ফুটবলার বাবার স্বপ্ন পূরণের পথে নাঈম হাসান

নাঈমের ক্রিকেটের প্রতি ‘প্রেম’ ছোটবেলায়‘আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।’ তারা অবশ্য ‘শিশু’ নন, তবে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ তো বটেই। আগামী ১৩ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডে শুরু হবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের বিশেষ আয়োজন। আজ থাকছে স্পিনিং অলরাউন্ডার নাঈম হাসানের কথা।

এখন ব্যবসায়ী নাঈমের বাবা একসময় ছিলেন ফুটবলার। তবে চট্টগ্রাম ফুটবলের পরিচিত মুখ মাহবুবুল আলমের স্বপ্ন—ছেলে খেলবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে। বাবার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলেছেন নাঈম হাসান।

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নিয়মিত সদস্য নাঈমের ক্রিকেটের প্রতি ‘প্রেম’ ছোটবেলায়। পাঁচ বছর বয়সে বাবার কাঁধে চড়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন মাঠে ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে যেতেন তিনি। নিজ শহরের ক্রিকেট তারকা তামিম-আফতাবদের ব্যাটিং দেখেই তার ক্রিকেটার হয়ে ওঠা।

শুরুতে শুধু ব্যাটিং করতেন নাঈম। এখন অবশ্য অফব্রেক বোলিংয়ে তিনি বেশি পারদর্শী, তবে ব্যাটিংয়ের হাতও ভালোই। বাংলাদেশ দলের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপের কারণে তাকে নামতে হয় লোয়ার অর্ডারে।

অনেক পথ পাড়ি দিয়েই নাঈম হাসান আজ জাতীয় যুব দলে। ২০১৩ সালে চট্টগ্রামের অনূর্ধ্ব-১৪ জেলা দলের হয়ে ভালো পারফরম্যান্সের পরও বিভাগীয় দলে সুযোগ পাননি। তবে হতাশ হননি, দৃঢ় সংকল্প নিয়ে লড়াই করেছেন মাঠে। ২০১৫ সালে জেলা দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান (২০৬) ও সর্বোচ্চ উইকেট (১১) শিকারের পুরস্কার হিসেবে সুযোগ পান জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলে। বয়সভিত্তিক দলগুলোতে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে আজ তিনি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপের বিশাল মঞ্চে।

একান্ত সাক্ষাৎকারে নাঈম হাসান

বাংলা ট্রিবিউন: বাবা ফুটবলার হলেও আপনার ক্রিকেটার হওয়ার কারণ কী?

নাঈম: বাবা ফুটবল খেললেও ক্রিকেটও খুব পছন্দ করতেন। তিনি সব সময় আমাকে ক্রিকেট খেলতে অনুপ্রাণিত করতেন। বাবার পাশাপাশি মা-ও আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছেন।

বাংলা ট্রিবিউন: ক্রিকেটের সঙ্গে কীভাবে জড়িয়ে পড়লেন?

নাঈম: পাঁচ বছর বয়সে আব্বু আমাকে ক্রিকেট মাঠে নিয়ে যেতেন। ছোটবেলায় তামিম ভাই-আফতাব ভাইদের খেলা দেখে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার জন্ম। আব্বু চান, আমি যেন জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলি। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারলে খুব ভালো লাগবে।

শুরুতে শুধু ব্যাটিং করলেও এখন তিনি অফব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীবাংলা ট্রিবিউন: আপনার ক্রিকেটার হয়ে ওঠার গল্পটা শুনতে চাই।

নাঈম: ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম জেলা দলের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েও বিভাগীয় দলে সুযোগ পাইনি। তখনই জেদ চেপে যায়। আব্বু আমাকে বলেন, শুধু বোলিং করলে হবে না, ব্যাটিংও জানতে হবে। ২০১৫ সালে জেলা দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান ও সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করেছিলাম। এরপর অনূর্ধ্ব-১৬ না খেলে প্রোমোশন পেয়ে যাই অনূর্ধ্ব-১৮ দলে। ওই দলে ৬ ম্যাচে ১৬৯ রানের পাশাপাশি ২১ উইকেট নিয়েছিলাম। এরপরই অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পাই।

বাংলা ট্রিবিউন: ছোটবেলায় পেস বোলিং করলেও স্পিনার হলেন কেন?

নাঈম: আমি একসময় পেস বল করতাম, তবে অষ্টম শ্রেণিতে ওঠার পর স্পিন বল শুরু করি। স্পিন করতে ভালো লাগতো। অবশ্য আগে এতো লম্বা ছিলাম না, তাই পেস বল করা ছেড়ে দেই।

বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বকাপে বোলিং নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

নাঈম: এমন কোনও কথা নেই যে কন্ডিশন পেস বা স্পিন সহায়ক হবে। আমার কাজ বোলিং করা, যে কোনও কন্ডিশনে বোলিং করতেই হবে আমাকে। আমি চেষ্টা করবো নিজের শতভাগ দেওয়ার। ব্যাটসম্যান আর উইকেট দেখে বোলিং করার চেষ্টা করবো। বিশ্বকাপ বলে বাড়তি চাপ নেবো না, নিজের স্বাভাবিক বোলিং করবো।

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশের সাফল্য নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

নাঈম: আমাদের দলটা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। সবাই রানের মধ্যে আছে, বোলাররা ভালো করছে। আশা করি, আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো।

বাংলা ট্রিবিউন: বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন। এই অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই বিশ্বকাপে কাজে লাগবে।

নাঈম: অবশ্যই, ম্যাচ খেলার পাশাপাশি অনুশীলন আর ড্রেসিংরুমে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। লুক রনকির সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন নিয়ে কথা বলেছি, নান্নু স্যারও (প্রধান নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন) অনেক ধারণা দিয়েছেন। চিটাগং ভাইকিংসের ভারতীয় স্পিনার সঞ্জীব শর্মা আমাকে নিয়ে অনেক কাজ করেছেন, অনেক কিছু বুঝিয়ে দিয়েছেন। আশা করি, নিউজিল্যান্ডে সাফল্য পাবো।

বাংলা ট্রিবিউন: নিজের ব্যাটিং নিয়ে আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী?

নাঈম:  ছোটবেলায় ওপরের দিকে ব্যাটিং করতাম। দলের প্রয়োজনে আমি ভালো ব্যাটিং করতে প্রস্তুত।

বয়সভিত্তিক দলগুলোতে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স ছিল নাঈমেরপ্রোফাইল

নাম: নাঈম হাসান

ডাক নাম: নাঈম

বাবা: মাহবুবুল আলম

মা: মমতাজ বেগম

জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০০

জন্মস্থান: চট্টগ্রাম

উচ্চতা: ৬ ফুট

প্রথম ক্লাব: চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়ন

বর্তমান ক্লাব: ঢাকা ব্রাদার্স ই্উনিয়ন

ব্যাটিং স্টাইল: ডানহাতি ব্যাটসম্যান

বোলিং স্টাইল: অফস্পিনার

প্রিয় মানুষ: আব্বু-আম্মু

প্রিয় ক্রিকেটার: সাকিব আল হাসান

অন্য প্রিয় খেলা: ফুটবল

প্রিয় ফুটবলার: ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

প্রিয় ফুটবল দল: ব্রাজিল

প্রিয় বন্ধু: রাব্বি

ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত: গত বছর আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচে পাঁচ উইকেট শিকারের পাশাপাশি ৩০ রান।

 

ছবি-নাসিরুল ইসলাম