কোচ কুম্বলের দিন শেষ!

অনিল কুম্বলেচ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে যুক্তরাজ্যে ভারতের ক্রিকেট দল মাটিতে পা রাখার পরপর ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) বিজ্ঞাপন। প্রধান কোচের পদে আবেদনপত্র চেয়েছে তারা! এখন বিরাট কোহলিদের দায়িত্বে থাকা অনিল কুম্বলের মেয়াদ আগামী জুনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পরই শেষ হয়ে যাবে। তাই এমন বিজ্ঞাপন দেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু মিডিয়া বলছে অন্য কথা। কুম্বলের ওপর ক্ষুব্ধ বোর্ড কর্মকর্তারা। স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার চাকরির মেয়াদ বাড়ার কথা থাকলেও তাকে শাস্তি দিতে আর নতুন চুক্তি করছে না বিসিসিআই।

বিসিসিআই বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আগামী ৩১ মে পর্যন্ত আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। তাদের সাক্ষাৎকার নেবেন শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলী ও ভিভিএস লক্ষ্মণকে নিয়ে গঠিত ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটি (সিএসি)। গত বছরের জুনে কিন্তু কোনও বিজ্ঞাপন দেখে আবেদন করেননি কুম্বলে। সরাসরি সিএসি’র কাছে সাক্ষাৎকার দিয়ে প্রধান কোচ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

প্রধান কোচ পদে আবেদন চেয়ে বোর্ডের বিজ্ঞাপন দেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু মিডিয়ার খটকা লেগেছে অন্য জায়গায়- কেন দল দেশের বাইরে যাওয়ার পর সেটা দেওয়া হলো! কারণ খুঁজতে গিয়ে সাংবাদিকরা জানতে পেরেছে, নিজের ও ‘এ’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের বেতন বাড়ানো ছাড়াও বেশ কয়েকটি চাহিদার কথা বোর্ডকে জানান কুম্বলে। এর মধ্যে ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় বানগারকে সহকারী কোচে পদোন্নতি দেওয়া ও জহির খানকে বোলিং কোচ হিসেবে চেয়েছিলেন তিনি। এছাড়া ‘অধিনায়কত্ব ফি’ হিসেবে কোহলিকে আরও ২৫ শতাংশ বেতন বাড়ানোর দাবি জানান কুম্বলে। আর এসব কারণে সাবেক এ লেগ স্পিনারের প্রতি ক্ষুব্ধ বোর্ড কর্মকর্তারা।

দলকে নিয়ে কোচ দেশের বাইরে থাকার সময় বিজ্ঞাপন দেওয়ার কারণ পিটিআইকে জানালেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের এক কর্মকর্তা, ‘আবেদনপত্র চাওয়ার জন্য বিসিসিআই অবশ্যই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারত। কিন্তু তখন তো তার জায়গায় কেউ আসার সময় পেত না।’

দর-কষাকষিতে কুম্বলেকে সুযোগ দেওয়ার জন্য দ্রুত এ বিজ্ঞাপন দেওয়া জানালেন তিনি, ‘নিজের ও খেলোয়াড়দের জন্য সে দর-কষাকষি করছে। সেটা ভালো কিন্তু আগামীকাল যদি বিসিসিআই তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সে দর-কষাকষির সুযোগ পাবে না। তার কিছু কিছু দাবি ব্যাখ্যাতীত।’ সূত্র- ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া

/এফএইচএম/