৪ রান তুলতে বাংলাদেশের নেই ৪ উইকেট

মুশফিকমাহমুদউল্লাহর পর ফিরে গেলেন মুশফিকুর রহিম। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আউট সাব্বির রহমান ও আব্দুর রাজ্জাক। যেখানে ৪ রান তুলতে বাংলাদেশ হারালো ৪ উইকেট! তাতে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা, দরকার আর মাত্র ২ উইকেট। বাংলাদেশের স্কোর ৮ উইকেটে ১০৪।

চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৪ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেছিলেন লিটন। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ম্যাচটি ড্র করার পেছনে তার ওই ইনিংসের অবদান অনেক। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৫ রান করা এই উইকেটরক্ষকের কাছে বাড়তি চাওয়াই ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে। যদিও চট্টগ্রামের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারেননি তিনি। আকিলা ধনঞ্জয়ার লাফিয়ে ওঠা বল তার ব্যাটের হাতলে লেগে উঠে যায়, সহজ ক্যাচটি শর্ট লেগে ফিল্ডিং করা কুশল মেন্ডিসের ধরতে কোনও অসুবিধাই হয়নি। আউট হওয়ার আগে লিটনের ব্যাট থেকে আসে ১২ রান।

লাঞ্চ বিরতির পরপরই ফিরে গেছেন মুমিনুল। চমৎকার ব্যাটিংয়ে আশা জাগালেও বেশিদূর এগোতে পারেননি তিনি। প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতা ঝেড়ে ব্যক্তিগত স্কোরের সঙ্গে দলের রান বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু লাঞ্চের পর হেরাথের বাঁক খাওয়া বলটা ঠিক বুঝতে পারলেন না। বল তার ব্যাট ছুঁয়ে গেলে গ্ল্যাভসবন্দী করতে ভুল হয়নি নিরোশান ডিকবেলার। আউট হওয়ার আগে মুমিনুল করে যান ৪৭ বলে ৩৩ রান।

ব্যাটিং করছিলেন ওয়ানডে মেজাজে, যার খেসারতও দিতে হলো ইমরুল কায়েসকে। দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন তিনি। রঙ্গনা হেরাথের আগের বলে মারলেন ছক্কা। পরের বলটা অবশ্য রক্ষণাত্মকভাবেই খেলেছিলেন ইমরুল। কিন্তু বাঁক খাওয়া বলটা তার ব্যাট ছুঁয়ে আশ্রয় নেন উইকেটরক্ষক নিরোশান ডিকবেলার গ্ল্যাভসে। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ২২ বলে করেন ১৭ রান।

৩৩৯ রানের কঠিন লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ফিরে গেলেন তামিম ইকবাল। তার আউটে আরও কঠিন হয়ে যায় বাংলাদেশের পথ। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি তামিম। আউট হয়েছিলেন মাত্র ৪ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে এই ওপেনারের কাছে প্রত্যাশা তাই একটু বেশিই ছিল। তাছাড়া শ্রীলঙ্কার ছুঁড়ে দেওয়া কঠিন লক্ষ্যে তামিমের কাছ থেকে ভালো একটি ইনিংস খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

যদিও প্রত্যাশাটা একেবারেই মেটাতে পারেননি তিনি। দিলরুয়ান পেরেরার বলে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ধরেন প্যাভিলিয়নের পথ। আর এবার নামের পাশে যোগ করতে পেরেছেন মাত্র ২ রান।

এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কা অলআউট হয় ২২৬ রানে। মিরপুর টেস্ট জিততে বাংলাদেশের লক্ষ্য ঠিক হয় তাই ৩৩৯ রানের। দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে ২০০ রানে। রোশেন সিলভা অপরাজিত ছিলেন ৫৮ রানে, আর সুরঙ্গা লাকমাল দিন শেষ করেছিলেন ৭ রানে। তৃতীয় দিনের শুরুটাও তারা করেন দারুণভাবে। চমৎকার ব্যাটিংয়ে দলের রানের সঙ্গে লিড বাড়িয়ে নেন রোশেন। সঙ্গী পেলে নিজের ইনিংসটা আরও বড় করতে পারতেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এই ব্যাটসম্যান অপরাজিত ছিলেন ৭০ রানে।

বাংলাদেশের দরকার ছিল ২ উইকেট। রোশেন-লাকমালের জুটি ভেঙে তাইজুল শুরু করেন তার উইকেট উৎসব। নিজের ২০তম ওভারের চতুর্থ বলে লাকমালকে আউট করার পরের বলেই আবার উইকেট উৎসবে মাতেন রঙ্গনা হেরাথকে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে। লাকমাল খেলেছেন গুরুত্বপূর্ণ ২১ রানের ইনিংস।

তৃতীয় দিনের ২ উইকেট মিলিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুলের শিকার ৪ উইকেট। ৩ উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান।