এবারও ‘অখ্যাত’ ভেন্যুতে টাইগারদের লড়াই

সেনওয়েস পার্ক, পচেফস্ট্রুমদক্ষিণ আফ্রিকায় এটা বাংলাদেশের তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ সফর। আগের দুই সফরে ‘বড়’ ভেন্যুতে খেলার সুযোগ হয়েছিল একবারই, ২০০৮ সালে জোহানেসবার্গে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। এবারও তেমন অভিজ্ঞতাও হচ্ছে না টাইগারদের। দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে আর দুটি টি-টোয়েন্টি হবে পচেফস্ট্রুম, ব্লুমফন্টেইন, কিম্বার্লি, পার্ল ও ইস্ট লন্ডনের মতো ‘অখ্যাত’ ভেন্যুতে।

অবশ্য ভেন্যু নিয়ে একটা ইতিবাচক দিক আছে। এই পাঁচ ভেন্যুর চারটিতেই খেলার অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের। তাই একদিক দিয়ে চেনা মাঠেই নামতে যাচ্ছে টাইগাররা।

তবু জোহানেসবার্গ, ডারবান, কেপটাউনের মতো বিখ্যাত মাঠে খেলতে না পারার আক্ষেপ থাকছেই। মোহাম্মদ আশরাফুল অবশ্য এ নিয়ে হতাশ নন। ৯ বছর আগের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ অধিনায়ক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘এসব ভেন্যুর আশেপাশে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি থাকে। এ কারণেই এই মাঠগুলোতে বাংলাদেশের ম্যাচ দেওয়া হয়। এটা মনে করার কোনও কারণ নেই যে বাংলাদেশকে অবহেলা করে দক্ষিণ আফ্রিকা অপরিচিত ভেন্যুতে খেলা দিয়েছে।’

কিম্বার্লির ডায়মন্ড ওভালযদিও রকিবুল হাসান এ বিষয়ে কিছুটা বিস্মিত, ‘বাংলাদেশকে কেন অপরিচিত ভেন্যুতে খেলতে হবে? স্বাগতিকদের অবশ্যই প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সম্মান দেখানো উচিত।’

এ প্রসঙ্গে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘অতিথি দল নির্দিষ্ট কোনও ভেন্যুতে খেলার দাবি জানাতে পারে না। হয়তো পছন্দের কথা বলতে পারে, তবে কোথায় খেলা হবে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আয়োজক দেশের ক্রিকেট বোর্ডের। অতিথি দল শুধু ভেন্যুর ইনডোর-আউটডোর অনুশীলন, হোটেল সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে পারে।’

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পচেফস্ট্রুমে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামবে। এই ভেন্যুতে একটি টি-টোয়েন্টিও খেলবে টাইগাররা। মাঠটি সেনওয়েস পার্ক নামে পরিচিত। এই মাঠে এর আগে একটি টেস্টই হয়েছিল। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ও ১৬০ রানে।

পার্লের বোল্যান্ড পার্কসেনওয়েস পার্ক নিয়ে আশরাফুলের অভিমত, ‘মাঠটি অসাধারণ, এখানে প্রত্যাশা অনুযায়ী বাউন্স পাওয়া যায়। স্ট্রোক খেলতে পারদর্শী ব্যাটসম্যানদের জন্য এই মাঠ আদর্শ।’

অন্য ভেন্যুগুলোর মধ্যে ব্লুমফন্টেইনে ৪টি টেস্টের একটি খেলেছে বাংলাদেশ। ২০০৮ সালের ওই ম্যাচেও বাংলাদেশ ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা পেয়েছিল। ২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে এই মাঠে বাংলাদেশ হেরেছিল ১০ উইকেটে। দ্বিতীয় টেস্টের পর ওয়ানডে ‍সিরিজের প্রস্তুতি ম্যাচ এবং প্রথম টি-টোয়েন্টি ব্লুমফন্টেইনে খেলবে টাইগাররা। 

ব্লুমফন্টেইনের মানগাউঙ্গ ওভালকিম্বার্লির ডায়মন্ড ওভাল মাঠে ১৫ অক্টোবর প্রথম ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। এর আগে এই মাঠে দুটি ওয়ানডে খেলেছিল টাইগাররা। ২০০২ সালে প্রোটিয়াদের কাছে ৭ উইকেটে হারের পর ২০০৩ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একই ব্যবধানে হেরেছিল।

দ্বিতীয় ওয়ানডের ভেন্যু পার্লে আগে কখনও খেলার সুযোগ হয়নি বাংলাদেশের। বোল্যান্ড পার্ক নামে পরিচিত এই মাঠে এর আগে ১০টি ওয়ানডে হয়েছে।

ইস্ট লন্ডনে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের। ২০০২ সালে সেই টেস্টেও ইনিংস ব্যবধানে হার মেনেছিল তারা। আর ২০০৮ সালে সর্বশেষ সফরে এই মাঠে টাইগারদের ওয়ানডে পরিত্যক্ত হয়েছিল বৃষ্টিতে। এবার সেখানে তৃতীয় ওয়ানডে খেলবে সফরকারীরা।

ইস্ট লন্ডনের বাফেলো পার্কবাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরসূচি

সেপ্টেম্বর ২৮-অক্টোবর ২: প্রথম টেস্ট, পচেফস্ট্রুম

অক্টোবর ৬-১০: দ্বিতীয় টেস্ট, ব্লুমফন্টেইন

অক্টোবর ১২: প্রস্তুতি ম্যাচ, ব্লুমফন্টেইন

অক্টোবর ১৫: প্রথম ওয়ানডে, কিম্বার্লি

অক্টোবর ১৮: দ্বিতীয় ওয়ানডে, পার্ল

অক্টোবর ২২: তৃতীয় ওয়ানডে, ইস্ট লন্ডন

অক্টোবর ২৬: প্রথম টি-টোয়েন্টি, ব্লুমফন্টেইন

অক্টোবর ২৯: দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি, পচেফস্ট্রুম