লক্ষ্য যখন ৩৩৯ রানের, আর বাকি আছে প্রায় ৩ দিনের খেলা, তখন জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগও ছিল না। সে কারণেই সম্ভবত টেস্ট নয়, ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। যার খেসারত হিসেবে মাত্র ১২৩ রানেই শেষ দ্বিতীয় ইনিংস! ধনাঞ্জয়া ২৪ রানে ৫টি ও হেরাথ ৪৯ রানে ৪ উইকেট তুলে নিলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় মাত্র ২৯.৩ ওভারে। ২১৫ রানে এই জয়ের সঙ্গে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০তে জিতে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা।
জয়ের কোনও সম্ভাবনাই তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে মিডল ও লোয়ার মিডল অর্ডার যেভাবে ধসে পড়েছে, তাতে বাংলাদেশের টেস্ট খেলার সামর্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠলেও দোষের হবে না। বিশেষ করে মাহমুদউল্লাহর আউটের পর তছনছ হয়ে যায় সব। ওই সময় মাত্র ৪ রান তুলতে বাংলাদেশ হারায় ৪ উইকেট, যেখানে মাহমুদউল্লাহর (৬), সঙ্গে ছিল মুশফিকুর রহিম (২৫), সাব্বির রহমান (১) ও আব্দুর রাজ্জাকের (২) উইকেট।
পারেননি লিটন দাসও। চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৪ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ম্যাচটি ড্র করার পেছনে তার ওই ইনিংসের অবদান অনেক। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৫ রান করা এই উইকেটরক্ষকের কাছে বাড়তি চাওয়াই ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে। যদিও চট্টগ্রামের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারেননি তিনি। আকিলা ধনঞ্জয়ার লাফিয়ে ওঠা বল তার ব্যাটের হাতলে লেগে উঠে যায়, সহজ ক্যাচটি শর্ট লেগে ফিল্ডিং করা কুশল মেন্ডিসের ধরতে কোনও অসুবিধাই হয়নি। আউট হওয়ার আগে লিটনের ব্যাট থেকে আসে ১২ রান।
লাঞ্চ বিরতির পরপরই ফিরে গেছেন মুমিনুল। চমৎকার ব্যাটিংয়ে আশা জাগালেও বেশিদূর এগোতে পারেননি তিনি। প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতা ঝেড়ে ব্যক্তিগত স্কোরের সঙ্গে দলের রান বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু লাঞ্চের পর হেরাথের বাঁক খাওয়া বলটা ঠিক বুঝতে পারলেন না। বল তার ব্যাট ছুঁয়ে গেলে গ্ল্যাভসবন্দি করতে ভুল হয়নি নিরোশান ডিকবেলার। আউট হওয়ার আগে মুমিনুল করে যান ৪৭ বলে ৩৩ রান।
ব্যাটিং করছিলেন ওয়ানডে মেজাজে, যার খেসারতও দিতে হলো ইমরুল কায়েসকে। দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন তিনি। রঙ্গনা হেরাথের আগের বলে মারলেন ছক্কা। পরের বলটা অবশ্য রক্ষণাত্মকভাবেই খেলেছিলেন ইমরুল। কিন্তু বাঁক খাওয়া বলটা তার ব্যাট ছুঁয়ে আশ্রয় নেয় উইকেটরক্ষক নিরোশান ডিকবেলার গ্ল্যাভসে। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ২২ বলে করেন ১৭ রান।
৩৩৯ রানের কঠিন লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ফিরে যান তামিম ইকবাল। তার আউটে আরও কঠিন হয়ে পড়ে বাংলাদেশের পথ। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি তামিম। আউট হয়েছিলেন মাত্র ৪ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে এই ওপেনারের কাছে প্রত্যাশা তাই একটু বেশিই ছিল। তাছাড়া শ্রীলঙ্কার ছুড়ে দেওয়া কঠিন লক্ষ্যে তামিমের কাছ থেকে ভালো একটি ইনিংস খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
যদিও প্রত্যাশাটা একেবারেই মেটাতে পারেননি তিনি। দিলরুয়ান পেরেরার বলে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ধরেন প্যাভিলিয়নের পথ। আর এবার নামের পাশে যোগ করতে পেরেছেন মাত্র ২ রান।
ম্যাচ ও সিরিজসেরার পুরস্কার জেতা রোশেন সিলভার হার না মানা ৭০ রানের ওপর ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কা অলআউট হয় ২২৬ রানে। আর বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে করেছিল ১১০ রান।