দল ঘোষণার ঠিক এক ঘণ্টা আগে মুস্তাফিজের সঙ্গে ড্রেসিংরুমের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন ও হাবিবুল বাশার। হয়তো মুস্তাফিজের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানতেই কথা হচ্ছিল তাদের! অনেকদিন ধরে লম্বা ফরম্যাটের ক্রিকেটে খেলছেন না তিনি। চলতি বিসিএলে একটি ম্যাচে তাকে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচকদের। এর পরই বোঝা যাবে, মুস্তাফিজ লম্বা পরিসরের ক্রিকেট খেলতে কতটা প্রস্তুত।
প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল বলেছেন, ‘ফিজিও বলেছেন শারীরিকভাবে ও ফিট। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে লম্বা সময় ধরে বোলিং করতে হয়, এ বিষয়গুলো এখনও ওর মধ্যে আসেনি। আমরা ম্যানেজমেন্টসহ সবার সঙ্গে কথা বলেই মুস্তাফিজের ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওকে নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা বিসিএলে যেকোনও এক রাউন্ডে খেলানোর। অনেক দিন ধরে ও খেলার মধ্যে নেই।’ টেস্ট ক্রিকেটে যে মুস্তাফিজ খুব তাড়াতাড়িতেই ফিরবেন, সেটাও জানিয়ে রাখলেন সাবেক এই ক্রিকেটার, ‘মুস্তাফিজ আমাদের সম্পদ। ওকে আমাদের ধীরে ধীরে ব্যবহার করতে হবে। সামনে অনেক ম্যাচও আছে। আমার বিশ্বাস খুব তাড়াতাড়ি সে ফিরে আসবে।’
টেস্টে খেলার মতো ফিট না হলে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে কেন মুস্তাফিজকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘আমরা চিন্তা করেছিলাম ক্রাইস্টচার্চে আমাদের বিকল্প খেলোয়াড় খুব বেশি ছিল না। তাই মুস্তাফিজ যেন সাহায্য করতে পারে সেজন্য ১৪ জনের স্কোয়াডে রাখা হয়েছিল।’
এদিকে পুরো ফিট মুস্তাফিজকে শ্রীলঙ্কা সফরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে, ‘মুস্তাফিজের বড় একটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। ফিরতে সময় লাগবেই। চোটের পর ফেরার প্রক্রিয়াতেই আছে ও। নিউজিল্যান্ডে সে ১২৭-১২৮ কি.মি. গতিতে বল করেছে। আগে ১৪০ করতো, পুরোপুরি ফিট হতে একটু সময় তো লাগবেই। আমরা আশা করছি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পুরো ফিট অবস্থায় তাকে পাওয়া যাবে।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কয়েকটি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। আগের মতো সাফল্য না পাওয়াতে মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়েন এই ‘বিস্ময় বালক’। প্রধান কোচ মুস্তাফিজের কথার গুরুত্ব দিতে চান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘ফিজিও ও ট্রেনারদের কাছ থেকে আমার ইতিবাচক সব রেজাল্ট পেয়েছি। কিন্তু খেলোয়াড়দের চাপের মধ্যে খেলতে হয়, চাপের মধ্যে খেলেই নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করতে হয়। মুস্তাফিজের ব্যাপারেও তাই।’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘মুস্তাফিজ নিজে কেমন অনুভব করছে, সেটাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হয়েছে আমাদের। কারণ মেডিক্যালি আমরা কিছু পাইনি। ওর কথাই তাই শুনতে হয়েছে। কোনও খেলোয়াড়ই বড় একটা ইনজুরির পর একটু অনীহা থাকে, সেটা যে ধরণের ইনজুরিই হোক না কেন। হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই মুস্তাফিজের এটা কেটে যাবে।’
মুস্তাফিজকে না পেয়ে কিছুটা হতাশ বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। যদিও ভবিষ্যতের জন্য এমন সিদ্ধান্ত ভালো হয়েছে বলে জানালেন মুশফিক, ‘মুস্তাফিজের মতো বোলারকে সব অধিনায়কই পেতে চাইবেন। কিন্তু সে মাত্রই ইনজুরি থেকে ফিরেছে। পুরো ফিট হয়তে কিছুটা সময় লাগবে।’
তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘ইনজুরি থেকে ফিরেই একজন বোলার সরাসরি টানা পাঁচ দিন খেলতে পারে না। এটা কঠিন। টেস্ট খেলতে গিয়ে সে যদি দীর্ঘ সময় ইনজুরিতে পড়ে, সেটা খারাপ হবে। মুস্তাফিজ কবে টানা অনেক ওভার বোলিং করেছে, আমার মনে নেই। আমার মনে হয়, তাকে বিশ্রামে রেখে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এটাই ঠিক সিদ্ধান্ত।’
অধিনায়ক হিসেবে মুশফিক ফিট মুস্তাফিজকে চান সব সংস্করণে, ‘আমি টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তাকে দলে চাই। শুধু এই ফরম্যাটে নয়, সব ফরম্যাটেই। তবে ফিট মুস্তাফিজকে নিয়মিত পাওয়াটা বেশি দরকার। সামনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ আছে। এরপর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। তার পর আরও খেলা। সেখানে মুস্তাফিজকে আমাদের খুব দরকার।’
উল্লেখ্য, সাসেক্সের হয়ে খেলতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েন মুস্তাফিজ। এরপর ঘরের মাঠে আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে দলে ছিলেন না তিনি। মিস করেন বিপিএলের চতুর্থ আসরও। এরপর নিউজিল্যান্ড সিরিজে দলে ফিরে দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেন এই ‘কাটার মাস্টার’।
/আরআই/কেআর/