২৬ ডিসেম্বর ক্রাইস্টচার্চে ওয়ানডে দিয়ে শুরু হবে এক মাসের এই সিরিজ। পরের দুটি ওয়ানডে যথাক্রমে ২৯ ও ৩১ ডিসেম্বর নেলসনে। ওয়ানডের পর আগামী বছরের ৩ জানুয়ারি নেপিয়ারে প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ৬ জানুয়ারি মাউনগানুইতে। একই মাঠে ৮ জানুয়ারি হবে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি। এরপর ১২ জানুয়ারি ওয়েলিংটনে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। ২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি ক্রাইস্টচার্চে হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। এই পাঁচ ভেন্যুর মধ্যে বাংলাদেশ এখনও কোনও ম্যাচ খেলেনি মাউনগানুই ও ক্রাইস্টচার্চে। এই দুটি ভেন্যুতে টাইগাররা মোট চারটি ম্যাচ খেলবে। ক্রাইস্টাচার্চে প্রথম ওয়ানডে খেলার পর খেলবে একটি টেস্টও। অন্যদিকে মাউনগানুই শেষ দুটি টি-টোয়েন্টি মুখোমুখি হবে দুই দল।
এক মাসের সফরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৮টি ম্যাচ খেলবে। এই ম্যাচগুলো হবে নিউজিল্যান্ডের পাঁচটি ভেন্যুতে। এই ৫টি ভেন্যু নিয়েই বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের জন্য আয়োজন :-
হ্যাগলি ওভাল, ক্রাইস্টচার্চ
উদ্বোধন: ১৮৮৬ সাল
দর্শকধারণ ক্ষমতা: ১৮,০০০
যে নামে পরিচিত: হ্যাগলি ওভাল
২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারির ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল স্টেডিয়ামটি। যদিও ১৮৮৬ সালে নির্মিত এই স্টেডিয়ামটির নাম ছিল ল্যাঙ্কেস্টার পার্ক। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাম লেখায় ভেন্যুটি। এখানে প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে। বাংলদেশ এখন পর্যন্ত এই ভেন্যুতে কোনও ম্যাচ খেলেনি।
বাংলাদেশ এই ভেন্যুতে দুটি ম্যাচ খেলবে। ২৬ ডিসেম্বর প্রথম ওয়ানডের পর একটি টেস্টও খেলবে এই ভেন্যুতে। ২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি সিরিজের শেষ টেস্টটিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
উদ্বোধন: ২০০৯ সাল
দর্শকধারণ ক্ষমতা: ৬,০০০
যে নামে পরিচিত: স্যাক্সটন ওভাল
সবচেয়ে কম দর্শকধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়াম এটি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্টেডিয়ামটি কিছুদিন আগেই নাম লেখায়। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে স্যাক্সটনে প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এখন পর্যন্ত এখানে কোনও টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়নি। গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এই ভেন্যুতে খেলেছিল।
আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ দুটি ওয়ানডে খেলবে। ২৯ ও ৩১ ডিসেম্বর তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচটি স্যাক্সটন ওভাল গ্রাউন্ডে খেলবে সাকিব-মাশরাফিরা।
উদ্বোধন: ১৯৫২ সাল
দর্শকধারণ ক্ষমতা: ১০,৫০০
যে নামে পরিচিত: ম্যাকলিন পার্ক
১৯৫২ সালে ভেন্যুটি নির্মাণ করার উদ্দেশ্য ছিল বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা। পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ডের রাজনীতিবিদ ডোনাল্ড ম্যাকলিনের নামানুসারে এর নাম করা হয়। ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাম লেখায় ভেন্যুটি। এরপর প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
বাংলাদেশ এই ভেন্যুতে একটিমাত্র ম্যাচই খেলেছিল। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে একটি ওয়ানডে খেলেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচটি অবশ্য ১৪৬ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছিল সফরকারীরা। ৬ বছর পর আগামী ৩ জানুয়ারিতে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ফের এই ভেন্যুতে ২২ গজের লড়াই নামার সুযোগ পাচ্ছেন মাশরাফিরা। তামিম অবশ্য চাইলে নেপিয়ার থেকে প্রেরণা খুঁজে নিতে পারেন। কেন না বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রানের ইনিংসটি এসেছিল তার ব্যাট থেকেই।
উদ্বোধন: ২০০৭ সাল
দর্শকধারণ ক্ষমতা: ১০,০০০
যে নামে পরিচিত: ব্ল্যাক পার্ক
নিউজিল্যান্ডের বে অব প্লেন্টিতে অবস্থিত মাউনগানুই স্টেডিয়াম। সর্বমোট ৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে এই মাঠে। চারটি ওয়ানডের পাশাপাশি একটি টি-টোয়েন্টি গড়িয়েছে এখানে। বাংলাদেশ এখানে শেষ দুটি টি-টোয়েন্টি খেলবে। একটি ৬ জানুয়ারি এবং অপরটি ৮ জানুয়ারিতে মাঠে গড়াবে।
২০১৪ সালে কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিষেক হয় মাউনগানুই ভেন্যুর। এছাড়া চলতি বছর জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে স্বাগতিকরা একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচটিতে মুখোমুখি হয়।
উদ্বোধন: ১৮৬৮ সাল
দর্শকধারণ ক্ষমতা: ১৩,০০০
যে নামে পরিচিত: বেসিন রিজার্ভ
প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে পুরাতন ভেন্যু বেসিন রিজার্ভ। এটা বিশ্বের অন্যতম সুন্দর স্টেডিয়াম। এর ইতিহাস অনেক পুরনো। ২০১০ সালের ১ এপ্রিল বেসিন রিজার্ভ গ্রাউন্ডটিকে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে নিউজিল্যান্ড সরকার।
এখানে নিউজিল্যান্ড ৫৮টি টেস্ট খেলার পাশাপাশি ২৮টি ওয়ানডে খেলেছে। যদিও এই ভেন্যুতে এখনো কোনও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৩০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হয় এই গ্রাউন্ডে। এছাড়া এই ইংলিশদের বিপক্ষেই ১৯৭৫ সালে একদিনের ম্যাচটি খেলে স্বাগতিকরা। এই মাঠেই স্যার রিচার্ড হ্যাডলি তার ৩০০তম টেস্ট উইকেট অর্জন করেছিলেন। এখানেই প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছিল ব্ল্যাকক্যাপরা।
এখানে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত দুটি টেস্ট খেলেছে। এই সফরের প্রথম টেস্টটি হবে এখানেই। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে কিছুটা ভড়কে যেতে পারেন মুশফিক-সাকিবরা। কেননা ২০০১ ও ২০০৭ সালে খেলে যাওয়া দুটি টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।
/এফএইচএম/