সিলেটের টানা তৃতীয় জয়

আবুল হাসান নেন তিন উইকেট (ছবি: ফেসবুক)ঘরের মাঠে অপ্রতিরোধ্য সিলেট সিক্সার্স। ঢাকা ডায়নামাইটস ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের পর মঙ্গলবার তাদের কাছে হার মানলো রাজশাহী কিংস। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের এই আসরের রেকর্ড স্কোর করার পর ৩৩ রানে জিতলো সিলেট। টানা তিন জয়ে ৩ ম্যাচ শেষে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে নাসির হোসেনের দল। 

খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে দুইদিন আগে ২০২ রান করেছিল ঢাকা ডায়নামাইটস। বিপিএলের পঞ্চম আসরে যেটা ছিল কোনও দলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। মঙ্গলবার রাজশাহী কিংসের মুখোমুখি হয়ে সেই স্কোরকে পেছনে ফেলেছে সিলেট। এই আসরে এখন পর্যন্ত শতভাগ সফলতা ধরে রাখা নাসিরের দল ৬ উইকেটে করে ২০৫ রান। জবাবে ৮ উইকেটে ১৭২ রানে থামতে হয় রাজশাহীকে।

কঠিন লক্ষ্যে নেমে ‍শুরুটা চাহিদামতো করেছিল রাজশাহীর দুই ওপেনার লুক রাইট ও মুমিনুল হক। প্রতি ওভারে প্রয়োজনীয় ১০ রানের আশেপাশে ছিল তারা। কিন্তু লিয়াম প্লাঙ্কেটের জোড়া আঘাতে বিরাট ধাক্কা খায় রাজশাহী। ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বলে মুমিনুল ও রনি তালুকদার আউট হন ইংলিশ পেসারের কাছে। ১৬ বলে ২৪ রান করেন মুমিনুল। ২ বল খেলে রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন রনি।

ফ্লেচার ও থারাঙ্গা আরেকটি শক্ত জুটি গড়েন (ছবি: ফেসবুক)তারপরও পথ হারায়নি রাজশাহী। মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে রাইট রানের গতি ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু আবারও জোড়া আঘাতের মুখোমুখি গতবারের ফাইনালিস্টরা। আবুল হাসান দশম ওভারের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বলে মুশফিক (১১) ও সামিত প্যাটেলকে শূন্য রানে সাজঘরে পাঠান। রাজশাহীর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই তখনই স্তিমিত হয়ে পড়ে।

প্লাঙ্কেট ৩৯ বলে তিন চার ও চার ছয়ে ৫৬ রানে আউট হন। এরপর জেমস ফ্রাঙ্কলিন ২৩ বলে ৩৫ রানের ঝড় তুললেও সেটা কেবল হারের ব্যবধান কমাতে পেরেছে। ড্যারেন স্যামি ৯ বলে ৯ রান করে আউট হন, আবুল হাসান নেন রাজশাহীর অধিনায়কের উইকেট।

সিলেটের বল হাতে আবুল হাসান ও প্লাঙ্কেট সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নেন।

এর আগে ঢাকা ও কুমিল্লার বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে পরে ব্যাট করেছিল সিলেট। তৃতীয় ম্যাচে তারা টস হেরে ব্যাট করার আমন্ত্রণ পেয়ে পুরোদমে ব্যাটিং শক্তি দেখায়। উপুল থারাঙ্গার টানা তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি এবং আন্দ্রে ফ্লেচার ও দানুশকা গুনাথিলাকার ঝোড়ো ইনিংস সিলেটকে এনে দেয় এই আসরের সবচেয়ে বেশি দলীয় রান।

জোড়া আঘাত হেনেছিলেন প্লাঙ্কেট (ছবি: ফেসবুক)থারাঙ্গার সঙ্গে ফ্লেচার শুরু থেকে মারকুটে ব্যাটিং করেন। প্রথম পাওয়ার প্লেতে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৬৩ রান করে সিলেট। এই জুটির বিচ্ছেদ হয় ১০১ রানে। ৩০ বলে ৫ চার ও ৩ ছয়ে ৪৮ রান করে ফ্লেচার রান আউট হন। ৩৫ বলে ৫ চার ও ১ ছয়ে পঞ্চাশ রান করার পর দুই বল খেলে থারাঙ্গা ক্যাচ দেন ড্যারেন স্যামিকে। সিলেটের সর্বোচ্চ স্কোরের উইকেটটি নেন ফ্রাঙ্কলিন।

তাদের দুজন ফেরার পর স্বাগতিকরা আর কোনও বড় জুটি গড়তে পারেনি। তবে দানুশকার গুনাথিলাকা ২২ বলে ২টি চার ও ৩টি ছয়ে ৪২ রান করে গতি বাড়ান। শেষদিকে ১২ বলে ২৫ রান করে দলের স্কোরবোর্ডে ২০০ রান এনে দেন অপরাজিত ব্যাটসম্যান রস হোয়াইটলে।

রাজশাহীর পক্ষে সবচেয়ে বেশি ২ উইকেট নেন কেসরিক উইলিয়ামস।