শনিবার শুরু থেকেই স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছিলেন। তাইজুল-মিরাজ-সানজামুলের বল ঘুরছিল, নিচু হচ্ছিল। আগের দুই দিন দুর্দান্ত ব্যাটিং করা শ্রীলঙ্কার অবশ্য ২০০ রানের বিশাল লিড নিতে সমস্যা হয়নি।
চট্টগ্রামে টেস্ট অধিনায়কত্বের অভিষেক হলো মাহমুদউল্লাহর। কিন্তু এমন ম্যাচে অভিনব কিছু করে দেখাতে পারেননি তিনি। বাংলাদেশ দলের মতো মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্ব নিয়েও হতাশ ক্রিকেট ভক্তরা। বাংলাদেশের বোলাররা প্রায় দুই শ’ ওভার (১৯৯.৩) বল করেছেন, কিন্তু তাদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনতে অধিনায়ক ব্যর্থ। সাত সেশন ব্যাট করে, সাত বোলারের আক্রমণ ছিন্ন করে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (৭১৩) সংগ্রহ দাঁড় করেছেন হাথুরুসিংহের শিষ্যরা।
২০০ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য ম্যাচটা ড্র করা। কিন্তু চতুর্থ দিন শেষে ব্যাকফুটে স্বাগতিকরা। তামিম-ইমরুল-মুশফিককে হারিয়ে সংগ্রহ ৮১ রান। রবিবার হার এড়াতে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে ব্যাটসম্যানদের।
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিং ‘অ্যাপ্লিকেশন’ নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। প্রশ্নটা আরও বড় হলো দ্বিতীয় ইনিংসে দুই ওপেনারের আউটের ধরনে। দিনের ছয় ওভার বাকি থাকতে অফস্টাম্পের বাইরের বল তামিম যেভাবে খেললেন সেটা অবশ্যই দুঃখজনক। দেশের সেরা ওপেনারকে যেন পথ দেখিয়ে গেছেন ইমরুল কায়েস। শুরু থেকে নড়বড়ে এই বাঁহাতি ওপেনার দিলরুয়ান পেরেরার ঘূর্ণিতে অযথা প্যাডল সুইপ করতে গিয়ে ধরা পড়েন সান্দাকানের হাতে। আর ইমরুলের আউটেই বাংলাদেশের সর্বনাশের সূচনা!
চতুর্থ দিন শেষে মুমিনুল অপরাজিত ১৮ রানে। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত ১৭৬ রান করা এই বাঁহাতির ওপরে দলকে বাঁচানোর কঠিন দায়িত্ব। সঙ্গীর অভাবে ৮৩ রানে থেমে যাওয়া মাহমুদউল্লাহর দিকেও তাকিয়ে বাংলাদেশ। তবে প্রথম তিন দিনের ‘ব্যাটিং-স্বর্গ’ নিয়ে ব্যাটসম্যানরা কিছুটা হলেও আতঙ্কে। চতুর্থ দিনে বল ভালোই টার্ন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে তাইজুল স্বীকার না করলেও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ থমথমে!
চট্টগ্রামে টেস্টে বাংলাদেশ এতটা চাপের মধ্যে পড়তো না, যদি ফিল্ডাররা আরেকটু তৎপর হতেন। পুরো ইনিংসে ৭/৮টা সুযোগ দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু টাইগারদের ব্যর্থতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে অতিথিরা গড়েছে রানের পাহাড়। আর সেই পাহাড়ে চাপা পড়ে বাংলাদেশের সামনে হারের আশঙ্কা!