এজবাস্টনে ফিরে আসছে মানজারুল রানার স্মৃতি

মানজারুল ইসলাম রানাপ্রয়াত মানজারুল ইসলাম রানার কখনও বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হয় নি। তবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে একটি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। এবারের মতো ২০০৪ সালেও ইংল্যান্ডে বসেছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আসর। ওই টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচই খেলার সুযোগ হয়েছিল রানার, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বার্মিংহামের এজবাস্টনে। বৃহস্পতিবার একই মাঠে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টস করতে নামার সময় হয়তো প্রিয় বন্ধুর কথা মনে পড়বে মাশরাফির।

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ না হারালে রানা হতে পারতেন নিজের সময়ের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। তার সতীর্থ তো বটেই, সাবেক বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের তেমনই ধারণা। রানার ‍ঘনিষ্ঠ বন্ধু মাশরাফির নেতৃত্বেই এজবাস্টনে মাঠে নামবে টাইগাররা।

বাংলাদেশের অসাধারণ এক জয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রানার নাম। ২০০৭ সালের ১৬ মার্চ এ পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যান তিনি। পরদিন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। আর প্রথম দেখাতেই বাজিমাত! মাশরাফির দুর্দান্ত বোলিং আর তামিম-সাকিব-মুশফিকের হাফসেঞ্চুরিতে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছিল টাইগাররা। সেদিন রানার স্মৃতি বুকে নিয়ে নেমে বল হাতে আগুন ঝরান মাশরাফি। ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’-এর তোপে ভারতের বিশ্ববিখ্যাত ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়েছিল ত্রিনিদাদের কুইন্স পার্ক ওভালে।

ম্যাচের আগের দিন সুদূর ক্যারিবিয়ানেই দুঃসংবাদটা পেয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। শোক বুকে চেপে, শোককেই অনুপ্রেরণায় রূপান্তর করে জ্বলে উঠেছিলেন তারা, শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে গড়েছিলেন ইতিহাস। যে জয় সুপার এইটের পথে এগিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। ওই হারের ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারে নি ভারত। এরপর শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় তারা।

বৃহস্পতিবার ত্রিনিদাদ কি ফিরে আসবে এজবাস্টনে? মানজারুল রানার স্মৃতি বুকে ধারণ করে আরেকটি ইতিহাস গড়বেন মাশরাফিরা? বাংলাদেশ এখন সেই প্রতীক্ষায়!

/আরআই/এএআর/