এমন একটি ঐতিহ্যবাহী ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার আগের দিন সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। পুরনো দিনে ফিরে গেলেন তিনি, ‘ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। যদিও গত কয়েক বছর ধরে সেই উত্তেজনটা এখন আর নেই। আমরা যখন খেলেছি তখন ২৫-৩০ হাজার দর্শকের সামনে খেলতে হয়েছে। এখন হয় না। তারপরও আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ লিগের অনেক বড় একটা ম্যাচ।’
আবাহনী-মোহামেডানের ম্যাচে আগের উত্তেজনা নেই বলে বাস্তবতা মেনে নিলেন তিনি, ‘ম্যাচের আগে দুই দলের ক্লাব চারপাশে উত্তাপ ছড়াত। ৩ দিন আগেই আবহ তৈরি হয়ে যেত। প্রস্তুতি শুরু হয়ে যেত। মানসিক প্রস্তুতি, ক্রিকেটের প্রস্তুতি অন্যরকম থাকত। সত্যি বলতে সেই জিনিসগুলো এখন আর নেই। আবাহনী এখন আর আবাহনীর মাঠে অনুশীলন করে না। মোহামেডানও করে না। বঙ্গবন্ধুতে স্টেডিয়ামেও খেলা হয় না। ওখানে খেলা হলে হয়তো দর্শক পাওয়া যেত।’ কেন দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা কমে গেছে সেটার ধারণা দিলেন সুজন, ‘হয়তো এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বেশি থাকায় লিগের খেলার প্রতি আগ্রহ কমে গেছে। তারপরও আমি মনে করব চিরশত্রু দুই দল আবাহনী ও মোহামেডান। সেক্ষেত্রে ম্যাচটি হাইভোল্টেজ ম্যাচই হবে।’
সুজন এ দ্বৈরথকে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন অন্য কারণেও, ‘এটা গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য, কারণ আমরা দুটি ম্যাচ হেরে গেছি। এখন প্রতিটি ম্যাচই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আলাদা কোনও পরিকল্পনা নেই, আমরা যেভাবে খেলি সেভাবেই খেলব। আমাদের বেসিকগুলো ঠিক রেখে খেলতে হবে।’
দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দিকে তাকিয়ে সুজন, ‘ব্যাটসম্যানরা দারুণ ছন্দে আছে। সাদমান শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছে। পাশাপাশি লিটন দারুণ ছন্দে আছে। ওর থেকে একশ যদিও পাইনি। প্রতিদিন সবাই দারুণ শুরু করছে। সাইফ টানা দুটি ফিফটি করেছে। শান্ত, মিথুন, শুভাগত, আফিফ সবাই ভালো করছে। টপ অর্ডারের রান করাটা গুরুত্বপূর্ণ। তারা রান করলে কাজটা সহজ হয়ে যায়। আমি সোমবার টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দিকে তাকিয়ে থাকব।’
গত কয়েক বছরের তুলনায় মোহামেডান বেশ শক্তিশালী দল গড়েছে এই আসরে। এই মোহামেডানকে বেশ সমীহ করছে আবাহনী কোচ, ‘এখন আর কোনও দলই ছোট নয়। মোহামেডান এখন বড় দল, নামটাও বড়। মোহামেডান শক্তিশালী একটি দল। খেলা খুব একটা সহজ হবে না। মোহামেডান ছন্দে আছে। শেষ দুটি ম্যাচ জিতেছে। আমরা যদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে আমাদের কাজগুলো সহজ হয়ে যাবে।’
/আরআই/এফএইচএম/