মুশফিক-সাব্বিরের দৃঢ়তায় টাইগারদের দিন

এভাবেই একে অন্যকে উৎসাহ দিয়েছেন সাব্বির ও মুশফিকচট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনটা হাসিমুখেই শেষ করেছে বাংলাদেশ। তবে হাসিটা আরও চওড়া হতে পারতো। শেষ বিকেলে সাব্বির রহমান স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে না পড়লে টাইগাররা আরও ভালো অবস্থানে থেকে শুরু করতো দ্বিতীয় দিনের খেলা। তবে যা হয়েছে, তা-ও কম স্বস্তির নয়।

নাথান লিওন এক প্রান্তে যেভাবে উইকেট তুলে নিচ্ছিলেন, তাতে প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের ইনিংসের চেহারা করুণ হতে পারতো। স্বাগতিকদের প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে দারুণ এক কীর্তি গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অফস্পিনার। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪০ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনার জন্ম হয়নি। এর আগে ৬ বার কোনও দলের প্রথম চার ব্যাটসম্যান এলবিডাব্লিউর শিকার হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে বোলার ছিলেন ভিন্ন। চট্টগ্রামে লিওনের কীর্তি তাই এক কথায় অনন্য। 

লিওনের সাফল্যে বাংলাদেশেরও ‘ভূমিকা’ আছে! বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে ডানহাতি স্পিনার যে বাড়তি সুবিধা পায়, সে কথা অনেকেরই জানা। অথচ আজ বাংলাদেশের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানই ছিলেন বাঁহাতি! সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল হয়নি লিওনের, একে একে তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন তামিম-ইমরুল-সৌম্য-মুমিনুলকে।  ডানহাতি মুশফিককে আগে নামালে হয়তো বাংলাদেশকে এমন ধস দেখতে হতো না।

১১৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যাওয়া টাইগারদের পরিত্রাতা মুশফিক ও সাব্বির। দুজনের ১০৫ রানের জুটিতে প্রাণ ফিরে পায় বাংলাদেশ। ক্রিজে নেমেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে অতিথি অধিনায়ক স্মিথের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছিলেন সাব্বির।

ভালো খেলতে থাকা সাব্বির আউট হয়েছেন স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়ে, সেই লিওনের বলেই। ৬৬ রান করে সাব্বির ফিরে আসার সময় দিনের খেলা বাকি ছিল প্রায় ৯ ওভার। নাসিরকে নিয়ে দলের আর কোনও ক্ষতি হতে দেননি অধিনায়ক মুশফিক।

প্রথম দিন কেটেছে ভালোভাবে। এখন মুশফিক আর নাসিরের দায়িত্ব দ্বিতীয় দিনের শুরুটা ভালো করার। দুজনে স্কোরবোর্ডকে কতটা সমৃদ্ধ করতে পারেন, তার ওপরে নির্ভর করছে বাংলাদেশের সাফল্যের সম্ভাবনা।