বিপিএলের প্রথম পর্ব চলছে সিলেটে। খুলনা টাইটানসের অধিনায়ককে দেখতে সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটে চলে এসেছে লোকমান। মঙ্গলবার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছে টাইটানস। অনুশীলনের ফাঁকে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে কথা বলে, তার আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়ে আবেগে আপ্লুত লোকমান কী করবে বুঝতে পারছিল না! স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি বোনাস হিসেবে খুলনা অধিনায়কের কাছ থেকে টাইটানসের অনুশীলন জার্সি এবং বুধবারের ম্যাচের টিকিট উপহার পেয়েছে সে।
এত কিছু পেয়ে লোকমান উচ্ছ্বসিত। বাংলা ট্রিবিউনকে সে বললো, ‘আমার এত আনন্দ লাগছে যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। স্বপ্নেও ভাবিনি রিয়াদ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হবে, কথা বলবো, উনি আমাকে জড়িয়ে ধরবেন। উনি আমাকে টিকিট-জার্সি দিয়েছেন। এই মুহূর্তে আমার চেয়ে সুখী কেউ নেই।’
পঞ্চম শ্রেণি থেকে মাহমুদউল্লাহর ভক্ত লোকমান। তখন থেকেই তারকা অলরাউন্ডারকে নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত লেখা আর ছবি সংগ্রহে রাখে সে। এমনকি ব্যক্তিগত ডায়েরিতে কোন্ ম্যাচ মাহমুদউল্লাহ কত রান করলেন, তা-ও টুকে রাখে লোকমান।
জাতীয় দল, বিপিএল কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেট যেখানেই খেলুন না কেন, মাহমুদউল্লাহর ওপরে নজর থাকে লোকমানের। এমন ভালোবাসার জন্য তার নামই পাল্টে গেছে এখন। লোকমান বললো, ‘আমার নাম লোকমান হোসেন হলেও বন্ধু সহ এলাকার সবাই আমাকে মাহমুদউল্লাহ বলে ডাকে। আমার কাছে এটা খুব ভালো লাগে।’
মঙ্গলবার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে খুলনা টাইটানস যখন অনুশীলন করছিল, তখন মাঠে চলে আসে লোকমান। টাইটানসের মিডিয়া ম্যানেজার মিনহাজউদ্দিন খান তার সঙ্গে দলের সবার পরিচয় করিয়ে নিয়ে যান মাহমুদউল্লাহর কাছে। ভক্তর সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলেছেন খুলনার অধিনায়ক। প্রিয় ক্রিকেটার কী বললেন জানতে চাইলে লোকমানের জবাব, ‘রিয়াদ ভাই আমাকে মন দিয়ে লেখাপড়া করতে বলেছেন। আর বাবা-মার দেওয়া নাম নিয়েই আমাকে পরিচিত হতে বলেছেন। আমাকে তিনি অনেক আদর করেছেন।’
এমন ভক্ত পেয়ে মাহমুদউল্লাহও অভিভূত। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বললেন, ‘ক্রিকেটকে মানুষ এত ভালোবাসে বলেই আমরা খেলে আনন্দ পাই। আমরা তো ক্রিকেট খেলি ভক্তদের জন্যই। লোকমানকে বলেছি ওর বাবা-মা যে নাম দিয়েছে, সেই নামেই যেন সে পরিচিত হয়।’