২০০০ সালে বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই আমি জাতীয় দলে সুযোগ পাই। এরপর থেকে অনেক ধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, অনেক কিছু দেখেছি। আমাদের আগে যারা ক্রিকেট খেলতেন, তাদের অনেক অবদান। তারা ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে অনেক সংগ্রাম করেছেন। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফি জয় করে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের অগ্রযাত্রার সূচনা ওখান থেকেই।
আমাদের ক্রিকেটের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। আমরা ক্রমেই বড় দল হয়ে উঠছি। গত ১০-১২ বছর ধরে আমাদের দলের ৫-৬ জন খেলোয়াড় একসঙ্গে খেলছে, তারা নিয়মিত পারফর্ম করছে।
আমি ১৬ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছি। মুশফিক, সাকিব, রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ), তামিমরা যদি কন্টিনিউ করতে পারে, তাহলে ৪-৫ বছর পর এখন যারা জুনিয়র তাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সবার অভিজ্ঞতা মিলে দারুণ কিছুর সম্ভাবনা তৈরি হবে। আলটিমেটলি অভিজ্ঞতা না থাকলে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্যই দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় প্রয়োজন। এই দলটা যখন আরও বেশি অভিজ্ঞ হয়ে উঠবে, আমাদের ভালো করার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যাবে।
বর্তমানে আমরা ঘরের মাঠে বড় দলগুলো থেকে বেশ সমীহ আদায় করে নিতে পেরেছি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারব। সেজন্য কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড়কে আরও কিছুদিন খেলে যেতে হবে, এবং তরুণদের যথাযথভাবে প্রস্তুত হতে হবে।
বিদেশের মাটিতে আমাদের সামনে এখন কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। ঘরের মাঠে আমরা নিজেদের প্রমাণ করতে পেরেছি। ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, নিউজিল্যান্ড সফর থেকে আমাদের নতুন চ্যালেঞ্জ শুরু হয়েছে। আমাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, বিদেশের মাটিতে ভালো করা। দেশের বাইরে ম্যাচ জেতা সব সময়ই কঠিন। খুব কম দেশই এটা নিয়মিত করতে পারে। তবে আমার বিশ্বাস, অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত দলের চেয়ে আমরা বিদেশে অনেক কম সময়েই সাফল্য পাবো।
ওয়ানডেতে ভালো করলেও টেস্ট ক্রিকেটে আমরা অনেকটা পিছিয়ে ছিলাম। তবে সম্প্রতি টেস্টে আমাদের উন্নতি হয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের গত ৬-৭ মাসের রেজাল্ট দেখলেই সেটা স্পষ্ট বোঝা যাবে। এমনকি বিদেশের মাটিতেও আমরা ভালো খেলছি। এখন টেস্ট ক্রিকেটেও আমাদের হারের সংখ্যা কমে এসেছে। এ থেকেই বোঝা যায়, আমাদের কতটা উন্নতি হয়েছে।
লেখক : বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক