ওয়েলিংটনে অসাধারণ এ জয়ের কারিগর কেশব মহারাজ। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে এক ইনিংসে ৫ উইকেট পেলেন এ প্রোটিয়া স্পিনার। ডানেডিনের মতো বেসিন রিজার্ভেও অসাধারণ পারফর্ম করেছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন মহারাজ। তার বোলিং ফিগার ২০.২-৭-৪০-৬।
আর এ পারফরম্যান্স দিয়ে নিউজিল্যান্ডে বিরল কীর্তি গড়েছেন ২৭ বছর বয়সী। ১৯৭৩ সালের পর নিউজিল্যান্ডে প্রথম কোনও স্পিনার টানা দুই টেস্টে ৫ বা তার বেশি উইকেট পেলেন। ওই মৌসুমে পাকিস্তানের ইন্তিখাব আলম ডানেডিনে ৬ ও ৭ উইকেট নেন।
অবশ্য প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে প্রথম তোপটা দাগান মরনে মরকেল। তার পেসে নিউজিল্যান্ড ৩ উইকেট হারায় মাত্র ৬৪ রানে। টম ল্যাথাম, কেন উইলিয়ামসন ও নেইল ব্রুম- তিনজনই এ প্রোটিয়া পেসারের শিকার।
এর পর শুরু মহারাজের স্পিন জাদু। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ঘূর্ণিতে এবার সত্যিই নাকানিচুবানি খেয়েছে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। তার বোলিংয়ে প্রতিরোধ গড়তে পারেননি কেউ। মাঝে একটি উইকেট কাগিসো রাবাদা নিয়েছেন। আর বাকিগুলো গেছে প্রোটিয়া স্পিনারের ঝুলিতে।
৬৩.১ ওভারে মাত্র ১৭১ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৮১ রানের। সময় শেষ হলেও ম্যাচ চতুর্থ দিনে না নিতে কয়েক ওভার বাড়তি খেলার সিদ্ধান্ত হয়।
কোনও বিপদের মুখোমুখি হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় তারা। জেপি ডুমিনি ২৪.৩ ওভারে জিমি নিশামকে একটি চার মেরে তিনদিনেই জয় নিশ্চিত করেন। তিনি অপরাজিত ছিলেন ১৫ রানে। ৩৮ রানে খেলছিলেন হাশিম আমলা।
এর আগে প্রোটিয়ারা ১ উইকেট হাতে রেখে ৩৪৯ রানে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল। দলীয় স্কোরবোর্ডে ৩৫৯ রান জমা পড়তেই শেষ উইকেট হারায় তারা। নিউজিল্যান্ডের ২৬৮ রানের প্রথম ইনিংসের জবাবে তাদের লিড দাঁড়ায় ৯১ রানের। সূত্র- ক্রিকইনফো
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড- ২৬৮ ও ১৭১ (রাভাল ৮০, ওয়াটলিং ২৯; মহারাজ ৬/৪০)
দক্ষিণ আফ্রিকা- ৩৫৯ ও ২৪.৩ ওভারে ৮৩/২ (ডুমিনি ১৫*, আমলা ৩৮*; সাউদি ১/১৭)
ফল- দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ী ৮ উইকেটে
ম্যাচসেরা- কেশব মহারাজ
সিরিজ- তিন ম্যাচ সিরিজের দুটি শেষে ১-০ তে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা
/এফএইচএম/