আধুনিকতার ছোঁয়ায় মনোমুগ্ধকর দুবাই স্টেডিয়াম

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামআন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম ডাক নেই বললেই চলে। এবার তাদের মাটিতেই হচ্ছে এশিয়া কাপ, কিন্তু বাছাই পর্বের বাধা পেরোতে না পারায় দর্শক তারা। তাতে কী! আইসিসির সহযোগী সদস্য হলেও দেশটি ক্রিকেট আয়োজনে কয়েক ধাপ এগিয়ে। তাদের স্টেডিয়ামে আধুনিকতার ছোঁয়া কল্পনাকেও হার মানাবে। বলা হচ্ছে, এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচের ভেন্যু দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কথা।

পাকিস্তানের হোম ভেন্যু সংযুক্ত আরব আমিরাতের  এই মাঠ। প্রথমবার তারা আয়োজন করছে এশিয়া কাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট, শহরে এনিয়ে তেমন উত্তেজনা না থাকলেও সাজসাজ রব স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে।

শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে স্পোর্টস সিটি সেন্টার, দেখতে অনেকটাই বাংলাদেশের বিকেএসপির মত। তবে এখানে রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এখানে বিশাল একটি হোটেল তৈরি হচ্ছে। সেটাকে বলতে পারেন ‘গেম ভিলেজ’, যেখানে একসঙ্গে ৩০০ জন খেলোয়াড় থাকতে পারবেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি এখানে রয়েছে ফুটবল, হকি ও গলফের মাঠ।

এছাড়া আইসিসির সদর দফতর রয়েছে স্পোর্টস সেন্টারের পাশেই। এখান থেকেই ক্রিকেট বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্ব ক্রিকেটের প্রধান সংস্থা।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তানের ম্যাচ দিয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিষেক হয় ২০০৯ সালে। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার ম্যাচ নিয়ে দুবাইতে গড়াল ২৪তম ওয়ানডে ম্যাচ। ৪৩টি টি-টোয়েন্টি হলেও এখানে হয়েছে ১১টি টেস্ট।

২৫ হাজার আসন বিশিষ্ট এই স্টেডিয়ামকে বিশ্বের সেরা বলে দাবি করেছে স্থানীয়রা। এখানে রয়েছে ৮টি পিচ। কিছুদিন আগে পুরানো দুটির উপর নতুন করে দুটি পিচ বসানো হয়েছে। এই মাঠে ফ্লাড লাইট ব্যতিক্রমী। ছোট ছোট ৪০০ বাল্ব দিয়ে পুরো স্টেডিয়ামকে সাজানো হয়েছে। প্রত্যেকটি বাল্বের ভোল্ট ২ হাজার ওয়াট। স্টেডিয়াম তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৪০০ মিলিয়ন ডলার।

স্টেডিয়ামে জায়গা পেয়েছেন ক্রিকেটের রথী-মহারথীরা। ভিআইপি গেট দিয়ে ঢুকতেই দেখা যাবে লিজেন্ডদের প্রাণোচ্ছ্বল ছবি। রডনি মার্শ থেকে শুরু করে ডন ব্র্যাডম্যান, ওয়াসিম আকরাম ও ব্রায়ান লারার ছবি। নিচ তলায় ড্রেসিংরুম, হল রুম, মিডিয়া ব্রিফিং রুম ও স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অফিস। দোতলায় রয়েছে ১৮টি ভিআইপি বক্স। প্রত্যেকটিতে বসতে পারবেন ১২ জন করে। আছে দুইটি হসপিটালিটি বক্স, যেখানে ২৪ জন করে ৪৮ জন একসঙ্গে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিন তলায় রয়েছে মিডিয়া রুম, ৮৫টি আসন রয়েছে সেখানে। রয়েছে ওয়াইফাই, ইন্টারনেটসহ সব রকম সুযোগ সুবিধা। আধুনিক স্টেডিয়ামে যত সুবিধা প্রয়োজন তার পুরোটাই আছে এখানে। সংবাদ কর্মীদের জন্য ডাইনিংরুমটিও আধুনিক। যেখানে খাওয়ার পাশাপাশি সরাসরি খেলাও দেখা যাবে। স্টেডিয়ামের বাইরে ও ভেতরে রয়েছে ১৪৪টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। ৮৫*৮৯ ফিট দুইটি অটোমেটিক সাইড স্ক্রিন। সবমিলিয়ে সুযোগ সুবিধার দিক দিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা স্টেডিয়াম বলা যেতে পারে একে।