আগের সব ম্যাচের মত আবাহনীর বিপক্ষেও গাজীর জয়ের নায়ক নাসির হোসেন। প্রথমে বল হাতে ঝড় তুললেন আবাহনীর ওপর, এরপর ব্যাট হাতে হার না মানা হাফসেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়ে তবেই মাঠ ছাড়েন তিনি। সত্যিকার অধিনায়কের মতো পারফরম করে শিরোপার আরও কাছে নিয়ে গেছেন নাসির গাজীকে। ১৫ ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট ২৪। সমান ম্যাচে আবাহনীর পয়েন্ট ২২। বাকি থাকা এক ম্যাচে গাজী হারলে এবং আবাহনী জিতলে পয়েন্ট হবে সমান, তবে মুখোমুখি লড়াইয়ে গাজী এগিয়ে থাকায় হয়ে যাবে চ্যাম্পিয়ন।
তখন গাজীর শিরোপা পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে প্রাইম দোলেশ্বর। ১৪ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ২০ হলেও হাতে আছে আরও দুই ম্যাচ। বাকি থাকা ম্যাচ দুটি জিতলে তাদেরও পয়েন্ট হবে গাজীর সমান ২৪। শেষ ম্যাচটা আবার গাজীর বিপক্ষেই, তাই হেড টু হেডে এগিয়ে থাকায় প্রথমবার শিরোপা উদযাপন করবে দোলেশ্বর। অবশ্য হিসাবটা শনিবারই শেষ হয়ে যেতে পারে, যদি মোহামেডান হারিয়ে দেয় তৃতীয় স্থানে থাকা এই দোলেশ্বরকে। তখন গাজীকে আর শেষ ম্যাচের অপেক্ষায় থাকতে হবে না, দোলেশ্বরের হারের সঙ্গে সঙ্গে তারা হয়ে যাবে চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন।
যে পথটা তারা তৈরি করে রেখেছে শুক্রবার আবাহনীকে হারিয়ে। সুপার লিগের এ রাউন্ডের ম্যাচে শিরোপা প্রত্যাশী আবাহনীকে পাত্তাই দেয়িনি গাজী। তাদের বোলিং তোপে আবাহনী গুটিয়ে যায় ১৫৬ রানে। আরিফ হোসেন (৩২), লিটন দাস (৩০), মোহাম্মদ মিথুন (২৮) শুরুটা ভালো করলেও লম্বা করতে পারেননি তাদের ইনিংস। সেই সুযোগটাই দেননি ২৪ রানে ২ উইকেট পাওয়া আবু হায়দার ও ৩০ রানে ৩ উইকেট পাওয়া মেহেদী হাসান। তাদের সঙ্গে আবাহনীর ব্যাটিং লাইনের শেষটা ধসিয়ে দেন নাসির ৩৬ রান খরচায় ৩ উইকেট তুলে নিয়ে।
সহজ লক্ষ্যের জবাব দিতে নেমে মুনিম শাহরিয়ার শূন্য রানে ফিরলেও এনামুল হক ও মুমিনুল হক দাঁড়িয়ে যান। ৫০ রানের জুটি গড়ে মুমিনুল ফেরেন ২১ করে। আর এনামুল আউট হন ৪১ রানে। জহুরুল ইসলামও ফিরে যান মাত্র ৭ রান করে। ৩৩ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেললেও কোনও প্রভাব পড়তে দেননি নাসির। আরও একবার নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে খেলেন হার না মানা ৫৬ রানের ইনিংস। ৯২ বলের যে ইনিংসটিতে ছিল ৪টি চার ও এক ছক্কার মার। নাদিফ চৌধুরীকে (২৬*) সঙ্গী করে জয় দিয়ে শেষ করে নাসির দলকে নিয়ে যান শিরোপার দ্বারে।
চৌকাঠ পেরোলেই শিরোপা উৎসবে মাতবে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। দরকার কেবল একটি জয়।
/কেআর/