অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট শুরুর আগে এই রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে ছিলেন সাকিব। সিরিজের দ্বিতীয় দিনেই রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন তিনি। জশ হ্যাজেলউডকে ইমরুল কায়েসের ক্যাচ বানিয়ে তিনি মেতে ওঠেন ইনিংসে পঞ্চম উইকেট শিকারের আনন্দে। বিশ্ব ক্রিকেটে সাকিবের আগে এমন কীর্তি গড়েছেন মাত্র তিন জন বোলার। এদের মধ্যে দুজনই শ্রীলঙ্কান স্পিনার- মুত্তিয়া মুরালিধরন ও রঙ্গনা হেরাথ, অন্যজন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার ডেল স্টেইন। সাকিবের কৃতিত্ব তাই এক কথায় অসাধারণ।
রবিবার ম্যাচের প্রথম দিনে এক উইকেট নিয়ে অর্জনের পথে একধাপ এগিয়ে যান সাকিব। সোমবার সকালে মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই ম্যাট রেনশ আর গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে ফিরিয়ে দেন তিনি। অ্যাস্টন অ্যাগার ও প্যাট কামিন্সের ৪৯ রানের জুটি ভাঙার কৃতিত্বও তার। কামিন্সকে বোল্ড করার পর শেষ ব্যাটসম্যান হ্যাজলউডের উইকেট তাকে এনে দিয়েছে সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে ইনিংসের ৫ উইকেট শিকারের আনন্দ।
সাকিব ইনিংসে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নিয়েছেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, তিনবার। এর মধ্যে ২০১৪ সালে খুলনা টেস্টে দুই ইনিংসেই শিকার করেছিলেন ৫ উইকেট। অন্যটি ছিল তার ঠিক আগে, ঢাকা টেস্টে।
শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুবার করে ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার একবার করে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। তালিকায় অস্ট্রেলিয়া যুক্ত হলো আজই। সব মিলিয়ে ১৬ বার ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন সাকিব।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ২০১০ সালে, ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টে। যদিও ওই টেস্ট বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ও ৮০ রানে। গত বছর চট্টগ্রামে আবার এমন কৃতিত্ব দেখালেও টাইগারদের জয় এনে দিতে পারেননি। জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও ইংল্যান্ডের কাছে স্বাগতিকরা হেরে যায় নাটকীয়ভাবে, ২২ রানে।
সাকিবের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট শিকারের জন্মও চট্টগ্রামে। ২০০৮ সালের অক্টোবরে ওই কীর্তি গড়ার পথে নিউজিল্যান্ডের ৭ জন ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফিরিয়েছিলেন তিনি। পাঁচ বছর পর ঢাকা টেস্টে আবারও কিউইদের বিপক্ষে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বোলার সাকিবের সাফল্য রচিত প্রতিপক্ষের মাঠে। দুটো টেস্টই হয়েছিল ২০০৮ সালের নভেম্বরে। ব্লুমফন্টেইনে ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার পর সেঞ্চুরিয়নে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমন কীর্তি অবশ্য ঘরের মাঠে, ২০০৮ সালে ঢাকায় ও ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে। দুবারই তিনি শিকার করেছিলেন ৫ উইকেট।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাকিবের ৫ উইকেটের প্রথম কীর্তি ২০০৯ সালে, সেন্ট জর্জেসে। পরেরটি ছিল দু বছর পর মিরপুর টেস্টে।
২০১১ সালের ডিসেম্বরে মিরপুরেই পাকিস্তানের বিপক্ষে এমন কৃতিত্ব দেখান তিনি। আর ভারতের সঙ্গে তার একমাত্র ৫ উইকেট শিকার চট্টগ্রামে, ২০১০ সালে জানুয়ারিতে।
সাকিবের আরেকটি কীর্তির কথা না বললেই নয়। তিন বছর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খুলনায় দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি সেঞ্চুরিও করেছিলেন তিনি। সুবাদে ইয়ান বোথাম ও ইমরান খানের মতো কিংবদন্তির পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট-আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। বোথাম, ইমরান ও অ্যালান ডেভিডসনের পর ম্যাচে ১০ উইকেট শিকার ও সেঞ্চুরি করা মাত্র চতুর্থ ক্রিকেটার সাকিব।
সাকিবের ঘূর্ণিজাদু
প্রতিপক্ষ | ম্যাচ/ইনিংস | উইকেট | সেরা বোলিং | ৫/১০ |
অস্ট্রেলিয়া | ১/১ | ৫ | ৫/২৮ | ১/০ |
ইংল্যান্ড | ৬/১১ | ২৯ | ৫/৮৫ | ২/০ |
ভারত | ৬/৯ | ১৫ | ৫/৬২ | ১/০ |
নিউজিল্যান্ড | ৮/১৪ | ২৬ | ৭/৩৬ | ২/০ |
পাকিস্তান | ৪/৬ | ৯ | ৬/৮২ | ১/০ |
দক্ষিণ আফ্রিকা | ৬/৭ | ১৩ | ৬/৯৯ | ২/০ |
শ্রীলঙ্কা | ৭/১২ | ২৯ | ৫/৭০ | ২/০ |
ওয়েস্ট ইন্ডিজ | ৬/১১ | ২৯ | ৫/৬৩ | ২/০ |
জিম্বাবুয়ে | ৬/১২ | ২৬ | ৬/৫৯ | ৩/১ |