বদলে যাওয়া সাব্বির

নিজেকে বদলে ফেলেছেন সাব্বিরনিজেকে পাল্টে ফেলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সাব্বির রহমান। নিজের ভিডিও দেখেই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য তার। ব্যাটিংয়ের টেকনিক, শট সিলেকশন বদলে ফেলছেন তিনি।

সাব্বির মানেই আগ্রাসী ব্যাটিং। তবে আগ্রাসী মনোভাবের কারণে তার অনেক সম্ভাবনাময় ইনিংসের অকালমৃত্যু হয়েছে। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় দলের হয়ে তার আজও  কোনও সেঞ্চুরি নেই। অথচ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক ২০১৪ সালে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিত সুযোগ পেলেও টেস্ট খেলতে পেরেছেন মাত্র ১১টি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট দলে সুযোগ পাননি। কিন্তু শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে মাঠে নেমেই জ্বলে উঠেছেন সাব্বির।

চট্টগ্রামে প্রথম আনঅফিশিয়াল টেস্টে ১৬৫ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস এসেছে তার ব্যাট থেকে। সাব্বিরের ব্যাটিং দেখে নির্বাচক হাবিবুল বাশারও তার প্রশংসায়  উচ্ছ্বসিত, ‘সাব্বির দীর্ঘসময় উইকেটে ছিল। আমি ওকে এভাবে খেলতে দেখিনি। এমনকি যে সব শটে ওর দুর্বলতা আছে,  সেগুলোও খেলার চেষ্টা করেছে। তার এমন পরিবর্তনে আমি দারুণ খুশি।’

জাতীয় দলের সাবেক নির্বাচক হাবিবুলের এমন উচ্ছ্বাসের কারণ আছে। চট্টগ্রামে সাব্বির মাঠে কাটিয়েছেন সাত ঘণ্টারও বেশি! স্ট্রাইক রেট ছিল ৫৭.৪৯। যে কোনও ধরনের ক্রিকেটে এটাই সাব্বিরের সবচেয়ে বড় ইনিংস।

কঠোর পরিশ্রম করছেন জিমেএমন সাফল্যের পেছনে রহস্য কী? বাংলা ট্রিবিউনকে সাব্বির জানালেন, ‘কোনও রহস্য নেই। গত দুই/তিন মাস ধরে ব্যাটিং নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করছি। কখনও একাডেমিতে, কখনও জাতীয় দলের সঙ্গে অনুশীলন করছি। আমি ভেবেছি,  টি-টোয়েন্টি কিংবা ওয়ানডেতে পারলে টেস্টে কেন পারবো না! এই ভাবনা থেকেই আমার ভেতরে ভালো করার অনুপ্রেরণা কাজ করেছে।’

নিজেকে বদলানোর জন্য অনেক পরিশ্রম করছেন সাব্বির, ‘সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি মানসিক বিষয় নিয়ে। মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করেছি। কীভাবে লম্বা ইনিংস খেলা যায় তা নিয়ে ভেবেছি। ইউটিউবে নিজের ইনিংসগুলো দেখেছি, নিজের ভুল নিয়ে কাজ করেছি। তাই ব্যাটিংয়ে নেমে আগের চেয়ে কম ভুল হচ্ছে। কঠোর পরিশ্রম করেছি বলেই সাফল্য পেয়েছি।’

গত ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন সাব্বির। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিনি নেই। তাই জাতীয় দলে ফেরার প্রতিজ্ঞা তার কণ্ঠে, ‘জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া সব সময়ই হতাশার। জাতীয় দলে অনেক দিন ধরে খেলছি। যেভাবে দায়িত্ব পালন  করা উচিত সেটা পারিনি। সামনে সুযোগ পেলে নিজের কাজটা ঠিকভাবে করার চেষ্টা করবো। অবশ্যই চাই যত দ্রুত সম্ভব দলে ফিরতে।’

চট্টগ্রামে খেলেছেন ক্যারিয়ারসেরা ১৬৫ রানের ইনিংসনিজেই বুঝতে পারছেন, আগের চেয়ে তিনি পরিণত। এ বিষয়ে সাব্বিরের বক্তব্য,  ‘আমার সব কিছুতেই ম্যাচিউরিটি এসেছে, খেলাটাও ভালো বুঝতে পারছি। এখন থেকে ধারাবাহিকভাবে রান করতে চাই, নিয়মিত লম্বা ইনিংস খেলতে চাই।’