দক্ষিণ আফ্রিকার দুঃসহ স্মৃতি পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়াতে বিপিএলকে বেছে নিয়েছেন তাসকিন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বলেছেন, ‘প্রত্যেক ক্রিকেটারের খারাপ সময় যায়, শচীনেরও গিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ব্যর্থতার পর কোথায় সমস্যা, তা নিয়ে অনেক ভেবেছি। বিপিএলে ভালো খেলেই নিজেকে ফিরে পেতে চাই।’
বিপিএলে প্রথম ম্যাচ ভালো কাটেনি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে তিন ওভারে ৩৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন। তবে আজ চিটাগং ভাইকিংসের দ্বিতীয় ম্যাচে তাসকিনের তোপে বিধস্ত রংপুর রাইডার্স। দুর্দান্ত ইয়র্কারে শাহরিয়ার নাফীসের মিডল স্টাম্প এলোমেলো করে দেওয়ার পরের বলেই অধিনায়ক মিসবাহর ক্যাচ বানিয়েছেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারিকে। টানা দুই বলে উইকেট পেয়ে তার সামনে তখন হ্যাটট্রিকের হাতছানি। হ্যাটট্রিক হয়নি, তবে দলকে ঠিকই উইকেট উপহার দিয়েছেন। থিসারা পেরেরেরার স্ট্রেট ড্রাইভ তাসকিনের পায়ে লেগে ভেঙে দিয়েছে নন-স্ট্রাইক প্রান্তের উইকেট। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসার মাশুল দিয়ে রবি বোপারা তাই রান আউট।
নিজের পরের ওভারে পেরেরাকেও ফিরিয়ে দিয়েছেন তাসকিন। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১০৫/৩ থেকে ১০৫/৬ এ পরিণত রংপুর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, ভাইকিংস জিতেছে ১১ রানে।
ম্যাচসেরার পুরস্কার জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা সফর ভালো কাটেনি। তাই বিপিএলে নিজেকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছি। আজ মাঠে নামার আগে প্রতিপক্ষ নিয়ে পরিকল্পনা করেছি, আর সেই পরিকল্পনা সফল হয়েছে।’
নাফীস-শেনওয়ারিকে ফেরানোর পর বোপারাকে ইয়র্কার দিয়েছিলেন তাসকিন। রান আউট নিয়ে তার মন্তব্য, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার সময় এনামুল ছিল আমাদের অধিনায়ক। সে আমাকে ইয়র্কার দিতে বলেছিল, আর আমি সেটাই করেছি। এরপর আমরা ফুটবল খেলতে গিয়ে যেভাবে পা দিয়ে বল ঠেকাই, সেভাবে বলে পা লাগিয়ে বোপারাকে রান আউট করেছি।’
হ্যাটট্রিক না হলেও হতাশ নন তাসকিন। দল জেতায় তিনি উচ্ছ্বসিত, ‘আমি কখনোই নিজের সাফল্য নিয়ে ভাবি না। আমার পারফরম্যান্সে যদি দল জেতে, তাহলেই ভালো লাগে। ওই ওভারে তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দল জিতেছে, আর আমি তাতেই খুশি।’