সোমবার ঘোষিত স্কোয়াডে ফিরিয়ে আনা হয়েছে মাহমুদউল্লাহকে। যদিও কলম্বো টেস্টে মাহমুদউল্লাহকে বাদ দেওয়ার পর প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে বলেছিলেন, সীমিত ওভার ক্রিকেটে মাহমুদউল্লাহ ভালো করলেও দীর্ঘ পরিসরে তার ফিরতে আরও সময় লাগবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, তিন টেস্ট পরেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ফিরেছেন তিনি।
তার অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে নান্নুর ব্যাখ্যা, ‘এখানে মাহমুদুল্লাহকে আমরা অন্তর্ভুক্ত করেছি। কারণ আমরা চিন্তা করেছি বিদেশে, যেখানে বাউন্সি উইকেট, দ্রুত বল ব্যাটে আসে- এমন জায়গায় সে ভালো ব্যাটিং করতে পারে। ও সিনিয়র এবং অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। যেহেতু সাকিব নেই, এই চিন্তা করে তাকে রাখা হয়েছে। এটাই আমাদের বেস্ট পসিবল স্কোয়াড, এটা নিয়েই আমাদের খেলতে হবে।’
মাহমুদউল্লাহকে দলে ফেরানোর ব্যাপারে কোচ ও অধিনায়কের চেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন প্রধান নির্বাচক। অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারের ব্যাপারে নিজের আত্মবিশ্বাসই এমন সিদ্ধান্ত নিতে সয়াহতা করেছে বলে জানিয়েছেন নান্নু, ‘মাহমুদউল্লাহকে নেয়াটা ব্যক্তিগতভাবে আমার সিদ্ধান্ত। কারণ সে বাউন্সি উইকেটে ভালো খেলে। ইংল্যান্ডেও সে ভালো খেলেছে। আমি তার ভালো করার ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।’
ওপেনিং থেকে সরিয়ে ইমরুলকে তিন নম্বরে নিয়মিত খেলানো হচ্ছে। কিন্তু ওই জায়গায় পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছেন টপ অর্ডার এই ব্যাটসম্যান। গত কয়েক সিরিজের মতো অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। তারপরও অভিজ্ঞতার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে তিনি জায়গা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক, ‘ইমরুলকে রেখেছি, কারণ দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আমরা যে সিরিজ খেললাম, সেটার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজের অনেক পার্থক্য আছে। এ কারণে আমরা নতুন কাউকে নিয়ে তার ক্যারিয়ার ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চাইনি; বরং অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়েছি। এই সিরিজটা আমরা ওকে দেখব। যেহেতু ও অনেক অভিজ্ঞ। আমরা আশা করছি সে রানে ফিরবে।’
সাকিব একাই দুজনের দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাটিংয়ে পাশাপাশি সমানভাবে বল হাতেও তিনি পারদর্শী। টেস্ট সিরিজে সাকিব ছুটিতে থাকায় বাড়তি একজন স্পিনার দলে নিতে হয়েছে। সেই জায়গা থেকেই দলে তাইজুলকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে, ‘সাকিবের জায়গায় আমরা একজন অতিরিক্ত স্পিনার নিয়েছি। আমাদের পরিকল্পনা ছিল পাঁচ পেসারের সঙ্গে সাকিব ও মিরাজ থাকবে; যেহেতু সাকিব নেই, সেহেতু আমরা তাইজুলকে যোগ করেছি।’
বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বেশিরভাগ বাঁহাতি হওয়ার কারণে বিসিবি ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের খোঁজ করছিল। কিন্তু বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে তুলনা করা যায়, এমন কোনও ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে পায়নি নির্বাচকরা। তাই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের ওপরই ভরসা রাখতে চান নান্নু, ‘বাঁহাতি ব্যাটসম্যান যারা আমাদের দলে আছে, তাদের সঙ্গে তুলনা করার মতো ডানহাতি আপাতত নেই। আমার মনে হয় যে, এই সিরিজটা চ্যালেঞ্জিং, বাউন্সি উইকেটে খেলতে হবে। আমার বিশ্বাস, আমাদের বাঁহাতি ব্যাটসম্যানরা এই সিরিজে ভালো করবে।’