হাসানের অনুপ্রেরণা মাশরাফি আর শোয়েব আখতার

দুই গতি-তারকার বোলিং হাসানকে পেসার হতে অনুপ্রাণিত করেছে‘আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।’ তারা অবশ্য ‘শিশু’ নন, তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ তো বটেই। আগামী ১৩ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডে শুরু হবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। তরুণ ক্রিকেটারদের সামনে তাই কঠিন চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তারা কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের বিশেষ আয়োজন। আজ থাকছে ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদের কথা।

২০১১ বিশ্বকাপ শেষে শোয়েব আখতার যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন, তখন তিনি কিশোর। কৈশোরেই পাকিস্তানের পেস কিংবদন্তির বোলিং স্বপ্নের মায়াঞ্জন এঁকে দিয়েছিল হাসান মাহমুদের চোখে। লক্ষ্মীপুরের ছেলেটি মাশরাফি মুর্তজারও ভীষণ ভক্ত। বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কের ঝড়ো ব্যাটিংও ভালো লাগে। শোয়েব আর মাশরাফির মতো দুই গতি-তারকার বোলিং হাসানকে পেসার হতে অনুপ্রাণিত করেছে। তার লক্ষ্য, যুব বিশ্বকাপে বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দলের জন্য অবদান রাখা।

স্কুল ক্রিকেট, অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৭ আর অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেটে লক্ষ্মীপুরের হয়ে খেলেছেন হাসান। এলাকার মানুষ তার একটা নামও দিয়েছে—লক্ষ্মীপুর এক্সপ্রেস! তার সৌভাগ্য, ক্রিকেট খেলার জন্য পরিবার থেকে কখনও বাধা আসেনি, বরং সমর্থন পেয়েছেন সব সময়। বয়স মাত্র ১৮ হলেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতাও হয়েছে এর মধ্যে। অবশ্য একটি মাত্র ম্যাচই খেলেছেন। এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগে রাজশাহীর বিপক্ষে চট্টগ্রামের হয়ে সেই ম্যাচে দুই উইকেট নিয়েছেন হাসান।

একান্ত সাক্ষাৎকারে হাসান মাহমুদ

বাংলা ট্রিবিউন: ক্রিকেটে আপনার শুরুটা কেমন ছিল?

হাসান: ২০১২ সালে লক্ষ্মীপুর ক্রিকেট একাডেমিতে অনুশীলন শুরু করি মনির স্যারের তত্ত্বাবধানে। পরের বছর অনূর্ধ্ব-১৪ দলে খেলি। ধারাবাহিকভাবে বয়সভিত্তিক দলগুলো পেরিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পাই। কক্সবাজারে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে  ভারতের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে সুযোগ পেয়ে যাই অনূর্ধ্ব-১৯ দলে।

বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের স্টাম্প উপড়ে দেওয়া তার স্বপ্নবাংলা ট্রিবিউন: শোয়েব আখতার আপনার আইডল কেন?

হাসান: শোয়েব আখতারের বোলিং দেখেই আমি পেসার হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। শোয়েব অনেক জোরে বল করতেন। টিভিতে তার বোলিং দেখে মনে হতো, আমিও যদি এত জোরে বল করতে পারতাম! বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের স্টাম্প উপড়ে দেওয়া আমার স্বপ্ন। তবে শুধু শোয়েব আখতার নন, মাশরাফি ভাইকেও আমার খুব ভালো লাগে।

বাংলা ট্রিবিউন: মাশরাফিকে ভালো লাগার কারণ কী?

হাসান:  মাশরাফি ভাইয়ের বোলিং অসাধারণ। এখন গতি কমে গেলেও তার ব্যাটসম্যানদের বেঁধে রাখার বিষয়টি শিক্ষণীয়। মাশরাফি ভাই ভালো ব্যাটিংও করতে পারেন।

বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বকাপের জন্য আপনারা অনেক দিন অনুশীলন করেছেন। নিউজিল্যান্ডেও দুই সপ্তাহ ক্যাম্প করবেন। প্রস্তুতি নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট?

হাসান: হ্যাঁ, আমাদের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। নিউজিল্যান্ডে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবো ওটাগো একাদশের বিপক্ষে। আশা করি, আমরা কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো ধারণা পাবো, নিজেদের শক্তি-দুর্বলতা সম্পর্কে ভালো মতো জানতে পারবো।

বাংলা ট্রিবিউন: নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন পেসারদের সহায়ক। এ বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

হাসান: সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা হয়েছে এ বিষয়ে। মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন আমাদের।

বাংলা ট্রিবিউন: মাশরাফি কী বলেছেন আপনাদের?

হাসান:  উনি বলেছেন, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করতে, প্রতিটি ম্যাচ উপভোগ করতে। উইকেট থেকে যে অতিরিক্ত বাউন্স আর সুইং পাওয়া যাবে, সে ধারণাও দিয়েছেন। আশা করি, কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সফল হতে পারবো।

বাংলা ট্রিবিউন: যুব দলের হয়ে শেষ কয়েকটি ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট?

হাসান: এশিয়া কাপে আমার বোলিং খারাপ হয়নি। উইকেট না পেলেও খুব বেশি রান দেইনি। এশিয়া কাপের আয়োজক মালয়েশিয়ার উইকেটগুলোও তেমন পেস-বান্ধব ছিল না।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনাদের টিম স্পিরিট কেমন?

হাসান:  দলের প্রত্যেকের একে অন্যের প্রতি অগাধ আস্থা, আর তাই আমাদের পক্ষে ভালো করা সম্ভব। আশা করি, নিউজিল্যান্ডে পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা সব কিছু করতে পারবো। বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে দলের সবাই আত্মবিশ্বাসী।

বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার লক্ষ্য হাসানেরপ্রোফাইল

নাম: হাসান মাহমুদ

ডাক নাম: রাব্বি

বাবা: মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ

মা: মাহমুদা খাতুন

জন্ম: ১২ অক্টোবর ১৯৯৯

জন্মস্থান: লক্ষ্মীপুর

উচ্চতা: ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি

প্রথম ক্লাব: লক্ষ্মীপুর ক্রিকেট একাডেমি

বর্তমান ক্লাব: লক্ষ্মীপুর হাইফাই ক্রীড়া সংসদ

ব্যাটিং স্টাইল: ডানহাতি

বোলিং স্টাইল: ডানহাতি পেসার

প্রিয় মানুষ: আমার মা-বাবা

প্রিয় ক্রিকেটার: শোয়েব আখতার, মাশরাফি মুর্তজা

ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত: এশিয়া কাপে নেপালের বিপক্ষে জয়। ম্যাচটি জিতে আমরা সবাই কেঁদেছিলাম।

ছবি-নাসিরুল ইসলাম