বিপিএলে ৭ বলে ওভার!

রাব্বির এক ওভারে ৭ বল হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছবি-বিসিবিম্যাচে তখন টান টান উত্তেজনা, ১৬তম ওভারের খেলা চলছে। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে বল করছিলেন সিলেট সিক্সার্সের পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি। বোলিং প্রান্তে আম্পায়ার ছিলেন মাহফুজুর রহমান লিটু, স্কয়ার লেগ আম্পায়ার রানমোরে মার্টিনেজ। ম্যাচ শেষে সিলেট সিক্সার্স কর্তৃপক্ষ অভিযোগ জানিয়েছে, ওই ওভারে একটি বল বেশি করতে হয়েছে রাব্বিকে। মানে ৭ বলের ওভার!

ঠিক কী হয়েছিল ওই ওভারে? জানতে চাইলে রাব্বি বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘আমি সব সময় গুনে গুনে বোলিং করি। ৬ বল করার পর আম্পায়ারের কাছে বল দিতে গেলে তিনি আমাকে বললেন, আরেকটি বল বাকি আছে। আমি বললাম যে আমি তো গুনেই বল করেছি। তিনি তখন স্কয়ার লেগ আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলে আমাকে আরেকটা বল করতে বললেন। আমি ওভার শেষ করার পর সবাই জানতে চাইলো, আম্পায়ারকে কেন জানাইনি। আমি তখন বললাম যে জানিয়েছি, কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।’

দুই বল হাতে রেখে ম্যাচটি জিতে নিয়েছে রংপুর। ১৬তম ওভারে একটি বল বেশি করার জন্যই কি ম্যাচটি হারলেন? রাব্বির জবাব, ‘এমনটা না-ও হতে পারে। আবার হয়তো ওই বলটি না করলে জিততেও পারতাম। আসলে হার-জিতের বিষয় নয়। একটি বল কেন বেশি করতে হলো টিম ম্যানেজমেন্ট সে বিষয়ে ম্যাচ রেফারিকে জানিয়েছে।’

রাব্বির সঙ্গে কথা বলার পর আম্পায়ার মাহফুজুর রহমান যোগাযোগ করেন টিভি আম্পায়ার গাজী সোহেলের সঙ্গে। গাজী সোহেলও জানান, ওভার শেষ হতে আরও একটি বল বাকি!

১৬তম ওভারের তৃতীয় বলে সামিউল্লাহ শেনওয়ারি রান আউট হয়ে ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে ছিলেন রবি বোপারা আর মাশরাফি মুর্তজা। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক মাশরাফির অপরাজিত ১৭ রানে নাটকীয় জয় পেয়েছে রংপুর।

সিলেটের সংবাদ সম্মেলনেও ঘুরেফিরে এলো ওই ওভারের প্রসঙ্গ। নাবিল সামাদের মন্তব্য, ‘রাব্বি কিন্তু আম্পায়ারকে বলেছিল যে ওর ওভার শেষ হয়ে গেছে। আমি নিশ্চিত নই, উনি (আম্পায়ার) বিষয়টি চেক করেছিলেন কিনা। কারণ, আমি ছিলাম একটু দূরে। পরে শুনতে পাই যে ওই ওভারে একটি বল বেশি হয়েছে। আমরা বিসিবিকে এ বিষয়ে বলেছি। এখন বিসিবিই সিদ্ধান্ত নেবে।’

ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় ৪৫ মিনিট পর সংবাদ সম্মেলন কক্ষে এসেছেন নাবিল। ‘অভিযোগের কারণেই কি আপনার আসতে দেরি হলো?’ নাবিল অবশ্য তা মানতে চাইলেন না, ‘অভিযোগের জন্য দেরি হয়নি। ম্যাচটা ক্লোজ ছিল, আমাদের জেতা উচিত ছিল। হেরে যাওয়ায় সবারই মন খারাপ ছিল। অভিযোগ করলে তো আমরা জিতে যাব না! শুধু আমাদের উদ্বেগের কথা বিসিবিকে জানিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে সিলেট সিক্সার্সের মিডিয়া ম্যানেজার তামজিদ কাননও পরিষ্কার করে কিছু বলতে চাইলেন না, ‘আমরা অভিযোগ করিনি, বিষয়টা পয়েন্ট আউট করেছি। আমাদের অধিনায়ক নাসির মাঠের মধ্যেই এটা বের করেছিল। টিভি আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলে ক্রস চেকও করেছিলেন ফিল্ড আম্পায়ার, কিন্তু তাতে ভুল ধরা পড়েনি। এখন তারা আমাদের বলেছে লিখিত অভিযোগ করতে। এরপর তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’ 

এ বিষয়ে জানতে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আম্পায়ার মাহফুজুর রহমানের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।