নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বৃষ্টির বাঁধায় এক পয়েন্ট নিয়ে জটিল সমীকরণের সামনে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে লন্ডনের আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে এ ম্যাচও পড়তে পারে বৃষ্টির কবলে। তাই ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি কিংবা ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতির কঠিন হিসাব নিকাশের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সোমবার ওভালের কেনিংটনে দিবা-রাত্রির ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়। প্রথম ম্যাচে ইংলিশদের বিপক্ষে আশা জাগিয়ে হারলেও আরেক শক্ত প্রতিপক্ষ অজিদের বিপক্ষে জয়ের জন্য মুখিয়ে আছে মাশরাফিরা। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় ভিন্ন কিছু ভাবছে না অস্ট্রেলিয়াও।
এছাড়া দুই দলের সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৫ বিশ্বকাপে। যদিও বৃষ্টির কারণে ব্যাট-বলের লড়াই মাঠে নামতে পারেনি কেউই।
আগের ম্যাচে আট ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলে সমালোচনায় পড়েছিল মাশরাফিরা। আজ নিশ্চয়ই সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসবে টিম ম্যানেজমেন্ট। যদিও সরাসরি কিছু জানাননি মাশরাফি। তারপরও তিনি একজন বোলার বাড়ানোর ইঙ্গিত বেশ ভালোভাবেই রাখলেন।
আগের ম্যাচে বাংলাদেশের কোনও বোলারই সেভাবে সাফল্য পায়নি। মাশরাফি তার বোলারদের কাছ থেকে সেরা কিছু চান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। কার্ডিফের ম্যাচ ছাড়া বার্মিংহামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার শেষ ম্যাচও বাংলাদেশের জন্য প্রেরণা হতে পারে। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ইংল্যান্ডে এসেছে বাংলাদেশ। সেই কিউইরাই ৫৩ রানের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দিয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাঁচা মরার লড়াই মাশরাফির লক্ষ্য জয়, ‘জয়টা কঠিন হলেও আমাদের সামনে এছাড়া ভিন্ন কোনও পথ খোলা নেই। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে গেলে জিততেই হবে আমাদের।’
অস্ট্রেলিয়ান দলে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভ স্মিথের মতো দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান রয়েছে। যারা একাই ব্যাট হাতে ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে দিতে পারেন। এমনকি বোলিং আক্রমণও ভারসাম্যপূর্ণ অজিদের। মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও প্যাট কামিন্সের বল যেন এক একটি আগুনের গোলা। এমন বোলিংয়ে বিপক্ষে তামিম-মুশফিকদের লড়াইটা তাই কেমন হয় সেটাই প্রশ্ন।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ম্যাচ নিয়ে বলেছেন, ‘দুই দলের কেউই আশা করছে না এ ম্যাচটাও পরিত্যক্ত হোক। এখন আমাদের জন্য প্রতিটি ম্যাচই ফাইনাল। এ রকম টুর্নামেন্টে কোনও ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে বা হেরে গেলে সেখান থেকে ফিরে আসার সুযোগ কমই থাকে। সুতরাং যে করেই হোক আমাদের জিততে হবে।’
/এফএইচএম/