দুই দলের খেলোয়াড়রা। ছবি: সাজ্জাদ হোসেনশারীরিক অক্ষমতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তাদের সামনে। ‘দুর্বলতা’ই বরং করেছে তাদের শক্তিশালী। স্বাভাবিক না হয়েও অস্বাভাবিক কাজ দিয়ে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছেন কোটি মানুষকে। সমাজের বিভিন্ন জায়গায় বিচরণ করা এই শারীরিক প্রতিবন্ধীরা নিজেদের আলো সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছেন সম্ভবত ক্রীড়াঙ্গনে।
বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশের শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও তাদের ক্ষমতার জানান দিচ্ছেন ক্রীড়াঙ্গনের ভিন্ন ভিন্ন খেলায়। গত মাসেই যেমন ভারত থেকে শিরোপা জিতে ফিরেছে হুইলচেয়ার ক্রিকেট দল। এবার ভারতীয় এক দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ হুইলচেয়ারের আরেকটি দল।
চলছে মাঠের লড়াই। ছবি: সাজ্জাদ হোসেনস্বাভাবিক মানুষের মতো চলাফেরা করতে না পারলেও মনের শক্তিতে এগিয়ে চলেছে তাদের পথ। হুইলচেয়ারকে শুধু ‘চেয়ারে’ আটকে না রেখে নিজেদের ছড়িয়ে দিচ্ছে বিশ্বের বুকে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন ‘ড্রিম ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন’-এর আয়োজনে টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হুইলচেয়ার ক্রিকেট দল তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ। ভারতের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে নিজেদের নতুন করে জয়ের শপথ নিয়েই শনিবার নেমেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল মাঠে।
তবে বেসরিক বৃষ্টি তার পুরোটা দেখতে দিল না। বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্তই হয়ে গেছে বাংলাদেশ-ভারতের প্রথম টি-টোয়েন্টি। যদিও তার আগে ব্যাটে নিজেদের শক্তি দেখিয়েছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। বৃষ্টির আগে ১৮ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে স্কোরে জমা করেছিল স্বাগতিকরা ১২৬ রান। এরপর আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়ার ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
ভারতীয় বোলারদের রীতিমত শাসন করেছেন সাগর। বাংলাদেশি এই ব্যাটসম্যান ৩৮ বলে খেলেন ঝড়ো ৫৬ রানের ইনিংস। তার সঙ্গে দুটো কার্যকরী ইনিংস খেলেছেন আল-আমিন (১৯ বলে ১৮) ও শরীফ (২৮ বলে ১৪)। আর ভারতের সবচেয়ে সেরা বোলার আনমূল নিয়েছেন ৪ উইকেট।
জাতীয় সঙ্গীতের সময় বাংলাদেশ হুইইলচেয়ার দল। ছবি: সাজ্জাদ হোসেনএর আগে দ্বিপাক্ষিক এই সিরিজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন, জগন্নাথ হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. অসীম সরকার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক সালমা আহমেদ, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মিজানুর রহমান। আর অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ‘ড্রিম ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন’-এর সভাপতি মো. হেদায়তুল আজিজ মুন্না।