ইমামের বিদায়ে বাংলাদেশের স্বস্তি

ইমাম-উল-হক খেলেছেন ৮৩ রানের ইনিংসএশিয়া কাপের ফাইনালে যেতে বাংলাদেশের চাই আর ৩ উইকেট। প্রতিরোধ গড়া ইমাম-উল-হকের বিদায়ে পাকিস্তান হারিয়েছে ৭ উইকেট।

একপ্রান্ত আগলে রেখে পাকিস্তানকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন ইমাম। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে অস্বস্তিতে রেখেছিলেন এই ওপেনার। মাহমুদউল্লাহর বলে দূর হলো সেই অস্বস্তি। এই স্পিনারের বল ক্রিজ ছেড়ে এসে মারতে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন তিনি। আউট হওয়ার আগে ইমাম খেলে যান ৮৩ রানের চমৎকার ইনিংস। ১০৫ বলের কার্যকরী ইনিংসটি তিনি সাজান ২ চার ও ১ ছক্কায়।

৫ উইকেট নেই পাকিস্তানের

আবার এলোমেলো পাকিস্তান। বাংলাদেশি বোলারদের সামনে কঠিন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে তাদের ব্যাটসম্যানদের। চমৎকার বোলিংয়ে বাংলাদেশ তুলে নিয়েছে পাকিস্তানের ৫ উইকেট।

শোয়েব মালিকের বিদায়ে বড় ধাক্কা খায় পাকিস্তান। সেই ধাক্কাটা আরও জোরে লাগে খানিক পর শাদাব খান প্যাভিলিয়নের পথ ধরলে। সৌম্য সরকারের বলে মাত্র ৪ রান করে আউট হয়ে গেছেন তিনি। ব্যাট হাতে একেবারেই ব্যর্থ হওয়া সৌম্য বোলিংয়ে পেয়েছেন সাফল্য। তার বাউন্সার পুল করতে গিয়ে শাদাব ধরা পড়েন বদলি উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্ল্যাভসে।

মাশরাফির দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরলেন মালিক

বাজপাখির মতো ছোঁ মেরে তালুবন্দি করলেন বল, এরপর দাঁড়িয়ে উদযাপন করলেন উইকেট। মাশরাফির দাম্ভিক উদযাপনটা সত্যিই মানায়, উইকেটটা যে শোয়েব মালিকের। এর ওপর আবার ফর্মে থাকা পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানের ক্যাচটা নিলেন তিনি যেভাবে।

ইমাম-উল-হক ও মালিকের জুটিতে প্রতিরোধটা ভালোই গড়েছিল পাকিস্তান। রুবেল হোসেনের বলে ভাঙল সেই প্রতিরোধ। এই পেসারের বল মিড উইকেট দিয়ে খেলতে গিয়ে মালিক ধরা পড়েন মাশরাফির হাতে। সুপারম্যানের মতো উড়ে বল তালুবন্দি করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে মালিক ৫১ বলে করেন ৩০ রান।

মোস্তাফিজের জোড়া ধাক্কা

বোলিংয়ে দারুণ শুরু হলো বাংলাদেশের। মোস্তাফিজুর রহমান তার টানা দুই ওভারে দুটি উইকেট নিয়েছেন। এশিয়া কাপ সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে মাত্র ১৮ রানে পাকিস্তানের ৩ উইকেট নেই।

প্রথম ওভারেই পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বাংলাদেশি স্পিনার তার পঞ্চম বলে মিড অনে ফখর জামানকে (১) রুবেল হোসেনের ক্যাচ বানান।

পরের ওভারে মোস্তাফিজ তার দ্বিতীয় বলে বাবর আজমকে (১) এলবিডাব্লিউ করেন। বাঁহাতি এই পেসার তার দ্বিতীয় ওভারে অফ কাটারে সরফরাজ আহমেদকে ১০ রানে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানান।

পাকিস্তানের লক্ষ্য ২৪০

বাংলাদেশকে উদ্ধার করলেও আক্ষেপ থেকে গেল মুশফিকুর রহিমের। মাত্র ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি হলো না তার। সপ্তম সেঞ্চুরি থেকে হাতছোঁয়া দূরত্বে বিদায় নিলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াই করার মতো স্কোর এনে দিয়েছেন তিনি। এশিয়া কাপ ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের ২৪০ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১২ রানে ৩ উইকেট হারালে মুশফিকের সঙ্গে মোহাম্মদ মিঠুনের একশ ছাড়ানো জুটিতে ২৩৯ রান করে বাংলাদেশ। মুশফিকের ৯৯ ও মিঠুনের ৬০ রানের ইনিংসই এই স্কোরের ভিত গড়ে দেয়। ৪৮.৫ ওভারে সব উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

জুনাইদ খান ৪ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সবচেয়ে সফল বোলার। দুটি করে নেন শাহীন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলী।