এর আগে টেস্ট অভিষেকে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও আক্ষেপ নিয়ে ক্রিজ ছেড়েছিলেন জাভেদ ওমর ও তামিম ইকবাল। ২০০১ সালে বুলাওয়ে টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৬২ ও ৮৫ রান করেন জাভেদ। তামিম ইকবালও অল্পের জন্য তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৮ সালে ডানেডিনে ৫৩ ও ৮৪ রান করেন বাঁহাতি ওপেনার। তাদের ছাপিয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছিলেন এবার সাদমান। নান্দনিক ব্যাটিংয়ে ধৈর্য ধরে ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে ছিলেন তিনি।
টেস্ট ক্রিকেটে ১৮ বছর পার করেছে বাংলাদেশ। এত বছরেও টেস্ট ক্রিকেটের আদর্শ ওপেনিং জুটির দেখা পায়নি। এই সময়ে ১৪ জন ওপেনারের অভিষেক হলেও তামিম-ইমরুল কায়েস ছাড়া কেউই নিয়মিত হতে পারেননি।
ফর্মহীনতায় কিংবা ইনজুরি, যাই হোক- দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয় ইমরুলকে। তার বদলি হিসেবে ১৪তম ওপেনার হিসেবে অভিষেক হয় সাদমানের। তার সামনে সুযোগ ছিল নিজের অভিষেক ম্যাচে ওপেনার হিসেবে অন্যদের ব্যর্থতা কাটানোর! কিন্তু সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও পারলেন না।
শুক্রবার শুরু থেকেই অসাধারণ ছিলেন সাদমান। বলের চরিত্র বুঝে সাবলীল ভঙ্গিমায় খেলছিলেন প্রতিপক্ষের বল। ভালো খেলতে থাকা সাদমান ৭৬ রানে কিছুটা ভুল বুঝেই আউট হলেন। বিশুর বলটি হয়তো খানিকটা বাঁক নেবে ভেবেছিলেন সাদমান, সেই হিসেব করেই সামনে পা বাড়িয়ে খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু লাইন মিস করে উল্টো এলবিডাব্লিউর শিকার হন চা-বিরতির কিছুক্ষণ আগে।
বাংলাদেশের ৯৪তম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হওয়া সাদমানের মাথায় ক্যাপ পরিয়ে দেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। আর এতেই টেস্ট ক্রিকেটের অভিজাত আঙিনায় যাত্রা শুরু হয় সবশেষ জাতীয় লিগে সর্বোচ্চ রান করা এই ওপেনারের।
অভিষেক হওয়ার আগের দিন সাকিব আল হাসানের প্রশংসা পেয়েছেন সাদমান। ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক বলেছেন, ‘সাদমান টেস্ট ক্রিকেটের জন্য দারুণ সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়। আমি যতটা দেখেছি ও শুনেছি, তার খেলার ধরন টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে মানানসই। যদি সুযোগ পায়, আশা করি দলের জয়ে ভূমিকা রাখতে পারবে।’ নিজেকে প্রমাণ করতে খুব বেশি সময় নিলেন না এই ওপেনার। বাংলাদেশের ১৮তম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকে হাফসেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি।
অভিষেকে তার হাফসেঞ্চুরির চেয়ে বড় প্রাপ্তি টেম্পারমেন্ট। সাদমানের পুরো ইনিংসে টেম্পারমেন্টের প্রদর্শন ছিল অসাধারণ। ২২০ মিনিট ক্রিজে থেকে ১৯৯ বলে ৬ চারে সাদমান তার ৭৬ রানের ইনিংসটি সাজান। এমন ইনিংসের পর ২০০৩ সালে করাচি টেস্টে রাজিনের অভিষেক ৬০ রানের কথা মনে করিয়ে দেয়। ওই টেস্টে শোয়েব আখতারের দ্রুতগতির বলগুলোর সামনে ২৯১ মিনিট ক্রিজে দাঁড়িয়ে লড়াই করেন রাজিন। সাদমানের ব্যাটিংয়েও সেই ধারা কিছুটা হলেও লক্ষ করা গেছে।