বিশাল জয়ে সেরা চার নিশ্চিত ঢাকার

নারিনের হাফসেঞ্চুরি উদযাপনগতবারের ফাইনালিস্ট রাজশাহী কিংস। অথচ এবারের আসরের সবচেয়ে বড় তিনটি হারের শিকার তারাই। শনিবার ঢাকা ডায়নামাইটসের কাছে ৯৯ রানে হেরেছে মুশফিকুর রহিমের দল। বিপিএলের পঞ্চম আসরে এটাই সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। এই জয়ে টানা তৃতীয়বার প্লে অফ নিশ্চিত করলো ঢাকা ডায়নামাইটস।

সুনীল নারিন ও জো ডেনলির একশ ছাড়ানো জুটিতে রাজশাহীর বিপক্ষে দ্বিতীয়বার রানের পাহাড় গড়েছিল ঢাকা। যাতে উঠতে গিয়ে বারবার হোঁচট খেয়েছে গতবারের রানার্সআপ। ২০৬ রানের লক্ষ্যে নেমে সাকিব আল হাসানের স্পিনে রাজশাহী ১৮.৩ ওভারে মাত্র ১০৬ রানে অলআউট হয়।

বিপিএলের এই আসরে প্রথম দেখায় রাজশাহীকে ২০২ রানের লক্ষ্য দিয়ে ৬৮ রানে জিতেছিল ঢাকা। শনিবার দ্বিতীয় দেখায় আরও শক্তিশালী ঢাকা। ডেনলি ও নারিনের দুর্দান্ত জুটিতে ৫ উইকেটে ২০৫ রান করেছে গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা।

মিরপুরে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা। ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ব্যাটসম্যান শুরু থেকে রাজশাহীর বোলারদের ওপর চড়াও হন। বেশি এগিয়ে ছিলেন নারিন। ৩৪ বলে চারটি চার ও ছয়টি ছয়ে ৬৯ রান করেন এ ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার। ডেনলির সঙ্গে ১২৯ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন নারিন।

পরের ওভারে ক্যামেরন ডেলপোর্টকে ফিরিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল রাজশাহী। কিন্তু পারেনি তারা ঢাকার লাগাম টেনে ধরতে। আগের দুই ম্যাচে অল্পের জন্য হাফসেঞ্চুরি বঞ্চিত ডেনলি এদিন সফল হন। ৫৪ বলে ৫৩ রান করেন এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান।

পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। তিনটি চার মেরে ১৪ রানে আউট তিনি। তবে কিয়েরন পোলার্ডের ছোটখাটো ঝড়ে ঢাকার স্কোর দুইশ ছাড়ায়। এই ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান ১৪ বলে ৩৩ রান করেন একটি চার ও চারটি ছয়ে।

শেষদিকে সাকিব আল হাসান ৬ বলে একটি করে চার ও ছয় মেরে ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।

রাজশাহীর পক্ষে কাজী অনিক সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন।

সাকিব শুরু করেছেন, শেষ করেছেন মোসাদ্দেকবিশাল লক্ষ্য দিয়ে সাকিব নিজের প্রথম দুই ওভারেই রাজশাহীর তিন উইকেট তুলে নেন। ৩.১ ওভারে ৯ রানে ৩ উইকেট হারানোর ধাক্কা আর কেউ সামলাতে পারেনি। ঢাকার অধিনায়কের সঙ্গে বোলিংয়ে কার্যকরী ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন ও সাদমান ইসলাম। দুজনে দুটি করে উইকেট নেন।

রাজশাহীর পক্ষে সর্বোচ্চ ২৮ রান করা সামিত প্যাটেলকে নিজের চতুর্থ শিকার বানান সাকিব। ৪ ওভারে এক মেডেনসহ ৮ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা তিনি। পোলার্ড ও আফিদি বাকি দুটি উইকেট ভাগাভাগি করে নেন।

এই জয়ে ১১ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে খুলনা টাইটানসকে তিনে নামিয়ে দুই নম্বরে উঠে গেছে ঢাকা। একটি কম খেলে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। খুলনার ১০ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট। সমান খেলে ১০ পয়েন্ট নিয়ে চারে রংপুর রাইডার্স।