টেস্ট যুগ শুরুর পর একসময় এই রেকর্ডটা ছিল মোহাম্মদ রফিকের। পরবর্তীতে তার সঙ্গে ভাগ বসিয়েছিলেন সোহাগ গাজী। শনিবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশি বোলারদের হয়ে ২০০ রান খরচের নতুন রেকর্ড গড়লেন তাইজুল।
প্রথম ইনিংসে তাইজুলের উইকেট সংখ্যা বেশি হলেও সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতা তারই। ৬৭.৩ ওভার বল করে এই স্পিনার দিয়েছেন ২১৯ রান। বাংলাদেশের কোনও বোলারের এর আগে এক ইনিংসে ২০০ রান দেওয়ার নজির ছিল না। রান খরচের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’তে তাইজুলই প্রথম। সব মিলিয়ে তার বোলিং ফিগারটা এমন ৬৭.৩-১৩-২১৯-৪।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি খরুচে বোলার অস্ট্রেলিয়ার চক ফ্লেটউড-স্মিথ। ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার এ স্পিনার ৮৭ ওভারে ২৯৮ রান খরচ করে নিয়েছিলেন একটি উইকেট। তবে ৪ উইকেট পাওয়া বোলারদের তালিকায় খরচের দিক থেকে প্রথম অবস্থানে তাইজুল। তার নিচে থাকা ব্রেট লি ৩৯.৩ ওভারে ২০১ রানে নেন ৪ উইকেট, আর ড্যানিয়েল ভেট্টরি ৫৭ ওভারে ২০০ রান খরচায় নিয়েছিলেন ৪ উইকেট।
এর আগে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে এক ইনিংসে সবচেয়ে খরুচে বোলারের রেকর্ডটি ছিল মোহাম্মদ রফিকের দখলে। ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে ৪৫ ওভারের বোলিংয়ে ১৮১ রান খরচ করেছিলেন এই স্পিনার। সমান রান খরচ করলেও রফিকের চেয়ে তিন ওভার বেশি বোলিং করেছিলেন সোহাগ গাজী।
রান খরচের অভিজ্ঞতা আগেও হয়েছিল তাইজুলের। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকায় ৫১ ওভারে দিয়েছিলেন ১৭৯ রান। মেহেদী হাসান মিরাজও এই তালিকার উপরের দিকে আছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে ৫৬ ওভারে ১৭৮ রান দিয়েছিলেন ডানহাতি এই স্পিনার। আজও (শনিবার) মিরাজ ছিলেন বেশ খরুচে, ৪৯ ওভারে ৩ উইকেট পেলেও খরচ করেছেন ১৭৪ রান।
নির্বিষ বোলিংয়ের বিপক্ষে প্রায় দুই দিন ব্যাট করে রানের পাহাড় গড়েছে শ্রীলঙ্কা। ৯ উইকেট হারিয়ে ৭১৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করে প্রথম ইনিংসে পেয়েছে তারা ২০০ রানের লিড। মাত্র ৩ বলের জন্য ২০০ ওভার ফিল্ডিং করতে হয়নি স্বাগতিকদের।
১৯৯.৩ ওভারের মধ্যে তাইজুল একাই করেছেন ৬৭.৩ ওভার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৯ ওভার মেহেদী হাসান মিরাজের। আর অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম করেছেন ৪৫ ওভার।