৭৭ রানেই সব অবহেলার জবাব মুমিনুলের

হাফসেঞ্চুরি করেই অবহেলার জবাব দিলেন মুমিনুলএকসময় ছিলেন বাংলাদেশের টেস্ট দলের নির্ভরতার প্রতীক। তবে টানা ১১ টেস্টে হাফসেঞ্চুরি করে ভিভ রিচার্ডসের মতো কিংবদন্তির পাশে দাঁড়ানো মুমিনুল হকের এ বছরটা ভালো যাচ্ছিল না মোটেও। এমনকি প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়ার ‘অপমান’ও জুটেছে কপালে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৭৭ রানের দৃঢ়তাভরা ইনিংস খেলে সব অবহেলা, সব অপমানের জবাব ব্যাট হাতেই দিলেন তিনি।

অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্সের কারণে কলম্বোতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক শততম টেস্টে সুযোগ পাননি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘোষিত দলেও ছিলেন না শুরুতে। পরে মোসাদ্দেক হোসেনের ইনজুরি মুমিনুলকে সুযোগ এনে দেয় দলে। ঢাকায় প্রথম টেস্টের একাদশে অবশ্য ছিলেন না। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্টে সুযোগ পেয়ে খেলেছিলেন ৩১ ও ২৯ রানের দুটো ভালো ইনিংস। পচেফস্ট্রুমের ইনিংস অবশ্য ছাড়িয়ে গেছে সে দুটোকে। ১৫০ বলে ৭৭ রানের পথে ১২টি দৃষ্টিনন্দন চার এসেছে তার ব্যাট থেকে।

মাঝে কিছুদিন জ্বলে উঠতে না পারলেও টেস্ট ক্রিকেটে এখনও বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ গড় মুমিনুলের। এ কারণেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দল থেকে শুরুতে তাকে বাদ দিয়ে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েছিলেন কোচ-নির্বাচকরা। পরে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে দলে নিলেও ঢাকা টেস্টে একাদশের বাইরে রেখে আরেক দফা সমালোচিত হয়েছিলেন তারা। চট্টগ্রাম টেস্টে মুমিনুলকে নিয়ে হয়েছিল আরেক ‘নাটক’। প্রথম ইনিংসে চার নম্বরে নামার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ব্যাট করেছিলেন আট নম্বরে!

দক্ষিণ আফ্রিকায় অবশ্য প্রিয় পজিশন তিন নম্বরে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার প্রতিদান দিয়ে সাত ইনিংস পর হাফসেঞ্চুরিও করেছেন। পচেফস্ট্রুমের আগে ফিফটি করেছিলেন গত জানুয়ারিতে, ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। তারপর থেকে পঞ্চাশের দেখাই পাচ্ছিলেন না টানা ১১ টেস্টে হাফসেঞ্চুরি করে রেকর্ড বুকে নাম লেখানো মুমিনুল। অবশেষে খেললেন এমন এক ইনিংস, যা সব সমালোচনার জবাব দিয়ে বাংলাদেশের ফলো-অনের শঙ্কাও দূর করেছে।