ফিরেই মালিঙ্গার ঝলক

লাসিথ মালিঙ্গালাসিথ মালিঙ্গার শেষ দেখছিলেন অনেকে। কিন্তু ওসবে কান দেননি বিশ্বকাপে রেকর্ড দুটি হ্যাটট্রিকের মালিক। শুধু সুযোগ খুঁজছিলেন। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে জানিয়ে দিলেন জাতীয় দলে ফিরতে হলে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স করতে হবে। সেই সুযোগটা পেয়েই কাজে লাগালেন তিনি এবং ডাকও পেলেন। এক বছর পর প্রত্যাবর্তনটাও হলো দুর্দান্ত।

গত জুলাইয়ে হাথুরুসিংহে জানান, মালিঙ্গাকে সুযোগ দেওয়া যাবে। কিন্তু পারফরম্যান্স করে দেখাতে হবে। প্রাদেশিক টি-টোয়েন্টিতে ৬ ম্যাচে ৩ উইকেট নিলেন ৮.৬২ ইকোনোমিক রেটে। ডেথ ওভারের দুর্দান্ত বোলারের ওপর আস্থা রাখলেন শ্রীলঙ্কা কোচ। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন হাথুরুসিংহে দৃঢ়কণ্ঠে বলেছিলেন, মালিঙ্গাকে আবারও দেখা যাবে আগের রূপে। কোচের আস্থার প্রতিদান ঠিক দিয়েছেন তিনি প্রথম ওভারের শেষ দুই বলে লিটন দাস ও সাকিব আল হাসানকে ফিরিয়ে।

প্রথম স্পেলে চার ওভারে ১ মেডেনসহ ৮ রান দিয়ে ২ উইকেট! দারুণ শুরু। এই স্পেলে তার আফসোসে কাটল তৃতীয় ওভারে, দুইবার জীবন পেয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন। লঙ্কান অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস একবার ক্যাচ ছাড়লেন, আরেকবার ক্যাচ ধরলেও নো বলের কারণে ছিল ফ্রি হিট।

জীবন পাওয়া মিঠুন যখন মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে করে প্রতিরোধ গড়ছেন, তখন মালিঙ্গা আবারও চাপে ফেললেন বাংলাদেশকে। নিজের পঞ্চম ও ষষ্ঠ ওভারে মিঠুন ও মাহমুদউল্লাহকে কুশল পেরেরার ক্যাচ বানালেন ৩৫ বছর বয়সী পেসার।

এতেই চার বছর পর ওয়ানডেতে সেরা পারফরম্যান্স দেখালেন মালিঙ্গা। ২০১৪ সালের ৯ জুলাই পাল্লেকেলেতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষবার ৪ উইকেট নেন শ্রীলঙ্কার এই পেসার। ওই বছর ৮ মার্চ এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানকে হারাতে শেষবার ৫ উইকেট নেন মালিঙ্গা। সেটার পুনরাবৃত্তি এবার করতে না পারলেও ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে দারুণ ফেরা হলো তার।

বলা চলে, বিশ্বকাপের আগে ‘শেষ ঝলক’ দেখানোর সুযোগ পেয়ে সেটা ভালোভাবে কাজে লাগালেন মালিঙ্গা। হয়তো বিশ্বকাপ দলে এক পা দিয়েই রাখলেন তিনি।