সারাদিনে হাতে গোনা কয়েকটি বল ব্যাটসম্যানরা পরাস্ত হয়েছেন, যার একটিতে মুশফিকের দারুণ ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। অফ স্টাম্পের এই লাইনটিতে অনেক বড় তারকারা প্রায়শই আউট হন, তার মাঝে ভারতের বিরাট কোহলি বা নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়মাসনের নাম উল্লেখ করায় যায়। দীর্ঘ সময় ব্যাট করার পর ৯০-এর ঘরে একজন ব্যাটসম্যান যখন ঢুকে পড়েন, তখন তিন অঙ্কের মাইলফলকে পৌঁছানোর আগে অনেকেই মানসিক চাপে ভুগে ভুল করে বসেন। যেমনটি মুশফিক বলটি ছেড়ে না দিয়ে ব্যাট হাতে অনুসরণ করে আউট হয়ে গেলেন। মুমিনুলের সঙ্গে তার ২৩৬ রানের জুটি বাংলাদেশকে দিন শেষে অন্তত শক্তিশালী জায়গায় নিয়ে গেছে।
ঘরের শেষ টেস্ট সিরিজে দল নির্বাচনে উপেক্ষিত ছিলেন মুমিনুল, পরবর্তী পর্যায়ে বোর্ডের হস্তক্ষেপে তার নাম সংযোজিত হলেও করুণার পাত্রের মতো দলের সঙ্গে ছিলেন, যদিও প্রথম টেস্টে তার জায়গা মেলেনি। দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে চার নম্বরে ও দ্বিতীয় ইনিংসে আট নম্বরে ব্যাট করার সুযোগ মেলে।
তাই এই টেস্টে তার নিজের জায়গায় অর্থাৎ, তিন নম্বরে ব্যাট করতে এসে দিন শেষে ১৭৫ রানে অপরাজিত থেকে এই একই নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টকে দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন। মুমিনুল বরাবরই কম কথা বলেন, তবে সেঞ্চুরি করার পর তার উদযাপনের অভিব্যক্তি কয়েক সেকেন্ডের জন্য জানান দিয়েছে তিনি কতটুকু সংকল্পবদ্ধ ছিলেন ভালোভাবে জাতীয় দলে বড় কিছু করে দেখানোর জন্য। প্রতিপক্ষের শিবিরে কোচ হিসেবে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে থাকায় সেই মুহূর্তটি ছিল আরও অনেক রঙিন। তবে ভালো লেগেছে সেঞ্চুরির পরও তিনি তার দায়িত্বের কথা ভোলেননি। ইনিংসটিকে আরও বড় করেছেন। সব মিলিয়ে দিন শেষে অপরাজিত আছেন।
বাংলাদেশ যখন ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছে, মুমিনুল তখন ঘরোয়া ক্রিকেটের লম্বা ফরম্যাট বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) খেলে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। এই টেস্টে তার আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ের পুরো কৃতিত্বের ষোলো আনা তার এবং তার রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে বড় লাভ হবে দলের, বিশেষ করে টিম ম্যানেজমেন্টের। অভিনন্দন মুমিনুলকে কম ইনিংস খেলে ২,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করার জন্য এবং দলের বাইরে থেকেও নিজের ফিটনেসকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখার কারণেই ক্লান্তির কাছেও তিনি পরাস্ত হননি।
টেস্ট ম্যাচে অবহেলিত দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যানের ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে দ্বিতীয় দিনের প্রথম দুটি সেশন আমরা দাপটের সঙ্গে ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারব কিনা।
এই নিষ্প্রাণ উইকেটে একেবারে মন্দ বল করেনি শ্রীলঙ্কা। নতুন বলে সঠিক লেন্থে বল করতে পারেননি লাহিরু কুমারা। তবে শেষের স্পেলে কিছুটা লেন্থ সংশোধনের চেষ্টা করেছেন। স্পিনারদেরও প্রথম ইনিংসে ভয়ঙ্কর রুপে আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ দেখছি না। শ্রীলঙ্কার গ্রাউন্ড ফিল্ডিং ছিল দৃষ্টিকটু।
সাকিবের জায়গায় সানজামুল ও তানভীরকে সংযোজনের পরও যখন আব্দুর রাজ্জাককে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হলো, তখন কিছটা অবাক হলেও অনুমেয় ছিল নির্বাচকরা টিম ডিরেক্টর ও অধিনায়কের সঙ্গে পরামর্শ করেই তাকে দলে নিয়েছেন এবং দলের স্পিন আক্রমণে তার প্রয়োজন আছে। কিন্তু দলের প্রথম একাদশে তাকে না দেখে অবাক হয়েছি। একজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে এভাবে ডেকে এনে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার কোনও যুক্তিই খুঁজে পাই না। তার বোলিং বা ফিটনেস লেভেলে কোনও ঘাটতি থাকলে তা যাচাই করেই তাকে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে বিশ্বাস করি।
বাংলাদেশের এমন চমৎকার ব্যাটিং সফল দিনে আনন্দের মাঝেও আমার মনটা খারাপ ছিল রাজ্জাককে একাদশের বাইরে দেখে। এমনভাবে কোনও সিনিয়র ক্রিকেটারকে যেন ভবিষ্যতে আর অপদস্থ করা না হয়।