‘আমি যে কোনও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত’

এ বছর টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডেতে অভিষেকের পর টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছেন আরিফুলগত ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক আরিফুল হকের। এশিয়া কাপের দলে থাকলেও একটি ম্যাচেও মাঠে নামার সুযোগ হয়নি। তাই ওয়ানডে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দলে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। আর শুক্রবার চট্টগ্রামে ওয়ানডে অভিষেক হলো আরিফুলের। পরপর দু দিন দুটো সুখবর পেয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মেতে উঠলেন ২৬ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।

বাংলা ট্রিবিউন: এ বছর টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডেতে অভিষেকের পর টেস্ট দলেও সুযোগ পেলেন। কতটা রোমাঞ্চিত?

আরিফুল: সত্যি বলতে খুব বেশি রোমাঞ্চিত নই। আসলে মাঠে পারফর্ম করতে পারলেই বেশি ভালো লাগে আর সেই কাজটাই করতে চাই। বেশি ভাবলে নিজের ওপরে চাপ পড়ে, তাই স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছি। যদিও ভেতরে ভেতরে কিছুটা অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে। 

বাংলা ট্রিবিউন: সাব্বিরের জায়গায় হয়তো আপনাকে খেলতে হবে। হোম কন্ডিশনে স্লো উইকেটে অনেক সময় শেষ দিকে দ্রুত রান তুলতে হতে পারে। এ সম্পর্কে আপনার কী ভাবনা?

আরিফুল: টেস্ট ম্যাচে ওভাবে ক্লিনিং হিট চিন্তা করা যাবে না। তবে পরিস্থিতি ডিমান্ড করলে তো আক্রমণাত্মক খেলতেই হবে। অ্যাগ্রেসিভ শট খেলতে পারি বলেই টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ পেয়েছিলাম। টেস্টেও পাওয়ার হিটিং প্রয়োজন হলে সেভাবেই খেলবো। আমাকে হয়তো লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে জুটি গড়তে হবে। যে পরিস্থিতি আসুক না কেন, আমি মানিয়ে নিতে আত্মবিশ্বাসী।

দুবাই থেকে ফিরে জাতীয় লিগে খেলতে নেমেই ডাবল সেঞ্চুরি পেয়েছেন এই অলরাউন্ডারবাংলা ট্রিবিউন: পেস বোলিংয়ে দক্ষতা আপনাকে এগিয়ে রাখছে। নিজের বোলিং নিয়ে আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী?

আরিফুল: প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিয়মিত বোলিং করার অভিজ্ঞতা আছে আমার। একটা জায়গায় টানা বোলিং করতে পারি, এটা আমার বড় অস্ত্র। বল হাতে সাফল্য পেতে আমি আত্মবিশ্বাসী। আশা করি, জাতীয় লিগের অভিজ্ঞতা টেস্ট ক্রিকেটে কাজে লাগাতে পারবো।

বাংলা ট্রিবিউন: দুবাই থেকে ফিরে জাতীয় লিগে খেলতে নেমেই ডাবল সেঞ্চুরি পেয়েছেন। ক্যারিয়ার সেরা ২৩১ রানের ইনিংসটা নিশ্চয়ই আপনাকে আত্মবিশ্বাস দেবে?

আরিফুল: অবশ্যই, এমন ইনিংস যে কোনও ব্যাটসম্যানের মনেই আত্মবিশ্বাস এনে দেয়। দুবাই-আবুধাবির কঠিন কন্ডিশন থেকে এসে রান করা সহজ ছিল  না। আমি নিজে কিছু ট্যাকটিক্স অ্যাপ্লাই করতে পেরেছি।

বাংলা ট্রিবিউন: ঘরোয়া ক্রিকেটে উইকেট নিয়ে অনেকের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা। তাদের মতে, দেশের উইকেট  আন্তর্জাতিক মানের না হওয়ায় জাতীয় দলে ব্যাটসম্যানদের পক্ষে রান করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে আপনার কী অভিমত?

আরিফুল: এবারের জাতীয় লিগে উইকেটে অনেক ঘাস ছিল। আগের চেয়ে বেশ ভালো উইকেট। আমি অনেক ধৈর্য নিয়ে ব্যাটিং করেছি, বাজে বল খেলা থেকে  বিরত থেকেছি। 

যে কোনও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে আত্মবিশ্বাসী আরিফুলবাংলা ট্রিবিউন:  আপনি কী মনে করেন ঠিক সময়ে টেস্টে দলে সুযোগ পেয়েছেন?

আরিফুল: অনেকদিন ধরে ক্রিকেট খেলছি, তাই মোটামুটি অভিজ্ঞতা তো হয়েছেই। আমি মনে করি, অভিজ্ঞ হয়েই টেস্ট ক্রিকেটে খেলা উচিত। ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজাত সংস্করণ টেস্ট ক্রিকেট। টেস্টে অভিষেকটা স্মরণীয় করে রাখতে চাই।

বাংলা ট্রিবিউন: দলের সঙ্গে থেকেও সুযোগ না পাওয়া কতটা হতাশার?

আরিফুল: এশিয়া কাপে ছয় ম্যাচ এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে সুযোগ পাইনি। তবে আমি হতাশ নই। আমি নিজের কাজ করে যাচ্ছি। সুযোগ পেলেও সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখছি নিজেকে। জাতীয় দলে এখন অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা। টিকে থাকতে হলে পারফর্ম করতেই হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: নিজেকে কীভাবে ইতিবাচক রাখেন?

আরিফুল: কয়েকদিন আগে আমাদের সাইকোলজি ক্লাস হয়েছে। সেই ক্লাসে যোগ দিয়ে আমার অনেক উপকার হয়েছে। আমি আগের চেয়ে অনেক আত্মবিশ্বাসী, যে কোনও পরিস্থিতির জন্য নিজেকে তৈরি রাখতে মানসিকভাবে প্রস্তুত।