প্রতিভা খুঁজে বের করতে মরিয়া বিসিবি

সমন্বয় সভায় বক্তব্য রাখছেন বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন অনেক দিন ধরেই দেশ জুড়ে তরুণ প্রতিভা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এই লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের কোচদের দায়িত্বও দিয়েছে বিসিবি। বিভাগীয় কোচদের অধীনে জেলার কোচরা নির্বাচিত করেন ক্রিকেটারদের। তবে মানসম্মত কোচের অভাবে অনেক সময় ভালো মানের খেলোয়াড় আসতে পারে না পাদপ্রদীপের আলোয়। যে কারণে জাতীয় পর্যায়ে ক্রিকেটারও উঠে আসছে না সেভাবে। সমস্যা সমাধানে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কোচদের আরও সম্পৃক্ত করার চিন্তা-ভাবনা করছে বিসিবি।

শনিবার ৬৪ জেলার কোচদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেছে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগ। সভা শেষে এই বিভাগের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘গত বছর কী কাজ করেছি, কতটা সফল হয়েছি, কোন জায়গায় আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে, কোথায় আরও উন্নতি করতে হবে, কেন উন্নতি করতে পারছি না, নতুন বছরে আমাদের কী করতে হবে-এসব বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’

কয়েক বছর ধরেই বয়সভিত্তিক দলগুলোর খেলোয়াড় নির্বাচনে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। এটা কাটিয়ে উঠতে গেম ডেভেলপমেন্ট কিছু গাইড লাইন দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুজন, ‘বিভাগীয় কোচদের অধীনে জেলার কোচরা কাজ করেন। তবে আমার মনে হয়. দুই পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়ায় কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। আজকের সভায় বয়সভিত্তিক দলগুলোর নির্বাচকরাও ছিলেন। সামনের বছরের পরিকল্পনা মাথায় রেখে তাদের একটা গাইড লাইন দেওয়া হয়েছে।’

তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেট নিয়ে কাজ করার কারণে জেলা পর্যায়ের কোচদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি। কেননা তাদের বাছাই করা তরুণরাই একদিন জাতীয় দলের হাল ধরবেন। কিন্তু এ প্রসঙ্গে গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান তুলে ধরলেন কঠিন বাস্তবতা, ‘বাংলাদেশে বেশির ভাগ কোচই লেভেল টু করা। আমরা লেভেল টু কে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। যেসব জেলায় লেভেল টু কোচ নেই, সেখানে লেভেল ওয়ান কোচ দিয়ে কাজ চালাতে হয়। কোনও কোনও জেলা ক্রীড়া সংস্থায় নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার চাপ থাকে। আমরা এ ধরনের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। আসলে তারা শুধু কোচ নন, নির্বাচকও। তাই তাদের জহুরির চোখ দিয়ে ভালো খেলোয়াড় আনতে হবে। কারণ, এই তরুণরাই একদিন বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে।’

নিয়মিত জেলা লিগ না হওয়ার হতাশা লুকিয়ে রাখতে পারেননি সুজন, ‘জেলা লিগ আমাদের অধীনে নয়, জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনে। অনেক জেলায় লিগ হয় না, কোথায় আবার লিগ হলেও রেলিগেশন সিস্টেম নেই। আমাদের ক্রিকেটের জন্য এটা চিন্তার বিষয়।’

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আরও বললেন, “ক্রিকেটাররা গেম ডেভেলপমেন্টের আন্ডারে খেলা শুরুর অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু তাদের ম্যাচ খেলার সংখ্যা কমে যাচ্ছে, যা আমাদের ক্রিকেটের জন্য বড় হুমকি। জেলা পর্যায়ের ক্রিকেটাররা অনেক কষ্ট করে। তবে সমস্যা হচ্ছে, তাদের গেম সেন্সের ভীষণ অভাব। বিদেশি কোচরা প্রায়ই অভিযোগের সুরে বলেন, ‘আপনাদের ক্রিকেটারদের নলেজ কম!’ এর কারণ একটাই, ছেলেরা বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় না।”