আরও একবার জ্বলে উঠতে হবে মোস্তাফিজকে

মোস্তাফিজের অফ কাটার খেলতে পারলেন না আফগান ব্যাটসম্যানজ্বলে উঠতে হবে! মোস্তাফিজুর রহমান তো জ্বলছেনই। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ফাইনালে তুলতে তার অবদান কম কোথায়? কিন্তু নিভে যাওয়া চলবে না। ফাইনালে এবার সামনে ভারত। ওয়ানডে অভিষেকে যেভাবে তার বোলিং আগুনে পুড়ে ছাই করে দিয়েছিলেন এই দলকে, ঠিক সেভাবে আরও একবার জ্বলে উঠতে হবে বাংলাদেশের কাটার মাস্টারকে।

২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে একদিনের ক্রিকেট অভিষেকে বাজিমাত করেছিলেন মোস্তাফিজ। মাশরাফি মুর্তজা নতুন বল প্রথম ওভারেই তুলে দেন তার হাতে। আর তাতেই রোহিত শর্মা-শিখর ধাওয়ানদের কোণঠাসা করে ম্যাচ জেতান তরুণ এই পেসার। প্রথম ম্যাচে ৫০ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে অভিষেক রাঙান তিনি। সব মিলিয়ে ভারতের বিপক্ষে ওই তিন ম্যাচে ১৩ উইকেট ঝুলিতে ভরেন মোস্তাফিজ। বাংলাদেশ সিরিজ জেতে ২-১ ব্যবধানে।

শুক্রবার আরও একবার ভারত বধের গুরু দায়িত্ব তুলে নিতে হবে মোস্তাফিজকে। শেষ দুই ম্যাচে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ছন্দময় বোলিং করেছেন তিনি। এবার ভারতের বিপক্ষে একই পারফরম্যান্স করতে পারলেই বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হওয়া অসম্ভব নয়। মাশরাফিও তার এই বোলিং অস্ত্রকে নিয়ে আশাবাদী, ‘শেষ দুটি ম্যাচে মোস্তাফিজের পারফরম্যান্স অসাধারণ। ফাইনালেও আশা করি তার কাছ থেকে সেরাটা পাব।’

তবে মোস্তাফিজকে নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণও আছে। নিজের অভিষেক সিরিজের পর ভারতের বিপক্ষে আরও দুটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যেখানে তার বলগুলো অবলীলায় খেলেছে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও এশিয়া কাপ সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে সুবিধা করতে পারেননি মোস্তাফিজ। ওই দুই ম্যাচে তার উইকেটশূন্য থাকা অবাক হওয়ার মতো।

তিন বছর আগে ভারত বধের নায়ক এবার কী করেন তার অপেক্ষাতেই ভক্তরা। মোস্তাফিজ দারুণ উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ইনজুরির কারণে অভিষেকের পারফরম্যান্সে কিছুটা হলেও ভাটা পড়ে। তবে ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পাচ্ছেন ‘দ্য ফিজ’।

পাকিস্তানকে হারানোর দিনে সাবেক অধিনায়ক মুশফিক প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মোস্তাফিজকে, ‘অসাধারণ বোলিং করেছে সে। একদম চ্যাম্পিয়নের মতো খেলছে। আশা করি এর ধারাবাহিকতা ফাইনালে বজায় রাখবে।’

মুশফিকের সঙ্গে সুর মিলিয়ে গোটা বাংলাদেশ ‘ম্যাজিশিয়ান’ মোস্তাফিজের জাদু দেখার অপেক্ষায়। ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে দমিয়ে রাখতে মাশরাফির প্রধান অস্ত্রই যে তিনি। এখন প্রত্যাশা, এশিয়া কাপের শিরোপা খরা কাটাতে অধিনায়কের আস্থার প্রতিদানটা বেশ ভালো করেই দেবেন কাটার মাস্টার!