‘এ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। দুই দলের সমান ১ পয়েন্ট। কার্ডিফের ম্যাচ হারলে এক দলের বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে সঙ্গে সঙ্গেই। অন্য দলের অপেক্ষায় থাকতে হবে তখন অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের ম্যাচের দিকে। কার্ডিফের ম্যাচটি তাই ভীষণ উত্তেজনাপূর্ণ হতে যাচ্ছে বলে মত হাবিবুলের, ‘কার্ডিফের শেষ ম্যাচটা জিততেই হবে বাংলাদেশকে; শুধু তারা কেন, জয় পেতে হবে তাদের প্রতিপক্ষকেও।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচে ব্যাটিংটা যাচ্ছেতাই হয়েছে বাংলাদেশের। অলআউট হয়ে গিয়েছিল মাত্র ১৮২ রানে। যদিও বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে গুরুত্বপূর্ণ ১ পয়েন্ট পায় বাংলাদেশ। আগের দুই ম্যাচে টাইগারদের পারফরম্যান্স হাবিবুলের চোখে এমন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ভালো হলেও বোলিং ভালো হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে অসাধারণ তামিম ইকবাল ছাড়া ব্যাটিংয়ে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ, যদিও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছে। ওই ম্যাচে সহজ লক্ষ্য থেকে অস্ট্রেলিয়া খুব একটা দূরে ছিল না, কিন্তু বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেসে গেলে পরের রাউন্ডে ওঠার দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি হয়ে যায় বাংলাদেশের।’
আগের দুই ম্যাচ পেছনে ফেলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার আহ্বান বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়াকের, ‘আগেও বলেছি আমার মনে হয় না বাংলাদেশের দক্ষতা কিংবা ক্ষমতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠতে পারে। অভাব যেটা আছে সেটা হলো- আগ্রাসী মনোভাব, ইতিবাচক মনোভাব ও হারের পর ভয়ডরহীনভাবে খেলার। সিনিয়র খেলোয়াড়রা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে খেলছেন একসঙ্গে, সময় হয়েছে তাদের এই ধরনের বড় মঞ্চে নিজেদের মান বিশ্বকে দেখানোর। আর সেটার জন্য আগের দুই ম্যাচ পেছনে ফেলে স্বাধীন ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এই ম্যাচে নামতে হবে।’
নামতে যাচ্ছে আবার এমন মাঠে, যেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা স্মৃতিটা জমে আছে। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সেই স্মৃতি রোমন্থন করলেন হাবিবুল, ‘২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যখন আমরা জিতেছিলাম, ওই ম্যাচে খেলা একমাত্র মাশরাফি আছেন এবারের দলে। ওটা ছিল আমাদের অন্যতম বড় জয়। ওই ম্যাচের সৌভাগ্যবান অধিনায়কই কেবল নই আমি, বরং ৫ উইকেটের জয়ের পথটা তৈরি করতে মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে গড়েছিলাম ১৩০ রানের জুটি।’
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের কোনও দলকে এগিয়ে রাখেননি হাবিবুল তার কলামে। সবশেষ ম্যাচে কিউইদের হারালেও সেটা ছিল তাদের ‘বি’ দল। যদিও আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজে পাওয়া জয়টা টাইগারদের এই ম্যাচে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করেন তিনি। তাই উত্তেজনাকর এক ম্যাচের প্রত্যাশায় বাংলাদেশের হয়ে ৫০ টেস্ট খেলা এই ব্যাটসম্যান। যদিও শেষ দিকে আবহাওয়ার কথাটাও মনে করিয়ে দিতে ভুল করেননি হাবিবুল, ‘দুর্দান্ত এক ম্যাচ হতে যাচ্ছে। অবশ্য তার জন্য আবাহাওয়ার অনুমতি তো লাগবেই!’ আইসিসি ডটকম
/কেআর/