ব্যাটিং ব্যর্থতায় একের পর এক টেস্ট হারছে বাংলাদেশ। গত চার টেস্টের ৮ ইনিংসে অলআউট হতে হয়েছে ২০০’র নিচে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ২৯৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন দ্বিতীয় সেশনের আগেই ভেঙে পড়ে। যাতে সিলেট টেস্টে ১৫১ রানে হার মানে স্বাগতিকরা।
ঘরের মাঠে এমন অসহায় আত্মসমর্পণের ছবি খারাপ কিছুরই ইঙ্গিত দিয়ে যায় তাতে। মাহমুদউল্লাহর মুখটাও কালো হয়ে যায় হতাশায়। বুঝে উঠতে পারেন না কিভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া যায় ব্যাটসম্যানদের এই ব্যর্থতার। তিনি নিজেও মানছেন, ‘এমন ব্যাটিংয়ের ব্যাখ্যা দেওয়া আসলে খুবই কঠিন। টেস্ট ক্রিকেট খেলতে যেমন মানসিকতা থাকা উচিত, আমরা সেই মানসিকতা দেখাতে পারছি না। উইকেট ভালো থাকার পরও ব্যাটসম্যানরা রান করতে পারছে না।’
তাহলে এর শেষ কোথায়? মাহমুদউল্লাহর প্রেসক্রিপশন, ‘টেস্টে আমাদের ব্যাটিংয়ে শৃঙ্খলার ইস্যুতে আরও একটু সচেতন হতে হবে। নিজেদের ওপর বিশ্বাস আরও একটু বাড়াতে হবে। এই ইস্যুগুলো নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। কারণ বেশ কয়েকটি টেস্টে আমাদের ব্যাটিং খুব বাজে হয়েছে। এখন অবশ্যই একটা উপায় বের করতে হবে।’
কোনও উইকেট না হারিয়ে ২৬ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করেছিল দুই ওপেনার লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস। দিনের শুরুতে বাংলাদেশের ঠিক কী পরিকল্পনা ছিল? মাহমুদউল্লাহর কণ্ঠ হতাশায় চেপে ধরে, ‘পরিকল্পনা সফল হয়নি। আমাদের লক্ষ্য ছিল মাঠে ইতিবাচক থাকার। ম্যাচ জেতার জন্যই খেলব, কারণ উইকেট ভালো ছিল।’ কিন্তু সেটা তো হলো না? বাংলাদেশ অধিনায়ক অবশ্য কোনও অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন না, ‘কোনও রকম অজুহাত দেওয়া উচিত হবে না এবং দেওয়া ঠিকও না। আমরাই বাজে ব্যাটিং করেছি, মোটেও ডিসিপ্লিন ছিলাম না। এই কারণেই আমাদের ব্যাটিং ব্যর্থতা।’
উইকেট হারানোয় সফরকারী বোলারদের যতটা না ভূমিকা ছিল, তার চেয়ে বেশি ‘ভূমিকা’ রেখেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা! ভুল শটে আউট হয়েছেন লিটন, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকুর রহিম। মাহমুদউল্লাহর সহজ স্বীকারোক্তি, ‘আমরা অনেক বলে খুব বাজে আউট হয়েছি। আউটগুলো হয়তো দৃষ্টিকটু। টেস্ট ক্রিকেটে এভাবে আউট হওয়া ঠিক নয়। ব্যক্তিগতভাবে বললে আমি আজ (মঙ্গলবার) বেশ ইতিবাচক ছিলাম। ভেবেছিলাম ভালো খেলে বড় জুটি গড়ে লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারব। পরে ওখান থেকে জয়ের দিকে টেনে নেওয়া যাবে।’
যদিও সিকান্দার রাজার অফস্পিনে সুইপ করতে গিয়ে আউট হন তিনি। লাঞ্চ বিরতির আগের ওই আউটে তার আক্ষেপ, ‘পরবর্তী সময়ে আমিও চিন্তা করব, কেন এটা হলো। কারণ তখন লাঞ্চের আগে ছিল। আমার মনে হয়, আমার বড় একটা ভুল ছিল। তারা আমাকে নিয়ে যে পরিকল্পনা করেছিল, সেই ফাঁদে আমি পড়েছি।’