চোট কাটিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ফেরাটা সুখকর ছিল না তামিমের। যদিও ছন্দে ফিরতে সময় লাগেনি তার। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন তিনি। পারফরম্যান্সের ধারা সচল রেখে শেষ ওয়ানডেও পেলেন ফিফটির দেখা। ২৪তম ওভারে দেবেন্দ্র বিশুর বল সীমানাছাড়া করে পূরণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৪তম হাফসেঞ্চুরি।
এর কিছুক্ষণ পর সৌম্যও পান ফিফটির দেখা। ব্যাটিং অর্ডারে প্রোমশন পেয়ে তিন নম্বরে নেমে তার কার্যকরিতার প্রমাণ রাখলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সৌম্য পূরণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফসেঞ্চুরি।
১০০ ছাড়ালো বাংলাদেশ
তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে ১০০ ছাড়ালো বাংলাদেশ। দারুণ শুরুর পর লিটন দাসের উইকেট হারিয়ে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে টাইগাররা। বিশাল ছক্কা মেরে দলের ১০০ রান পূরণ করেন সৌম্য। ২০.৫ ওভারে মারলন স্যামুয়েলসের বলে ৮৯ মিটারের বিশাল ছয় হাঁকান সৌম্য।
ইনিংস বড় করতে পারলেন না লিটন
শুরুটা দারুণ হয়েছিল লিটন দাসের। কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে পারলেন না এই ওপেনার। কিমো পলের বলে সহজ ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে খেলেছিলেন ৪১ রানের ইনিংস। যদিও দ্বিতীয় ম্যাচে হতাশ করেছিলেন লিটন। শেষ ম্যাচে উদ্বোধনী জুটিতে ভালো কিছুর প্রত্যাশা ছিল তার কাছে। চমৎকার ব্যাটিংয়ে দারুণ শুরুতে সেই প্রত্যাশার জবাব অনেকটাই মিলছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত ২৩ রানে ভুল শট খেলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। কিমো পলের বলে মিড-অনে রোভম্যান পাওয়েলের হাতে ধরা পড়ার আগে ৩৩ বলের ইনিংসে মারেন ৫ বাউন্ডারি।
বাংলাদেশের দারুণ শুরু
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৯৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা দারুণ হয়েছে বাংলাদেশের। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস চমৎকার ব্যাটিংয়ে বাড়িয়ে নিচ্ছেন দলের রান। সিলেটের সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ৭ ওভার শেষে কোনও উইকেট না হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ২৭ রান।
জিততে বাংলাদেশের চাই ১৯৯
সিলেটে মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু ক্রিজের একপ্রান্ত দারুণভাবে আগলে রাখেন শাই হোপ। তারা টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ক্যারিবিয়ানরা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে করেছে ১৯৮ রান।
সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের চাই ১৯৯ রান। হোপ ১৩১ বলে ১০৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১২১ বলে ৯ চার ও ১ ছয়ে চতুর্থ সেঞ্চুরি পূরণ করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
একাই দলকে উদ্ধার করেছেন হোপ। তার ধারে কাছেও রান করতে পারেননি অন্য ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান এসেছে মারলন স্যামুয়েলসের ব্যাটে। এছাড়া দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পেরেছেন কেবল ড্যারেন ব্রাভো (১০) ও কিমো পল (১২)।
শুরুতেই মিরাজের স্পিনে দিশেহারা হয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৯৯ রানে প্রতিপক্ষের হারানো ৫ উইকেটের ৪টিই তার শিকার। চন্দরপল হেমরাজ, ড্যারেন ব্রাভো, শিমরন হেটমায়ার ও রোভম্যান পাওয়েলের উইকেট নেন মিরাজ। ১০ ওভারে ১ মেডেনসহ ২৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার তিনি।