০.৫ ওভার (রেনশো ৩৪*, ওয়ার্নার ৪৭, স্মিথ ৪০; অ্যাবট ১/২৬)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ২-১ ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ী

/এফএইচএম/