গাজী গ্রুপের টানা সপ্তম জয়

ম্যাচসেরা এনামুল (বাঁয়ে)এনামুল হক বিজয়র ৭ রানের আক্ষেপ।  তাতে সমস্যা হয়নি। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স পেয়েছে টানা ৭ জয়। ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে তারা জিতেছে ১০ রানে। অন্য ম্যাচে আবদুর রাজ্জাকের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যের পরও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে হার মানতে হয়েছে। ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে যথেষ্ট সহায়তা পায়নি তারা। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে শনিবার রাজ্জাকের দলের বিপক্ষে ২০ রানে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি। আর এ প্রতিযোগিতায় প্রথম জয় পেয়েছে পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাব। কলাবাগান ক্রীড়াচক্রকে তারা হারিয়েছে ৬২ রানে। 

জিতেই চলেছে গাজী গ্রুপ

ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে বড় স্কোরের আভাস পাচ্ছিল গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। বিশেষ করে এনামুল হক যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন। এ ওপেনার ছোটোখাটো ঝড় ‍তুলেছিলেন। কিন্তু সেঞ্চুরির আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে তাকে। ৯৭ বলে ৫ চার ও ৪ ছয়ে ৯৩ রান করেন এনামুল। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী শুভর ৪১ ও অধিনায়ক নাদিফ চৌধুরীর ৩৩ রানের কল্যাণে শেষ পর্যন্ত ২৩৬ রান তুলতে সমর্থ হয় গাজী গ্রুপ।

তাদের ৪৮.৪ ওভারে গুটিয়ে দিতে ৩টি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ সাদ্দাম ও অলক কাপালি।

লক্ষ্যটা ছোট হলেও আবু হায়দার রনির আগুনে পুড়েছে ব্রাদার্স। মাত্র ৩১ রানে ৩ উইকেট হারালে অধিনায়ক কাপালির ব্যাটে লড়াই করতে থাকে তারা। এমএস বিসলাকে নিয়ে ৭৮ রানের জুটি গড়েন কাপালি। কিন্তু ১ রানের আক্ষেপ নিয়ে ৪৯ রানে আউট হন ব্রাদার্সের এ অধিনায়ক।

তারপরও জয়ের দৌড় থেকে ছিটকে যায়নি ব্রাদার্স। তবে তাদের বড় ধাক্কা খেতে হয় ৩৯তম ওভারে। আবু হায়দার ওই ওভারে বিসলা (৫৬) ও ধীমান ঘোষকে (৩২) সাজঘরে পাঠান। আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ব্রাদার্স। ৪৮.৫ ওভারে ২২৬ রানে গুটিয়ে যায় তারা।

আবু হায়দার ৪ উইকেট নেন। ২টি করে পান মেহেদী হাসান ও শহীদুল ইসলাম।

সেঞ্চুরির আক্ষেপ থাকলেও দলকে সম্মানজনক স্কোর এনে দিয়ে ম্যাচসেরা হন এনামুল।

৭ ম্যাচের সবগুলো জিতে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই থাকল গাজী গ্রুপ। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীরা পিছিয়ে ৪ পয়েন্টে। আবাহনী, প্রাইম ব্যাংক, মোহামেডান ও শেখ জামাল সবার পয়েন্ট সমান ম্যাচে ১০।

বিফলে গেল রাজ্জাকের দারুণ বোলিং 

পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে পঞ্চম রাউন্ডে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন রাজ্জাক। জামালের অধিনায়ক এক ম্যাচ বিরতি দিয়ে আবারও একই কীর্তি গড়লেন খেলাঘরের বিপক্ষে। ১০ ওভারে ৫ উইকেট তিনি নেন ৫২ রানে।

খেলাঘরের ওপেনার রবিউল ইসলাম রবি ১০৩ রান করেন ১২৬ বলে, ১০ চার ও ২ ছয়ে সাজানো তার দারুণ এ ইনিংস। রাজ্জাকের স্পিনের সামনে দারুণ প্রতিরোধ গড়লেও তার বলেই আউট হন রবি। তার আগে সালাউদ্দিন পাপ্পু (৪৬) ও অমিত মজুমদারের (৫৮) উইকেট নেন শেখ জামালের অধিনায়ক। খেলাঘরের ৮ উইকেটে ২৬৬ রানের স্কোরবোর্ডে এ তিন ব্যাটসম্যানের অবদানই সবচেয়ে বেশি।

লক্ষ্যটা জামালের জন্য খুব বড় না হলেও খেলাঘরের পেসার তানভীর ইসলাম তাদের আটকে দিতে অবদান রাখেন। ১০ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। ৭৫ রানে জামাল ৪ উইকেট হারালে রাজিন সালেহ ও জিয়াউর রহমানের ১০৮ রানের জুটি স্বস্তি ফিরিয়েছিল। কিন্তু জিয়া ৭৫ রানে আউট হলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি জামাল। রাজিন ৭৬ রানে আউট হন। ৪৭.২ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪৬ রান করে জামাল। রাজ্জাক রিটায়ার্ড হার্ট হওয়ায় আর নামেননি।

৭ ম্যাচ শেষে ২০ রানের তৃতীয় জয়ে ৬ পয়েন্টে টেবিলের ৮ নম্বরে উঠে এসেছে খেলাঘর।

পারটেক্সের প্রথম জয়

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে সাজানো গোছানো ইনিংস খেলেছে পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাব। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সৌজন্যে তারা ৫ উইকেটে ২৭৮ রান করে। ইরফান শুক্কুর (৫৮) ও সাজ্জাদুল হক (৫৩) ফিফটি হাঁকান। এছাড়া সাজ্জাদ হোসেনের ৪৬, যতীন সাক্সেনার ৩৪ ও রাজিবুল হাসানের অপরাজিত ৩০ রান ভালো অবদান রাখে।

কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের নাবিল সামাদ সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন।

জবাব দিতে নেমে ইমরান আলীর বোলিংয়ে কুপোকাত হয় কলাবাগান। পারটেক্সের এ বোলার তার লিস্ট এ ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই পেয়ে গেলেন ৫ উইকেট। ৭.১ ওভারে ৪২ রান দেন তিনি।

ইমরানের বোলিংয়ে মাত্র ৪৬.১ ওভারে ২১৬ রানে গুটিয়ে যায় কলাবাগান। সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন হ্যামিলটন মাসাকাদজা। এছাড়া ৩৪ রান আসে জসিমউদ্দিন, তাসামুল হক ও নুরুজ্জামানের ব্যাটে।

/এফএইচএম/