‘তৃতীয় উইকেটে আমরা যেভাবে পারফর্ম করেছি, সেভাবে শেষ করতে পারলে অসাধারণ হতো। তারপরও এটা দারুণ একটি দিন ছিল। আমরা আক্রমণাত্মক ছিলাম, ইতিবাচক ছিলাম একেবারে প্রথম বল থেকেই। যা দেখাটাও দারুণ অভিজ্ঞতার।’- প্রথম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন তামিম।
টেস্ট ক্রিকেটে বড় জুটির পর হুড়মুড়িয়ে ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামার অনেক বাজে অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের। মুমিনুল হকের সঙ্গে ২৩৬ রানের জুটি গড়ে মুশফিক আউট হওয়ার পর তামিমের মনে এমন ভয়ই বাসা বেঁধেছিল। হয়েছে তেমনটাই। মুশফিকের আউটের পরের বলেই লিটন দাস ফিরেছেন শূন্য রানে। তামিমের ভয় ছিল আগে থেকেই, ‘হুড়মুড় করে ভেঙে যাওয়া নিয়ে আমি চিন্তিত ছিলাম। সাধারণত বড় কোনও জুটি হলে আমাদের ক্ষেত্রে এমন (ধস) হয়। আমাদের ব্যাটসম্যানদের এ বিষয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মুশফিকের পর লিটন আউট হয়ে গেছে।’
বুধবার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন তামিম। ৫৩ বলে ৫২ রান করে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসেন তিনি। বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পেরে দারুণ খুশি এই ওপেনার, ‘ইতিবাচকভাবে শুরু করাটা আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে ছিল। ওদের মূল বোলারদের ওপর চড়াও হওয়া ছিল আমার উদ্দেশ্য। আমি সফল হয়েছি বলেই পরের ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা খুব সহজ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে প্রথম দিনের পরিকল্পনাতে আমরা সফল।’
১৭৫ রান নিয়ে ব্যাটিং করছেন মুমিনুল। এই রান করার পথে তিনটি রেকর্ড নাম লিখেছেন তিনি। বাংলাদেশর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্রুততম সেঞ্চুরির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্রুততম দুই হাজার রান করা ক্রিকেটারও তিনি। আর মুশফিকের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে রেকর্ড ২৩৬ রানের জুটি গড়েছেন। চমৎকার এক দিন পার করা মুমিনুলের প্রশংসা ঝরল তামিমের কণ্ঠে, ‘মুমিনুলের ইনিংসটা ছিল মনোমুগ্ধকর। প্রথম থেকেই ও আক্রমণাত্মক ছিল, আর সেভাবেই পুরো ইনিংস খেলে গেছে। মুমিনুল জানতো তার উইকেটটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটা বড় জুটি গড়া আমাদের জন্য খুব দরকার ছিল। আমার মনে হয় মুশফিক ও মুমিনুল খুব ইতিবাচক ছিল। আশা করি দ্বিতীয় দিনে মুমিনুল অনেক দূর যাবে।’
মুমিনুলের সেঞ্চুরির উদযাপন দেখে অবাক হননি তামিম। নিজেকে প্রমাণ করেই এই ব্যাটসম্যান এমন উদযাপন করেছেন বলে মনে করেন বাংলাদেশি ওপেনার, ‘ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ওর কিছু প্রমাণ করার ছিল এবং সে সেটা দারুণভাবে করেছে। আমি জানি কেন ও এটা করেছে।’ তামিম শুধু একা নন, গোটা বাংলাদেশই জানে মুমিনুলের এমন উদযাপনের রহস্য। শ্রীলঙ্কান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে জবাবটা দিতে পেরেই তৃপ্ত মুমিনুলের এমন উদযাপন।
উইকেটে প্রত্যাশিত স্পিন না থাকলে তামিমের আশা দ্বিতীয় দিনেই সফল হবেন স্পিনাররা, ‘আমরা আগে ব্যাটিং করছি, তাই এ নিয়ে আমাদের অভিযোগ নেই। আমরা যত বেশি রান করতে পারি, ততই অবস্থান শক্ত হবে। যতই ফ্লাট উইকেটে খেলেন না কেন, বড় রান সবসময়ই কঠিন অন্য দলের জন্য। তবে এটাই আশা করব যে, তারা (শ্রীলঙ্কা) ব্যাটিংয়ে আসার পরই যাতে বল ঘুরতে থাকে।’