মঈনের বিধ্বংসী স্পিনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাল ইংল্যান্ড

মঈনের সঙ্গে সতীর্থদের এমন উদযাপন হয়েছে মাঝেমধ্যেইলর্ডসের উইকেট হঠাৎ করে গেল বদলে, চলে গেল বোলারদের অনুকূলে। এক দিনেই ১৯ উইকেট পেয়েছেন দুই দলের বোলাররা। রবিবার সকালটা শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের যাওয়া-আসা দিয়ে, আর উইকেট হারানোর মিছিল শেষ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে দিয়ে। ফল হলো- চার ম্যাচের বাসিল ডি’অলিভার টেস্ট সিরিজ ২১১ রানের বিশাল জয় দিয়ে শুরু করেছে ইংল্যান্ড। মাত্র চার দিনে হয়েছে প্রথম টেস্টের মীমাংসা।

১ উইকেটে ১১৯ রানে চতুর্থ দিন দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। ৫৯ রানে অ্যালিস্টার কুক ও গ্যারি ব্যালান্স ক্রিজে নামেন ২২ রানে অপরাজিত থেকে। কুকের ধীর ইনিংস স্বাগতিকদের বেশ বড় লিড এনে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু দিনের ১০ম ওভারে মরনে মরকেলের বোলিং তোপ সামলাতে পারেননি এ ওপেনার। ৬৯ রানে থামে কুকের ১৯২ বলে সাজানো ইনিংস।

পরের ওভারে মরকেল ৩৪ রানে ফেরান গ্যারি ব্যালান্সকে। প্রোটিয়া পেসারের সঙ্গে তোপ দাগান কাগিসো রাবাদা। দুই পেসারের সঙ্গে কেশভ মহারাজের বাঁহাতি স্পিনে নাকানিচুবানি খেতে থাকে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। ৪৩ রানের ব্যবধানে ৭ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। এমন বিপর্যয়ে বেশ স্বস্তি আনে জনি বেয়ারস্টো ও মার্ক উডের ৪৫ রানের জুটি।নিজের প্রথম ওভারে উইকেট পান উড২৮ রানে উড আউট হওয়ার দুই ওভার পর বেয়ারস্টো ৫১ রানে সাজঘরে ফিরলে মহারাজের বলে ইংল্যান্ডের শেষ উইকেটের পতন ঘটে। ২৭ বছর বয়সী এ স্পিনার পান ৪ উইকেট। ৩টি করে পেয়েছেন মরকেল ও রাবাদা। চা বিরতির খানিকক্ষণ আগে ২৩৩ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড।

চার সেশন হাতে রেখে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে দাঁড়ায় ৩৩১ রানের লক্ষ্য। লর্ডসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করতে নামে প্রোটিয়ারা। কিন্তু চা বিরতিতে যাওয়ার আগেই তাদের ব্যাটিং লাইন আপ তটস্থ হয়ে পড়ে। ২৫ রানে তারা হারায় প্রথম ৩ উইকেট। ৫ উইকেট নেওয়ার পর মঈনের উদযাপনইংল্যান্ডের স্পিনার মঈন আলী ম্যাচটাকে একপেশে করে ফেলেন। চা বিরতির আগে ১ উইকেট নেন তিনি, এর পর আরও ভয়ঙ্কর। শেষ সেশনে টানা ৫ ওভারের প্রত্যেকটিতে একটি করে উইকেট পান ডানহাতি এ স্পিনার। তেম্বা বাভুমা প্রোটিয়াদের পক্ষে সর্বোচ্চ ২১ রানের ইনিংস খেলেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৬.৪ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১১৯ রানে গুটিয়ে দিতে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন মঈন। ১৫ ওভারে ৪ মেডেনসহ ৫৩ রান দেন তিনি, নিয়েছেন ৬ উইকেট। ম্যাচে সব মিলিয়ে ১১২ রানের বিনিময়ে ডানহাতি এ অফস্পিনারের ঝুলিতে গেছে ১০ উইকেট, এক ম্যাচে এটাই তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। ৩০ বছর বয়সী এ স্পিনার প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নেন ৫৯ রান দিয়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ইংল্যান্ড- ৪৫৮ ও ৮৭.১ ওভারে ২৩৩ (কুক ৬৯, বেয়ারস্টো ৫১; মহারাজ ৪/৮৫)

দক্ষিণ আফ্রিকা- ৩৬১ ও ৩৬.৪ ওভারে ১১৯ (বাভুমা ২১; মঈন ৬/৫৩)

ম্যাচসেরা- মঈন আলী

ফল- ইংল্যান্ড ২১১ রানে জয়ী

সিরিজ- ৪ ম্যাচের সিরিজ ইংল্যান্ড ১-০ তে এগিয়ে। ক্রিকইনফো

/এফএইচএম/