গত ডিসেম্বরে টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি টেস্ট দলের নেতৃত্ব ফিরে পান সাকিব। কিন্তু ইনজুরির কারণে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে পারেননি। টেস্ট অধিনায়কত্বের দ্বিতীয় ইনিংস তাই শুরু করতে যাচ্ছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজে।
২০০৯ সালে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথম টেস্টে ইনজুরিতে পড়ে মাশরাফি দেশে ফিরে আসলে সহ-অধিনায়ক সাকিবের কাঁধে পড়ে নেতৃত্বভার। সেবার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে ৯৫ রান এবং দ্বিতীয় টেস্টে ৪ উইকেটের জয় পায় টাইগাররা। ওটাই ছিল দেশের বাইরে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়।
এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ৬টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। তবে পাঁচবারই বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে। শুধু ২০১১ সালে চট্টগ্রামে ড্র করতে পেরেছিল স্বাগতিকরা।
বুধবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই প্রত্যাবর্তন হচ্ছে টেস্ট অধিনায়ক সাকিবের। ৯ বছর আগে তার নেতৃত্বে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও তিনি অধিনায়ক। তাহলে কি ক্যারিবিয়ানের মাটিতে আরেকটি সিরিজ জয়ের কাহিনী লেখা হবে?
কাজটা অবশ্য কঠিন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ জিতেছিল খর্বশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। বেতন-বোনাস নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ডের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা বয়কট করেছিলেন বাংলাদেশ সিরিজ। অগত্যা জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে কোনও রকমে একটা দল গড়তে বাধ্য হয়েছিল ক্যারিবীয় বোর্ড। বাংলাদেশের তাই টেস্ট আর ওয়ানডে সিরিজ জিততে সমস্যা হয়নি।
৯ বছর আগের তুলনায় বাংলাদেশ দল এখন অনেক অভিজ্ঞ, অনেক পরিণত। ওয়ানডেতে পেয়েছে বেশ কিছু স্মরণীয় সাফল্য, টেস্টে হারিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কার মতো পরাশক্তিকে। ৯টি টেস্টে অধিনায়কত্ব করা সাকিব তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজে সাফল্য পেতে আশাবাদী, ‘অধিনায়কত্ব নিয়ে আমি খুব একটা ভাবছি না। আমি মনে করি, আগের চেয়ে এবার অধিনায়কত্ব করা সহজ হবে। কারণ, আমাদের দল আগের তুলনায় অনেক ভালো।’
অ্যান্টিগা টেস্ট দিয়ে নতুন যুগের সূচনাও হতে যাচ্ছে টাইগারদের। নতুন কোচ স্টিভ রোডসের অধীনে অ্যান্টিগাতেই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। টেস্ট অধিনায়ক সাকিবের দ্বিতীয় ইনিংস আর কোচ রোডসের প্রথম ম্যাচ—নতুনের আবাহনে সাফল্য পাবে তো লাল-সবুজের দল?