প্রথম টেস্ট দলের ১৫ ক্রিকেটার বিকেলের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম গেলেও আব্দুর রাজ্জাকের ফ্লাইট ছিল সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে। এই ফ্লাইটের খবর জানাতেই রাজ্জাককে ফোন করেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) লজিস্টিক এন্ড প্রোটকল বিভাগের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মদ কাওসার আজম সজীব। কিন্তু বিসিবির এই কর্মকর্তার কথা শুনে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না রাজ্জাক।
চার বছর পর টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ার খবর শুনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘‘প্রথমে আকরাম ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। কিন্তু পরিষ্কার কিছু ছিল না সেখানে। সজীব ভাই মূলত আমাকে ফোন করেছিল টিকিট কনফার্ম করে। তখনও আমি জানতাম না। উনি আমাকে বললেন, ‘অভিনন্দন।’ আমি বললাম, ‘কিসের জন্য, ৫০০ উইকেটের জন্য?’ উনি বললেন, ‘না, আপনি দলে যোগ দিচ্ছেন তো।’ তখন বিশ্বাস করতে পারিনি। নান্নু ভাইয়ের ফোনে নিশ্চিত হয়েছি।”
হঠাৎ ডাক পাওয়াতেই কিছু বুঝে উঠতে পারছিলেন না আব্দুর রাজ্জাক। ওই মুহূর্তের অনুভূতি ভাগাভাগি করেছেন তিনি এভাবে, ‘খুব ভালো লাগার মতোই একটা ব্যাপার। আমি খুব অবাক হয়েছি। চিন্তাও করিনি এ সময়ে সুযোগ পাবো। অনেক সময় আশা থাকে, কিন্তু এই মুহূর্তে আমার মধ্যে কোনও আশা ছিল না। তারপরও যখন সুযোগ পেলাম, বুঝতে পারছিলাম না কী হচ্ছে। সব কিছু ঠিক আছে কিনা, নাকি আমি স্বপ্নের জগতে।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) দ্বিতীয় রাউন্ডে দেশের প্রথম বোলার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক। গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত পারফর্ম করে যাচ্ছেন অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি স্পিনার। তারপরও সুযোগ পাচ্ছিলেন না জাতীয় দলে। যদিও আশা ছাড়েননি লড়াকু এই ক্রিকেটার, ‘কোনও লক্ষ্য না থাকলে খেলে তো লাভ নেই। প্রত্যেক ক্রিকেটারের মতো আমারও জাতীয় দলে ফেরার একটা লক্ষ্য ছিল। তবে এই লক্ষ্যটা যে এভাবে পূরণ হবে, তা ভাবিনি।’
চন্ডিকা হাথুরুসিংহে সাড়ে তিন বছর বাংলাদেশের দায়িত্বে ছিলেন। এই সময়ে বেশিরভাগ সময় রাজ্জাককে থাকতে হয়েছে দলের বাইরে। সেই হাথুরুসিংহের দলের বিপক্ষেই রাজ্জাকের প্রত্যাবর্তন ম্যাচ। রাজ্জাক অবশ্য শুধু নিজের বিষয়টি নিয়েই ভাবছেন, ‘প্রতিটি কাজেই ভালো-খারাপ দুটি সময় যায়। আমারও এমন হয়েছে। আমি বিষয়গুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। যদি সুযোগ পাই, চেষ্টা করব ভালো খেলার। তবে এটা হাথুরুসিংহের জন্য নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য।’
সাকিব না থাকায় রাজ্জাকের অভিজ্ঞতা দলে কাজে লাগবে, এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। যদিও রাজ্জাক মনে করেন, সাকিবের ঘাটতি পূরণ হবে না, ‘ওর ঘাটতি তো আসলে পূরণ হয় না। তারপরও দলকে ম্যানেজ করতে হবে। কারণ ও তো আর খেলতে পারবে না।’