শতাধিক রানের লিড নেওয়া শ্রীলঙ্কা শুরুতেই হারায় উইকেট। দলীয় ১৯ রানে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান কুশল মেন্ডিসকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন আব্দুর রাজ্জাক। প্রথম ইনিংসের হাফসেঞ্চুরিয়ান আউট হন মাত্র ৭ রানে।
ধনঞ্জয়া ডি সিলভাও এগোতে পারেননি বেশিদূর। টানা দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল ইসলামের কাছে উইকেট হারান তিনি। ২৪ বলে ২৮ রান করে হন বোল্ড হন। এরপর দানুশকা গুনাথিলাকাকে ১৭ রানে নিজের শিকার বানান মোস্তাফিজ। দারুণ প্রতিরোধ গড়া দিমুথ করুনারত্নেকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। ১০৫ বলে ৩২ রান করে মিডউইকেটে ইমরুল কায়েসের ক্যাচ হন এ ওপেনার।
এরপর রোশেন সিলভার সঙ্গে দিনের সেরা ৫১ রানের জুটি গড়েন দিনেশ চান্ডিমাল। তবে মিরাজের বলে এলবিডাব্লিউ হন তিনি। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক করেছেন ৫৪ বলে ৩০ রান। বাংলাদেশি স্পিনার পরের বলে নিরোশান ডিকবেলার বিরুদ্ধে এলবিডাব্লিউর আপিল করলে আম্পায়ার আঙুল তোলেন। কিন্তু রিভিউ নিয়ে আউটের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন ডিকবেলা। ৪ রানে আরেকবার জীবন পান এই ব্যাটসম্যান। রাজ্জাক ছেড়ে দেন তার ক্যাচ।
শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলামের বলে আউট হন ডিকবেলা। সুইপ করেছিলেন, কিন্তু স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো মাহমুদউল্লাহ লাফিয়ে উঠে বল ধরেন। পতন ঘটে আরেকটি বড় উইকেটের। ১৮ বলে তিনি করেছেন ১০ রান।
এক ওভার বিরতি দিয়ে মোস্তাফিজ জোড়া আঘাত হানেন। পেরেরা ৬ রানে ফেরার পর আকিলা ধনঞ্জয়া প্রথম বলেই আউট হন। বল হাতে বাংলাদেশের ইনিংসকে ধ্বংস করা এই স্পিনার ব্যাট হাতে রানের খাতাই খুলতে পারেননি। মোস্তাফিজ দুজনকেই লিটন দাসের ক্যাচ বানানোয় হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু লাকমল তাকে বঞ্চিত করেন।
লাকমলের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ২২ রানে জুটি গড়ার পথে রোশেন টানা দ্বিতীয় ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি করেন ৮৬ বলে ৭টি চারে। ৯৪ বলে ৯টি চারে ৫৮ রানে অপরাজিত তিনি। লাকমল খেলছেন ৭ রানে।
মোস্তাফিজ সর্বোচ্চ তিন উইকেট পেয়েছেন। দুটি করে পেয়েছেন মিরাজ ও তাইজুল। শ্রীলঙ্কার অন্য উইকেটটি রাজ্জাকের।
প্রথম ইনিংসে ৫৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে শুক্রবার সকালটা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এক সেশনও পুরোটা খেলতে পারেনি তারা, শেষ ৫ উইকেট যায় মাত্র ৩ রানে। ব্যাটিং বিপর্যয়ে তারা অলআউট হয় ১১০ রানে। লাকমল ও আকিলা তিনটি করে উইকেট নেন।