সাদা পোশাকে দারুণ ছন্দে মাশরাফি

গত কয়েক বছরে এভাবে সাদা পোশাকে বল করতে দেখা যায়নি মাশরাফিকেসাড়ে তিন বছরের অপেক্ষা, এরপর লাল বলটি হাতে তুলে নিলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা। গত কয়েক বছর ধরে লাল বল-সাদা পোশাকের আক্ষেপে রীতিমতো যন্ত্রণায় পুড়েছেন এ পেসার। অবশেষে জাতীয় লিগে খেলতে নেমে সেই যন্ত্রণা কিছুটা হলেও কমলো তার।

২০ ওভারের ক্রিকেটে আগেই অবসর নিয়েছেন মাশরাফি। ওয়ানডে ক্রিকেটে আরও কিছুদিন হয়তো খেলে যাবেন তিনি। তবে টেস্টে কবে গতির ঝড় তুলবেন, নাকি আদৌ তুলবেন কি না সেটা নিশ্চিত নয়। অবশ্য শুক্রবার সকালে লাল বল হাতে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে নেমে পড়েছেন মাশরাফি।

মাশরাফির প্রত্যাবর্তনটা আরও জমকালো করে দিয়েছেন খুলনার অধিনায়ক আবদুর রাজ্জাক। খুলনা টস জিতে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় রংপুরকে। মাশরাফি বল করার সুযোগ পেয়ে যান ম্যাচের শুরুতেই। তাইতো ১৯তম ওয়ালটন জাতীয় ক্রিকেট লিগের মঞ্চে এদিন শুরুতে দেখা মিলেছে মাশরাফি ঝলক।

প্রথম ওভারেই মাশরাফি বোলিং করেছেন। ২০১৪ সালের পর সাদা পোশাকে নেমেই প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের ভড়কে দেন তিনি। প্রথম স্পেলে উইকেট না পেলেও বেশ কয়েকবার ব্যাটসম্যানদের ‍বুকে কাঁপন ধরান বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল এই অধিনায়ক। বাউন্স, আউট সুইং সবই ছিলো তার প্রথম স্পেলে। সবমিলিয়ে ৬ ওভার বোলিং করে ১৬ রান খরচ করে প্রথম স্পেল শেষ করেন তিনি।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ মাশরাফি খেলেছেন লম্বা ফরম্যাটের ক্রিকেটে। এরপর কয়েকবার খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও নানা কারণে খেলা হয়নি। জাতীয় লিগের প্রথম দুটি রাউন্ড খেললেও মাশরাফির আপাতত টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে ভাবনা নেই। মূলত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলার পর ফিটনেস ট্রেনিং, অনুশীলন করলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি। ম্যাচ খেলার তাড়না থেকেই মাশরাফি বেছে নেন ওয়ালটন জাতীয় ক্রিকেট লিগের দুটি রাউন্ডকে।

ইনজুরির শঙ্কায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন মাশরাফি। জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০০৯ সালে। ওই টেস্টের তৃতীয় দিনে ইনজুরিতে পড়ার পর ফেরা হয়নি তার। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেন।

জাতীয় লিগে সাদা পোশাকের মাশরাফিকে খুঁজে পাওয়া গেলে লাভটা বাংলাদেশেরই। তখন হয়তো তার সঙ্গে পুরো বাংলাদেশের আক্ষেপটা দূর হবে। গতির সঙ্গে আগ্রাসী একজন পেসার বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য খুব প্রয়োজন। সেই অভাবটা এই মুহূর্তে তাসকিন-রাব্বি-শফিউল-রুবেলরা ঠিকভাবে পূরণ করতে পারছেন না। তবে কি দায়িত্বটা নিতে নিজেই প্রস্তুত হচ্ছেন মাশরাফি? এর উত্তর পেতে অপেক্ষা ছাড়া আর বিকল্প কোনও পথ নেই!