হারে শুরু খুলনা টাইটানসের

লুইস ও দেলপোর্টের জুটিতে ঢাকার সংগ্রহ বড় হয়েছেশুভ সূচনা হলো না খুলনা টাইটানসের। ব্যাটে-বলে ব্যর্থ তারা। প্রথম ম্যাচে হার দিয়ে শুরু করা ঢাকা ডায়নামাইটসের ২০৩ রানের লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে ১৮.১ ওভারে ১৩৭ রানে অলআউট হয় মাহমুদউল্লাহর দল। গত বছর তৃতীয় হওয়া খুলনা এবার বিপিএল শুরু করলো ৬৫ রানের হার দিয়ে। আর ঢাকা ফিরলো জয়ে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রবিবারের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় খুলনা ও ঢাকা। এভিন লুইস ও ক্যামেরন দেলপোর্টের শতাধিক রানের জুটিতে ৭ উইকেটে ২০২ রান করে ঢাকা। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের দেওয়া কঠিন লক্ষ্যে নেমে শুরু থেকে অস্বস্তির মধ্যে পড়ে খুলনা। ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের স্পিন ও আবু হায়দারের পেসে ৬২ রান করতেই ৪ উইকেট হারায় তারা। ওই ধাক্কা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি মাহমুদউল্লাহর দল। শেষদিকে সুনীল নারিন ও খালেদ আহমেদের বোলিংয়ে গুটিয়ে যায় তারা।

খুলনা তাদের প্রথম উইকেট হারায় দ্বিতীয় ওভারে। নাজমুল হোসেনকে ৫ রানে কিয়েরন পোলার্ডের ক্যাচ বানান আবু হায়দার। পরের ওভারে সাকিব শূন্য রানে ফেরান কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে। খুলনাকে কিছুটা স্বস্তিতে ফেরাচ্ছিলেন চ্যাডউইক ওয়ালটন। কিন্তু তাকেও নিজের দ্বিতীয় ওভারে আউট করেন সাকিব। ১৩ বলে ৩০ রান করে উইকেটরক্ষক কুমার সাঙ্গাকারার ক্যাচ হন ওয়ালটন। ক্রিজে নেমে মাহমুদউল্লাহ বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৬ বলে ৪ রান করে হায়দারের দ্বিতীয় শিকার হন খুলনার অধিনায়ক।

খুলনাকে গুটিয়ে দিতে আবু হায়দার নেন ৩ উইকেটসুবিধা করতে পারেননি রাইলি রোসো, মোহাম্মদ শহীদের বলে তার স্টাম্প ভেঙে যায়। ১৪ বলে ২৩ রান করেন দক্ষিণ আফ্রিকার এ ব্যাটসম্যান। টানা তৃতীয় ওভারে খুলনার আরেকটি উইকেটের পতন হয়, যেটা ছিল দলের ষষ্ঠ। আরিফুল হককে (৫) বোল্ড করেন খালেদ আহমেদ। এই ডানহাতি পেসার তার পরের ওভারে আকিলা ধনঞ্জয়াকে ৭ রানে সাঙ্গাকারার ক্যাচ বানান। ৮৮ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর কিছুটা থেমে ছিল ব্যাটসম্যানদের যাওয়া আসার মিছিল। জোফরা আর্চার ও মোশাররফ হোসেন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে হারের ব্যবধান কমান। তাদের জুটি ছিল ৪০ রানের। আর্চার ৩৬ রানে নারিনের শিকার হলে খুলনা শেষ ৩ উইকেট হারায় ৯ রানের ব্যবধানে। ১৭ রানে মোশাররফকে ফিরিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট নেন হায়দার। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে শফিউল ইসলামকে বোল্ড করে নারিন নিশ্চিত করেন জয়।

হায়দার সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়ে ঢাকার সফল বোলার। দুটি করে পান নারিন, খালেদ ও সাকিব।

এর আগে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে ঢাকার বিপক্ষে চতুর্থ ওভারে সফলতা পায় খুলনা। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে এভিন লুইস ও ক্যামেরন দেলপোর্টের জুটি শক্ত প্রতিরোধ গড়েছিল ঢাকা। শেষ পর্যন্ত শতাধিক রানের এ জুটি ভাঙার পর প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে খুলনা। ১১ রানের ব্যবধানে ঢাকার ৪ উইকেট তুলে নেয় তারা। তবে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা ঠিকই ২০০’র উপর স্কোর করে। ৭ উইকেটে ২০২ রান করে ঢাকা।

শেষ কয়েক ওভারে খুলনা এমন উল্লাস করেছে বেশ কয়েকবারচতুর্থ ওভারের শেষ বলে শফিউল ফেরান সাঙ্গাকারাকে (২০)। শ্রীলঙ্কান ব্যাটিং গ্রেট ক্যাচ তুলে দেন উইকেটরক্ষক চ্যাডউইক ওয়ালটনের হাতে। এভিন লুইসের সঙ্গে তার জুটি ৩৮ রানের। তবে লুইস-দেলপোর্ট দুজনেই হাফসেঞ্চুরি করে ঢাকাকে বড় সংগ্রহের পথে নেন। অবশেষে শফিউল তার তৃতীয় ওভারের শেষ বলে লুইসকে আউট করেন ৬৬ রানে। ৪০ বলে ৭ চার ও ৩ ছয় মেরেছেন এই ওপেনার। দেলপোর্টের সঙ্গে তার জুটি ছিল ১১৬ রানের।

এক ওভার বিরতি দিয়ে দেলপোর্টকে এলবিডাব্লিউ করেন আবু জায়েদ। ৩১ বলে ৪টি চার ও ৫টি ছয়ে ৬৪ রান করেন দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার। পরের ওভারে বাজে শট খেলে পয়েন্টে শফিউলের ক্যাচ হন সাকিব। মাত্র ৪ বল খেলে ১ রানে ব্র্যাথওয়েটের শিকার হন তিনি। ৬ বল পর জোফরা আর্চারের কাছে উইকেট হারান পোলার্ড। ৮ বলে ৫ রান করে মোশাররফ হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান। 

দুটি ছয় মেরে গ্যালারি মাতানো সুনীল নারিন লম্বা ইনিংস খেলতে পারেননি। ১১ বলে ১৬ রানে তিনি আউট হন জায়েদের বলে। ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডারের ক্যাচ নেন খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। দুই বল বাকি থাকতে রান আউট হন জহুরুল ইসলাম (৩)।

আবু জায়েদ ও শফিউল সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন খুলনার পক্ষে।

খুলনার একাদশ

চ্যাডউইক ওয়ালটন, রাইলি রোসো, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, জোফরা আর্চার, আরিফুল হক, আকিলা ধনঞ্জয়া, মোশাররফ হোসেন, আবু জায়েদ ও শফিউল ইসলাম।