ব্যাটিংয়ে লক্ষ্যপূরণের দাবি সাকিবের

৮৪ রানের দৃঢ়তাভরা ইনিংসের পথে সাকিবের একটি শট। ছবি-বিসিবিটস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সৌম্য-ইমরুল-সাব্বির সাজঘরে ফিরে যাওয়ার সময় স্কোরবোর্ডে ছিল মাত্র ১০ রান। টাইগাররা তখন মহাবিপদে। পাঁচ নম্বরে নামা সাকিব আল হাসানের সঙ্গে শুরুতেই একটা পরিকল্পনা করে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। মাইলফলকের ম্যাচে দুই বন্ধু ঠিক করেন, অন্তত ২৫০ পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে দলকে। লক্ষ্যের চেয়েও ১০ রান বেশি করে প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ায় সাকিব অনেকখানি স্বস্তিতে।

প্রথম দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা সাকিব বলেছেন, ‘বল শুরু থেকেই ঘুরছিল। তাই আমরা আড়াই শ’র মতো রান করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম, যেটা আমরা করতেও পেরেছি। নাসির, মিরাজ ও শফিউলের ইনিংস খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওদের দৃঢ়তায় আমরা লক্ষ্যপূরণ করতে পেরেছি।’

প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশের দুটি রিভিউই নষ্ট হয়েছে। প্রথমটি নষ্ট হওয়ার জন্য সাব্বির রহমান দায়ী। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই তিনি আউট! প্যাট কামিন্সের ফুলার লেন্থ ডেলিভারি ঠিকভাবে খেলতে পারেননি সাব্বির। বল চলে যায় উইকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েডের গ্লাভসে। আম্পায়ার আউট দিলে রিভিউ নিয়েছিলেন সাব্বির। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে ধরা পড়েছে ব্যাট-বলের স্পর্শের দৃশ্য।

পরের রিভিউটি নষ্ট করেছেন মুশফিকুর রহিম। অ্যাস্টন অ্যাগারের বাঁহাতি স্পিনে বিভ্রান্ত বাংলাদেশ অধিনায়কের প্যাডে আঘাত করেছে বল। অস্ট্রেলীয় ফিল্ডারদের আবেদনে আম্পায়ার আঙুল তুললে রিভিউয়ের দ্বারস্থ হন মুশফিক। কিন্তু লাভ হয়নি, বহাল থেকেছে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। অথচ এরপর রিভিউয়ের অভাবে মেহেদী হাসান মিরাজ ফিরেছেন আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের বলি হয়ে।

এ বিষয়ে সাকিবের বিশ্লেষণ, ‘এটা (রিভিউ সিস্টেম) এখন ক্রিকেটে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। মিরাজের আউটটা ছিল না। তাই সে সময় রিভিউ থাকলে সেটা নেয়া যেত। মিরাজ ও নাসিরের জুটিটা ভালো হচ্ছিল, ওরা ৪২ রান করে ফেলেছিল। ওই সময় রিভিউ থাকলে আরও বড় হতে পারত জুটিটা।’

প্রথম দিনেই পতন ১৩ উইকেটের। ম্যাচটা পঞ্চম দিনে যাবে কিনা, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। সাকিবেরও তেমনই ধারণা, ‘মনে হয় না ম্যাচ পাঁচ দিনে যেতে পারবে। হয়তো কাল উইকেট একটু ভালো আচরণ করতে পারে। দিনের শুরুতে হয়তো ভবিষ্যদ্বাণী করা যেতে পারে। কিন্তু ম্যাচটা কত দিনে যাবে, তা বলা খুব মুশকিল।’