বিসিবির ফিক্সড ডিপোজিট ৫০১ কোটি টাকা!

ফিক্সড ডিপোজিটের কথা জানাচ্ছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানএকসময় জাতীয় দলের কোচ, ফিজিওর বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য খরচ অনেক কষ্টে জোগাড় করতে হতো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে। প্রায়ই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দ্বারস্থ হতো বিসিবি। তবে দিন পাল্টে গেছে, দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার আর অর্থচিন্তা নেই। সোমবার বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) গত সাত অর্থবছরের (২০১০-১১ থেকে ২০১৬-১৭) আয়-ব্যয়ের যে হিসাব প্রকাশ করেছে বিসিবি, সেখানে দেখা যাচ্ছে সংস্থাটির ফিক্সড ডিপোজিট ৫০১ কোটি টাকা।

ব্যাংকে এত বিশাল অঙ্কের টাকা জমা থাকায় বেতন-ভাতা নিয়ে আর দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় না বিসিবিকে। গত অর্থবছরে শুধু কোচিং স্টাফদের বেতন বাবদ আট কোটি ৩৩ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৫ টাকা খরচ করেছে তারা।

সম্প্রচার স্বত্ব, টিম স্পনসরশিপ, আন্তর্জাতিক সিরিজ আর টুর্নামেন্ট থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আয় করে বিসিবি। জাতীয় ক্রিকেট দলের ভালো পারফরম্যান্সও আইসিসি এবং এসিসির টুর্নামেন্ট থেকে বিশাল অর্থ এনে দেয় তাদের। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিপিএলও আয়ের একটি বড় উৎস।

গত সাত অর্থবছরে বিসিবির উদ্বৃত্ত অর্থের পরিমাণ ৩৭০ কোটি ৩৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৪৪ টাকা। প্রতি বছর বড় অঙ্কের উদ্বৃত্তের কারণেই ফিক্সড ডিপোজিট এমন আকাশছোঁয়া।

সোমবার বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমাদের ফিক্সড ডিপোজিট ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ভাবতেই পারিনি, দায়িত্ব নেওয়ার পর এত বড় অর্জন হবে আমাদের। এটা সবার অবদানেই সম্ভব হয়েছে। ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স থেকে শুরু করে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত সবার অবদান রয়েছে এখানে।’

গত সাত অর্থবছরে বিভিন্ন খাত থেকে বিসিবি আয় করেছে এক হাজার ৪৫৫ কোটি ১৯ লাখ ১৫ হাজার ৭২০ টাকা। এর মধ্যে আইসিসি ও এসিসির গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ, স্বাগতিক মর্যাদা এবং আইসিসির টেস্ট ফান্ড থেকে তাদের তহবিলে যুক্ত হয়েছে ৭১৫ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। বিসিবি সবচেয়ে বেশি আয় করেছে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে। সেবার তারা আয় করেছিল ২৮৬ কোটি ৭৮ লাখ ৬২ হাজার ২৮৮ টাকা।

আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খরচও অবশ্য বেড়েছে। গত সাত অর্থবছরে বিসিবি এক হাজার ১০৩ কোটি ২৯ লাখ ৪৬ হাজার ২৮৭ টাকা খরচ করেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ২২৯ কোটি ৭৬ লাখ ২৮ হাজার ৯০০ টাকা খরচ করেছিল দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।